kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

রৌপ্যমুদ্রা

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে রৌপ্যমুদ্রার কথা উল্লেখ আছে]

রিদওয়ান আক্রাম   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রৌপ্যমুদ্রা

মুদ্রা বলতে সাধারণত এমন একটি ধাতবখণ্ডকে বোঝায়, যার একটি নির্দিষ্ট ধাতব বিশুদ্ধি (মেটালিক পিওরিটি) এবং নির্দিষ্ট তৌলরীতি (ওয়েট স্ট্যান্ডার্ড) আছে। নির্দিষ্ট তৌলরীতির ভিত্তিতে এবং নির্দিষ্ট ধাতব বিশুদ্ধির ওপর নির্মিত এই ধাতবখণ্ড যখন বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত ও ব্যবহৃত হয়, তখন তা মুদ্রা বলে গণ্য হয়ে থাকে। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিশ্বের শাসকরা নিজেদের সার্বভৌম রাজনৈতিক শক্তি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে মুদ্রাকেই গণ্য করতেন। ফলে এসবের ওপর নিজেদের নাম, প্রতীক ও নকশা উত্কীর্ণ করতেন তাঁরা। ফলে এসব মুদ্রা প্রাচীন ইতিহাস পুনর্গঠনে ইতিহাসের পুরাতাত্ত্বিক সূত্র হিসেবে কার্যকরী একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে।

দক্ষিণ এশিয়ায় রৌপ্যমুদ্রা ব্যবহারের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তক্ষশিলার ভির ঢিবি অঞ্চল ও কাবুলের নিকটবর্তী চমান-ই-হুজুরির মুদ্রাভাণ্ডার আবিষ্কৃত হওয়ায় তর্কাতীত প্রমাণ পাওয়া যায় যে, খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতকে উত্তর ভারতে ধাতব মুদ্রার প্রচলন হয়েছিল। এই মুদ্রাগুলো ছিল রৌপ্য নির্মিত।

মহাস্থানগড় (বাংলাদেশ), বানগড় (দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা, পশ্চিমবঙ্গ), মঙ্গলকোট (বর্ধমান জেলা, পশ্চিমবঙ্গ), চন্দ্রকেতুগড় (উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলা, পশ্চিমবঙ্গ); এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর জেলার প্রত্নক্ষেত্রগুলো থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে বহু রৌপ্য নির্মিত ‘অঙ্কচিহ্নিত’ মুদ্রা। এসব রৌপ্যমুদ্রার ওজন ১.৭ গ্রাম থেকে ৩.৪৮ গ্রাম; অবশ্য বেশির ভাগ মুদ্রার ওজন ৩.০ গ্রাম থেকে ৩.৪৫ গ্রামের মধ্যে। 

সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢাকার নিকটস্থ উয়ারি বটেশ্বর থেকেও প্রচুর পরিমাণে রূপার অঙ্কচিহ্নিত মুদ্রা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, এসব রৌপ্য মুদ্রা বাণিজ্যের সুবাদে গাঙ্গেয় উপত্যকা থেকে উত্তরবঙ্গে এসেছিল সম্ভবত মৌর্যদের বাংলায় ক্ষমতা বিস্তারের ফল হিসেবে।

গুপ্ত সম্রাটগণ (সমকাল ৩২০-৫৫০ সাল) যে রৌপ্য ও তাম্রমুদ্রা চালু করেছিলেন, সেগুলো প্রাচীন বাংলায় নিতান্তই অপ্রতুল। বাংলায় প্রাপ্ত গুপ্তকালীন লেখায় রূপার মুদ্রার পরিভাষা ‘রূপক’। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত, প্রথম কুমারগুপ্ত ও স্কন্দগুপ্তের রৌপ্যমুদ্রা বাংলা থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে, তবে সংখ্যায় তা মুষ্টিমেয়। গুপ্ত সম্রাটদের মধ্যে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তই সর্বপ্রথম রৌপ্যমুদ্রার প্রচলন ঘটান।

অষ্টম শতকের পর থেকে কার্যত প্রাচীন বাংলায় স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন লুপ্ত হয়ে গেলে হরিকেল ও পট্টিকের অঞ্চলে বহুল পরিমাণে রৌপ্যমুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাংলায় রৌপ্যমুদ্রার চল বাড়তে থাকে।



সাতদিনের সেরা