kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অটোজম

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে অটোজমের উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অটোজম

অটোজম হলো এক প্রকারের ক্রমোজম। এর দুটি প্রতিকৃতি (একটি বাবা থেকে এবং অপরটি মা থেকে প্রাপ্ত) একই রকম আকৃতির হয়। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় এই প্রতিকৃতি দুটি সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য বরাবর পাশাপাশি একে অন্যকে আলিঙ্গন করে নানা অংশ আদান-প্রদান করে (মিয়োটিক রিকম্বিনেশন)। এরা উক্ত জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। সব অটোজমের ডিএনএকে একসঙ্গে atDNA/ auDNA বলা হয়।

বিজ্ঞানী স্ট্রাসবার্গার ১৮৭৫ সালে সর্বপ্রথম ক্রমোজম আবিষ্কার করেন। ১৮৮৮ সালে বিজ্ঞানী ওয়ালডেয়ার কোষ বিভাজনের প্রোফেজ দশায় প্রাপ্ত দণ্ডাকার গঠনের ক্রোমাটিনের নাম দেন ক্রমোজম। পরবর্তীকালে কাজের ওপর ভিত্তি করে এই ক্রমোজমকে অটোজম ও অ্যালোজম নামে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অটোজমের বিপরীত হলো অ্যালোজম। অ্যালোজমের বাবা-মা থেকে প্রাপ্ত দুটি প্রতিকৃতি অনুরূপ নয়। এরা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রমোজম। মানবদেহে মোট ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রমোজমের মধ্যে অটোজম ২২ জোড়া (৪৪টি) এবং অ্যালোজম ১ জোড়া (২টি)।

 অটোজম দৈর্ঘ্যে ০.২-৫০ মাইক্রন বা মাইক্রোমিটার এবং প্রস্থ ০.২-২ মাইক্রন বা মাইক্রোমিটার। মানুষের অটোজমের দৈর্ঘ্য ৬ মাইক্রন বা মাইক্রোমিটার।

অটোজমের কাজ হলো মাতা-পিতা থেকে জিন সন্তান-সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য অটোজমের মাধ্যমে বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ন রাখে। এ কারণে ক্রমোজমকে তথা অটোজমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলে আখ্যায়িত করা হয়।



সাতদিনের সেরা