kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

সপ্তম শ্রেণি : বিজ্ঞান

মো. মিকাইল ইসলাম নিয়ন, সহকারী শিক্ষক, ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা সদর, চুয়াডাঙ্গা

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সপ্তম শ্রেণি : বিজ্ঞান

কলসি উদ্ভিদ

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

তৃতীয় অধ্যায়

উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য

১।   পাথরকুচি পাতার মাধ্যমে কিভাবে প্রজনন ঘটে?

     উত্তর : পাথরকুচি পাতা এক ধরনের রূপান্তরিত পাতা। পাতার মাধ্যমে এগুলো প্রজনন সমাধা করে।

     পাথরকুচি উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছমূল তৈরি হয়। কোনো একসময় গুচ্ছমূল মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। এভাবেই পাথরকুচি পাতার মাধ্যমে প্রজনন ঘটে।

২।   কলসি উদ্ভিদকে পতঙ্গফাঁদ বলা হয় কেন?

     উত্তর :  কলসি উদ্ভিদ এক ধরনের লতানো গাছ। এই উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের মতো রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বদ্ধ হয়ে যায়, পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়। এ কারণেই কলসি উদ্ভিদকে পতঙ্গফাঁদ বলা হয়।

৩।   রাস্নার মূলকে পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল বলা হয় কেন?

     উত্তর : রাস্না এক প্রকার পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ। এ ধরনের উদ্ভিদের মূল বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে। এ কারণে রাস্নার মূলকে পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল বলা হয়।

৪।   নিউমাটোফোর বা শ্বাসমূল বলতে কী বোঝো?

     উত্তর : সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল থেকে শাখা মূল মাটির ওপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সব মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে। যেমন—সুন্দরী, গরান ইত্যাদি।

৫।   পর্ণকাণ্ড উদ্ভিদ বলতে কী বোঝায়?

     উত্তর : ফণীমনসাজাতীয় উদ্ভিদকেই পর্ণকাণ্ডের উদ্ভিদ বলে। এ ধরনের উদ্ভিদের কাণ্ড পাতার মতো চ্যাপটা ও সবুজ হয়, যার ফলে এগুলো খাদ্য তৈরি করতে পারে এবং পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়ে উদ্ভিদের আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।

৬।   অস্থানিক মূলের রূপান্তর ঘটার কারণ লেখো।

     উত্তর : মূলের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কাজ ছাড়াও খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য, যান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য এবং শারীরবৃত্তীয় কাজ সমাধান করার জন্য অস্থানিক মূলের রূপান্তর ঘটে থাকে।

৭।   সুন্দরী উদ্ভিদের শ্বাসমূলের কাজ ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : সুন্দরী উদ্ভিদে প্রধান মূল থেকে শাখামূল বের হয়ে মাটির ওপরে খাড়াভাবে থাকে। এসব মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এ ছিদ্র দিয়েই উদ্ভিদটির প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহ ঘটে। এ জন্যই লবণাক্ত মাটির ওই পরিবেশে সুন্দরী উদ্ভিদের শ্বাসকার্যের কোনো অসুবিধা হয় না।

৮।   জংলি মটরগাছে আকর্ষী থাকে কেন?

     উত্তর : জংলি মটরগাছের পাতার শীর্ষভাগ অথবা পত্রক অনেক সময় প্যাঁচানো স্প্রিংয়ের মতো রূপ ধারণ করে। একে আকর্ষী বলে। কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরার জন্যই এই আকর্ষী তৈরি হয়।

৯।   স্বর্ণলতাকে শোষকমূল বলা হয় কেন?

     উত্তর : স্বর্ণলতাকে শোষকমূল বলা হয়। কারণ স্বর্ণলতা উদ্ভিদে ক্লোরোফিল থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের দেহে বিশেষ ধরনের মূল প্রবেশ করিয়ে খাদ্যরস শোষণ করে থাকে।

১০। গাজর কাণ্ড না মূল ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : গাজর হলো গাজরাকৃতির মূল, কাণ্ড নয়। কারণ এগুলো খাদ্য সঞ্চয় করে। তাই প্রধান মূলটি মোটা ও রসালো হয়। এই মূলের ওপরের দিক মোটা এবং নিচের দিকে ক্রমেই সরু হয়ে যায়।

১১। রূপান্তরিত কাণ্ড বলতে কী বোঝো?

     উত্তর : কাণ্ড সাধারণত মাটির ওপরে অবস্থান করে এবং পাতা, ফুল ও ফল ধারণ করে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সাধারণ কাজ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য কাণ্ডের আকৃতিগত ও অবস্থাগত পরিবর্তন ঘটে। এ ধরনের পরিবর্তনকে রূপান্তরিত কাণ্ড বলে।

১২। শল্কপত্রের কাজ লেখো।

     উত্তর : ভূনিম্নস্থ কাণ্ডের পাতা যখন পাতলা আঁশের মতো আকার ধারণ করে তখন একে শল্কপত্র বলে।

     শল্কপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কাক্ষিক মুকুলকে রক্ষা করে। যেমন—পেঁয়াজের শল্কপত্র।

১৩।  রাইজোমকে ভূনিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড বলা হয় কেন?

     উত্তর : আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোমজাতীয়। এজাতীয় উদ্ভিদকে ভূনিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড বলা হয়। কারণ এগুলো মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় করে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। এগুলোর সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে। পর্ব থেকে শল্কপত্র ও অস্থানিক মূল ও শল্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল উৎপন্ন হয়।



সাতদিনের সেরা