kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সপ্তম শ্রেণি : বিজ্ঞান

মো. মিকাইল ইসলাম নিয়ন, সহকারী শিক্ষক, ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা সদর চুয়াডাঙ্গা

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অ নু ধা ব ন মূ ল ক  প্র শ্ন

প্রথম অধ্যায়

নিম্ন শ্রেণির জীব

 

১।   ছত্রাককে মৃতজীবী বলা হয় কেন?

     উত্তর : ছত্রাক সমাঙ্গদেহী ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ উদ্ভিদ। ক্লোরোফিলের অভাবে এরা

     সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। খাদ্যের জন্য এদের জীবিত বা মৃত জীবদেহের ওপর নির্ভর করতে হয়। জৈব পদার্থপূর্ণ মৃত জীবদেহ ও বাসি-পচা খাদ্যদ্রব্য, ফলমূল, শাকসবজি, ভেজা রুটি, ভেজা চামড়া, গোবর ইত্যাদিতে জন্মায় এবং সেখান থেকে এরা খাদ্য গ্রহণ করে। এ কারণেই ছত্রাককে মৃতজীবী বলা হয়।

২।   ভাইরাসকে অকোষীয় জীব বলা হয় কেন?

     উত্তর : ভাইরাসের দেহ শুধু প্রোটিন আবরণ ও নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ ও আরএনএ) নিয়ে গঠিত। ভাইরাসের দেহ কোষ দিয়ে গঠিত না হওয়ায় এদের দেহে কোষপ্রাচীর, প্লাজমালেমা, সুগঠিত নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ইত্যাদি কিছুই নেই, তাই ভাইরাসকে অকোষীয় জীব বলা হয়।

৩।   দাদ বা ছুলি রোগীকে সুস্থ মানুষ থেকে আলাদা রাখা হয় কেন?

     উত্তর : দাদ বা ছুিল ছত্রাকের সংক্রমণজনিত রোগ। ছত্রাকের সংক্রমণে হয় বলে এই রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। এই রোগীর সংস্পর্শে এলে কিংবা রোগীর ব্যবহৃত কাপড়চোপড়, চিরুনি, জুতা ব্যবহার করলেও এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে। তাই দাদ বা ছুলি রোগীকে সুস্থ মানুষ থেকে আলাদা রাখা হয়।

৪।   ভাইরাসকে প্রকৃত পরজীবী বলা হয় কেন?

     উত্তর : ভাইরাস জৈব রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে গঠিত এবং উপযুক্ত পোষক দেহের অভ্যন্তরে পোষক দেহের জৈব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম। অর্থাৎ জীবিত জীবদেহ ছাড়া বা জীবদেহের বাইরে এরা জীবনের কোনো লক্ষণ দেখায় না। এ কারণে ভাইরাসকে প্রকৃত পরজীবী বলা হয়।

৫।   ভাইরাসজনিত চারটি রোগের নাম লেখো?

     উত্তর : ভাইরাসজনিত চারটি রোগের নাম হলো—

     ক) পোলিও

     খ) জলাতঙ্ক

     গ) বসন্ত

     ঘ) ইনফ্লুয়েঞ্জা।

৬।   অ্যাগারিকাসকে পরজীবী উদ্ভিদ বলা হয় কেন?

     উত্তর : পরজীবী বলতে বোঝায় যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না, খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাগারিকাস অসবুজ, বর্ণহীন ও ক্লোরোফিলবিহীন বলে এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না। তাই এদের পরজীবী উদ্ভিদ বলে।

৭।   শৈবালকে স্বভোজী উদ্ভিদ বলা হয় কেন?

     উত্তর : যেসব উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে তাদের স্বভোজী উদ্ভিদ বলা হয়। শৈবাল উদ্ভিদ ক্লোরোফিলযুক্ত হওয়ায় এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে। তাই শৈবালকে স্বভোজী উদ্ভিদ বলা হয়।

৮।   ছত্রাকের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

     উত্তর : ছত্রাকের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো—

     ক) ছত্রাক সমাঙ্গদেহী ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ উদ্ভিদ।

     খ) এরা পরভোজী অথবা মৃতভোজী।

৯।   ব্যাকটেরিয়াকে প্রোক্যারিওটা বা আদিকোষী বলা হয় কেন?

     উত্তর : ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের অণুজীব। এদের কোষের নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকা সুগঠিত নয়। নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকা সুগঠিত না থাকায় ব্যাকটেরিয়াকে প্রোক্যারিওটা বা আদিকোষী বলা হয়।

১০। ব্যাকটেরিয়াজনিত চারটি রোগের নাম লেখো।

     উত্তর : ব্যাকটেরিয়াজনিত চারটি রোগ নিম্নরূপ—

     ক) নিউমোনিয়া

     খ) রক্ত আমাশয়

     গ) ধনুষ্টংকার

     খ) কলেরা।

 

১১। অণুজীব কারা ব্যাখ্যা করো?

     উত্তর : যেসব জীব খালি চোখে দেখা যায় না, দেখার জন্য অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় তারাই অণুজীব। যেমন—ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, প্রোটোজোয়া। এরা বিভিন্ন ধরনের অণুজীব।

১২। ভাইরাস কোন অবস্থায় জীবের লক্ষণ হারিয়ে ফেলে?

     উত্তর : ভাইরাসের দেহ প্রধানত আমিষ ও নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। যখন এদের আমিষ আবরণ থেকে নিউক্লিক এসিড বের হয়ে যায়, তখন এরা জীবের লক্ষণ হারিয়ে ফেলে।



সাতদিনের সেরা