kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

অ নু ধা ব ন মূ ল ক প্র শ্ন

নবম-দশম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

আতাউর রহমান সায়েম , সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা

১১ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নবম-দশম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

কবিতা

সেইদিন এই মাঠ

জীবনানন্দ দাশ

১।   ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু ঘটলেও সব শেষ হয়ে যায় না কেন?

উত্তর : মানুষের মৃত্যু ঘটলেও পৃথিবীর বহমানতা বজায় থাকে বলে ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুতে সব শেষ হয়ে যায় না।

মানুষ মরণশীল বলে একসময় তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। কিন্তু প্রকৃতিতে থাকে চিরকালীন ব্যস্ততা। নদীর স্রোতধারা বহমান থাকে, মাঠে থাকে চঞ্চলতা, চালতাফুলে জমে শীতের শিশির। ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুর রেশ কোথাও লেগে থাকে না। সব কিছু আপন গতিতেই চলে। মানুষের মৃত্যু আছে, কিন্তু জগতের সৌন্দর্যের মৃত্যু নেই, মানুষের স্বপ্নেরও মরণ নেই। এ কারণেই ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুতে সব শেষ হয়ে যায় না।

 

২।   ‘এই নদী নক্ষত্রের তলে সেদিনো দেখিবে স্বপ্ন’—কেন? 

উত্তর : প্রকৃতির রূপ-ঐশ্বর্য চিরবহমান বোঝানোর জন্য উক্ত কথা বলা হয়েছে।

প্রকৃতির রহস্যময় সৌন্দর্য জীবনানন্দ দাশের কবিতার প্রাণ। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবির চোখে নদী যেন নক্ষত্রখচিত আকাশের নিচে বসে বসে স্বপ্ন দেখে। আর এই স্বপ্ন দেখার কোনো শেষ নেই। কেননা প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময় হয়ে থাকবে।

 

৩।   কবি চলে গেলেও চালতাফুল শিশিরের জলে ভিজবে কেন?    

 উত্তর : পৃথিবীতে মানুষের অবস্থানকাল ক্ষণস্থায়ী হলেও প্রকৃতি চিরবহমান বলেই কবি না থাকলেও চালতাফুল শিশিরের জলে ভিজবে।

 ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গের মাধ্যমে কবি জীবনানন্দ দাশের সৌন্দর্য চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মরণশীল বলে কবিকে একদিন এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে। ফলে শিশিরে ভেজা চালতাফুলে সৃষ্টি হওয়া সৌন্দর্য অবলোকন করার সুযোগ তাঁর আর ঘটবে না। কিন্তু চালতাফুল একইভাবে ফুটবে। আগের মতোই ভোরের শিশিরে গা ভেজাবে। আর তা জীবিত কোনো মানুষের সৌন্দর্যবোধকে ঠিকই পরিতৃপ্ত করবে।



সাতদিনের সেরা