kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অ নু ধা ব ন মূ ল ক প্র শ্ন

নবম-দশম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নবম-দশম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

মহাত্মা গান্ধী

উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন

১।   আমাদের দেশে জনশক্তি গঠিত হতে পারছে না কেন? 

উত্তর : আমাদের দেশে জনশক্তি গঠন হতে পারছে না; কারণ আমরা ‘দশ আনা’ জনশক্তিকে উপেক্ষা করে আসছি। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়কে উপেক্ষিত সম্প্রদায় বলা হয়েছে। লেখকের মতে, সাম্যবাদী ও গণতান্ত্রিক চেতনার আলোকে এই উপেক্ষিত শ্রেণিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে হবে। তাদের জাগিয়ে তুলতে হবে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। অভিজাত শ্রেণি সমাজের অধঃপতিত, দুর্বল শ্রেণিকে যুগের পর যুগ অবজ্ঞা-অবহেলা করে আসছে। তাদের যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার কারণেই আমাদের দেশে জনশক্তি গঠিত হতে পারছে না।

 

২।   আমাদের এত অধঃপতনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়ের লোকদের প্রতি অবহেলার কারণেই আজ আমাদের এত অধঃপতন।লেখকের মতে, আমরা নিজেদের ভদ্র সম্প্রদায় দাবি করি। আত্মগৌরবের আভিজাত্যে নীচু শ্রেণির মানুষদের আমরা উপেক্ষা করি। অথচ তাদের হৃদয় কাচের মতো স্বচ্ছ। আমাদের উন্নতির দশ আনা শক্তিই নির্ভর করছে এসব উপেক্ষিত মানুষের ওপর। কিন্তু তাদের উপেক্ষা করে চলেছি আমরা ভদ্র সম্প্রদায়। আর এ কারণেই আজ আমাদের এত অধঃপতন বলে লেখক মনে করেন।

 

৩।   ‘দেশের অধিবাসী লইয়াই তো দেশ এবং ব্যক্তির সমষ্টিই তো জাতি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : আলোচ্য বাক্যে বোঝানো হয়েছে, সব মানুষের সমষ্টিতেই গণতন্ত্র গঠিত হয়। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখকের সাম্যবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। একটি দেশে ধনী-গরিব উঁচু-নিচু ভেদাভেদ থাকা ঠিক না। কেননা ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই একটি দেশ গঠিত হয়। গণতন্ত্র সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়, বিভেদের দেয়াল ভেঙে সবাইকে একত্র করে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের এই মূল কথাই প্রশ্নোক্ত বাক্যে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন।

 

৪।   ‘বোধন বাঁশিতে সুর দেওয়া’   বলতে কী বোঝানো হয়েছে?  

উত্তর : ‘বোধন বাঁশিতে সুর দেওয়া’ বলতে মানুষের মাঝে সাম্যবাদী চেতনার বোধ জাগিয়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

সমাজে ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সবাই মানুষ। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করা ঠিক নয়, কিন্তু আমাদের সমাজের তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের মাঝে এই ঔচিত্যবোধ নেই। তারা কথিত ছোটলোক সম্প্রদায়কে সব সময় উপেক্ষা করে। অথচ এই ছোটলোক সম্প্রদায়ের ওপরই নির্ভর করে দেশের উন্নয়নের দশ আনা শক্তি। কাজী নজরুল মানুষে মানুষে এমন দূরত্ব চান না। তিনি চান ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি। ‘বোধন বাঁশিতে সুর দেওয়া’ বলতে লেখকের এই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নকেই বোঝানো হয়েছে।

 

৫।   উপেক্ষিত শক্তি সরল মুক্ত মন নিয়েও কোনো কাজ করতে পারছে না কেন?   

উত্তর : ভদ্র সম্প্রদায়ের অত্যাচারের কারণে উপেক্ষিত শক্তি সরল মুক্ত মন নিয়েও কোনো কাজ করতে পারছে না। উপেক্ষিত শক্তির মানুষদের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ। তবু সমাজের ভদ্র সম্প্রদায় তাদের ছোটলোক বলে অত্যাচার করে। ফলে সংকোচ ও জড়তার কারণে তারা কোনো কাজ করতে পারে না।

 

৬।   উপেক্ষিতরা নিজেদের ছোট মনে করে কেন?   

উত্তর : ভদ্র সম্প্রদায়ের অবহেলার কারণে উপেক্ষিতরা নিজেদের ছোট মনে করে। ভদ্র সম্প্রদায়ের লোকেরা সর্বদা ছোটলোকদের ওপর অত্যাচার করে। ছোটলোকেরা জন্ম থেকেই ঘৃণা, উপেক্ষা পেয়ে থাকে। ফলে সংকোচ জড়তা তাদের স্বভাবে গেঁথে যায়। এ কারণে উপেক্ষিতরা নিজেদের ছোট মনে করে।

 

৭।   দেশে যুগান্তর আসবে কিভাবে?

উত্তর : উপেক্ষিত শক্তির যথাযথ মূল্যায়ন করলেই দেশে যুগান্তর আসবে।

উপেক্ষিত শক্তি উন্নতির দশ আনা কাজের ধারক। তারা একত্র হয়ে অসাধ্যকে সাধন করতে পারে। ভদ্র সম্প্রদায় শত বছর ধরে যা পারে না, উপেক্ষিত শক্তি এক দিনে তা করতে পারে। এই উপেক্ষিত শক্তির যদি মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে তারাই অসাধ্যকে সাধন করবে। ফলে দেশে যুগান্তর আসবে।

 

৮।   ভদ্র সম্প্রদায় একক চেষ্টায় দেশকে উন্নত করতে পারে না কেন?

উত্তর : ভদ্র সম্প্রদায়ের কর্মক্ষেত্রে নেমে কাজ করার সামর্থ্য নেই বলে তারা একক চেষ্টায় দেশকে উন্নত করতে পারে না। ভদ্র সম্প্রদায় দেশের দুর্দশা ও জাতির দুর্গতি বোঝে। তারা সবাইকে বোঝাতে পারে এই দুর্ভাগ্যের কথা। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নেমে তারা কাজ করতে পারে না। কাজ করার শক্তি তাদের নেই। দেশকে উন্নত করতে কাজ করার দশ আনা শক্তিই রয়েছে উপেক্ষিতদের। তাই ভদ্র সম্প্রদায় একক চেষ্টায় দেশকে উন্নত করতে পারে না।

 

৯।   মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে উপেক্ষিতরা বাহু মেলে এগিয়ে যায় কেন?

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী উপেক্ষিতদের অন্তর দিয়ে ভালোবেসেছিলেন বলে তাঁর আহ্বানে সবাই বাহু মেলে এগিয়ে যায়। মহাত্মা গান্ধী প্রাণ খুলে উপেক্ষিতদের সঙ্গে মিশতেন। তাদের সুখ-দুঃখের ভাগী হতেন সর্বদা। উপেক্ষিতদের তিনি কখনো ছোটলোক বলে অবহেলা করেননি। তাদের নিতান্ত আপন করে তুলেছিলেন ভালোবাসা দিয়ে। তাই তাঁর আহ্বানে উপেক্ষিতরা বাহু মেলে এগিয়ে যায়।



সাতদিনের সেরা