kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ডেঙ্গু

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে ডেঙ্গুর উল্লেখ আছে]

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ডেঙ্গু

ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি রোগ। এই মশার কামড়ে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গুর উপসর্গগুলো দেখা দেয়। উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি, পেশি ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি। দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে, যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর (ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার) বলা হয়। এর ফলে রক্তপাত হয়। রক্তে অণুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। কিছু ক্ষেত্রে কখনো বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

১০০ থেকে ৮০০ বছর আগে প্রথমবার এই ভাইরাস বানর থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীকালে বিংশ শতাব্দীতে আফ্রিকায় এই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান দেশে বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয়। প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ চীন ও তাইওয়ানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি।

এডিস মশা শুধু দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে দিনের বেলায়ই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি, বাড়ির আশপাশে বিভিন্ন কনটেইনার, ফুলের টব, ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল, ডাবের খোসা, ড্রামে চার থেকে পাঁচ দিন জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই পানির এসব উৎস ধ্বংস করতে পারলে এ রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা কমে। ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা প্রতিষেধক না থাকায় এটি বহু মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে।

ডেঙ্গু হলে রোগীকে প্রচুর সাধারণ পানি, ডাবের পানি, ফলের রস ও তরল খাবার খেতে হয়। মাথায় পানি ঢালা, গায়ের ঘাম মুছে দেওয়া, ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দেওয়া রোগীর জন্য ফলদায়ক। রোগীর অবস্থা জটিল হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা