kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

ইলেকট্রিক বাল্ব

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ইলেকট্রিক বাল্বের কথা উল্লেখ আছে।

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলেকট্রিক বাল্ব

নিজের তৈরি ইলেকট্রিক বাল্বের পাশে টমাস আলভা এডিসন

মার্কিন বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনকে ইলেকট্রিক বাল্ব বা বৈদ্যুতিক বাতি উদ্ভাবনের কৃতিত্ব দেওয়া হলেও উনিশ শতকের প্রথম দিকে অনেক উদ্ভাবকই এই বাতি তৈরি করার জন্য নিজেদের মতো করে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ১৮০০ সালে ইতালীয় উদ্ভাবক আলেসান্দ্রো ভোল্টা সর্বপ্রথম বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ব্যাবহারিক প্রণালী-ভোল্টেইক পাইল উদ্ভাবন করেন। ভোল্টার আলোক বিচ্ছুরণকারী তামার তারটি বিদ্যুৎ বাল্বের প্রথম নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হয়।

লন্ডনের রয়াল সোসাইটিতে ভোল্টার উপস্থাপনের পরপরই ১৮০২ সালে ইংরেজ রসায়নবিদ হাম্ফরি ডেভি বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রিক ল্যাম্প আবিষ্কার করেন। ১৮০২ সালে ডেভির আবিষ্কৃত ইলেকট্রিক আর্ক ল্যাম্প নামে পরিচিত ছিল। ১৮৩৫ সালে জেমস বোম্যান লিন্ডসে স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে একটি জনসভায় নিজের তৈরি বৈদ্যুতিক বাতি প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন—এই আলো দিয়ে দেড় ফুট দূরত্বে বই পড়া যাবে, যদিও তিনি এই বৈদ্যুতিক বাতি নিয়ে আর কাজ করেননি। ১৮৫০ সালে ইংরেজ রসায়নবিদ জোসেফ সোয়ান আগের উদ্ভাবিত বৈদ্যুতিক বাতিগুলোর খরচ কমাতে সক্ষম হন। ১৮৬০ সালে তিনি এমন একটি বৈদ্যুতিক বাতি উদ্ভাবন করেন, যাতে কার্বনযুক্ত কাগজের ফিলামেন্ট ব্যবহার করা হয়। ১৮৭৮ সালে জোসেফ সোয়ান ইংল্যান্ডে তাঁর উদ্ভাবিত বৈদ্যুতিক বাতির পেটেন্ট করান। ১৮৭৯ সালে সোয়ান এক ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেলে এক প্রদর্শনীতে তাঁর উদ্ভাবিত বৈদ্যুতিক বাতির প্রদর্শনী করেন। আগের উদ্ভাবকদের মতো সোয়ানও তাঁর ফিলামেন্টগুলোকে একটি ফাঁপা টিউবের মধ্যে স্থাপন করেন, যাতে অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতে না পারে। কিন্তু সে সময়কার ফাঁপা টিউবগুলো আজকের দিনের মতো কার্যকরী ছিল না।

মার্কিন বিজ্ঞানী টমাস এডিসন বুঝতে পারলেন যে সোয়ানের ডিজাইনের সমস্যাটি হলো সেটির ফিলামেন্টের মধ্যে। এডিসন ধারণা করলেন উচ্চ বিদ্যুৎ প্রতিরোধী ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাতলা ফিলামেন্ট তৈরি করতে পারলেই সবচেয়ে বেশি কাজ হবে। এমন একটি পাতলা ফিলামেন্ট অল্প পরিমাণ বিদ্যুতেই অনেক বেশি আলো দেবে।

১৮৭৯ সালের ডিসেম্বরে এডিসন তাঁর বৈদ্যুতিক বাতির প্রদর্শনী করেন। এরপর ইংল্যান্ডেই তিনি একটি ইলেকট্রিক লাইটিং প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

ওদিকে এডিসনের বিরুদ্ধে পেটেন্ট জালিয়াতির মামলা ঠুকে দেন জোসেফ সোয়ান। যেহেতু সোয়ানই আগে পেটেন্ট করেছিলেন, সেহেতু তাঁর দাবিই বেশি জোরালো ছিল। ফলে সোয়ানকে নিজের কম্পানির অর্ধেক মালিকানা দিতে বাধ্য হন এডিসন। পরে তাঁরা কম্পানির নাম বদলে রাখেন এডিসন-সোয়ান ইউনাইটেড। এটি পরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বাল্ব উৎপাদনকারী কম্পানিগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

১৮৮০ সালে এডিসন নিউ ইয়র্কে এডিসন ইলেকট্রিক ইলুমিনেটিং কম্পানি নামে আরেকটি নতুন কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। কম্পানিটি ১৯০৩ সালের মধ্যে সত্যিকার অর্থেই চারদিক আলোকিত করতে সক্ষম বৈদ্যুতিক বাতি বানাতে সক্ষম হয়।

রিদওয়ান আক্রাম



সাতদিনের সেরা