kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিলালিপি

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে শিলালিপির উল্লেখ আছে]

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিলালিপি

বিভিন্ন স্থাপনার গায়ে সাঁটা পাথরে যে লিপি লেখা হয় সেটাই শিলালিপি। সুলতানি বাংলায় (১২০৪-১৫৩৮ সাল) প্রধানত ধর্মীয় স্থাপনা, যেমন—মসজিদ, মাদরাসা, সমাধি ইত্যাদির গায়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিলালিপি উত্কীর্ণ হয়েছিল। মোগল আমলে (১৫২৬-১৮৫৭ সাল) ধর্মীয় স্থাপনায় সংযুক্ত শিলালিপি ছাড়াও লৌকিক ইমারতে কিছু সংখ্যক শিলালিপি পাওয়া যায়। সুলতানি বাংলার শিলালিপি ছিল সাধারণত আরবিতে। ফারসি লিপির সংখ্যা ছিল খুবই কম। শিলালিপিতে সাধারণত কোরআনের আয়াত, হাদিস, সুলতানের পরিচয়, উত্কীর্ণকারী কর্মকর্তার পরিচয় এবং তারিখ খোদাই করা থাকত। শিলালিপিগুলোর বেশির ভাগই মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহ, প্রাসাদ, সেতু, ঈদগাহ, ফটক ইত্যাদি নির্মাণ বা পুকুর, কূপ খননের সময় উত্কীর্ণ করা হতো।

মধ্যযুগের বাংলার শিলালিপি মুসলিম ক্যালিগ্রাফি বা হস্তলিখন শিল্পানুসারে লেখা হতো। ইসলাম ধর্মে প্রাণীর ছবি আঁকায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় লিপি, ফুল, পত্র, বৃক্ষাদি ও নকশা অলংকরণের দিকে শিল্পীরা মনোযোগী হয়েছিলেন। আরবি ক্যালিগ্রাফির ক্রমবিকাশের ধারাক্রম মধ্যযুগের বাংলার শিলালিপিতেও দৃশ্যমান। এখানে আরবের মতোই ধারাবাহিকভাবে বিকাশ লাভ করেছে কুফিক, নাসখ, তালিক ও নাস্তালিক ধারার লিখন পদ্ধতি।

বাংলার মুসলিম শাসকদের মধ্যে সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজির (১২১৩-১২২৭ সাল) নামাঙ্কিত শিলালিপি ছিল সবচেয়ে প্রাচীন। ১২২১ সালে উত্কীর্ণ এই শিলালিপি মখদুম শাহের দরগাহে সাঁটা ছিল। দরগাহটি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে অবস্থিত। বাংলা অঞ্চল ছাড়াও প্রথম পর্বের শাসনকর্তাদের কোনো কোনো শিলালিপি বিহারেও পাওয়া গেছে। স্বাধীন সুলতানি যুগে প্রথম ইলিয়াস শাহি সুলতানদের শিলালিপি পাওয়া যায়।

মোগল শাসনামলে সুবা-ই-বাংলায় পাঠানো সুবাদার ও স্থানীয় শাসকরা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন। এখানে উত্কীর্ণ শিলালিপিগুলোতে সাধারণত সমসাময়িক মোগল সম্রাটদের নাম লেখা হতো।

রিদওয়ান আক্রাম



সাতদিনের সেরা