kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

এইচএসসি প্রস্তুতি : হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



জ্ঞা ন মূ ল ক  প্র শ্ন

দ্বিতীয় অধ্যায়

হিসাবের বইসমূহ

তৃতীয় ভাগ

জাবেদা

১।   জাবেদা কাকে বলে?

     উত্তর : লেনদেন সংঘটিত হওয়া মাত্র তারিখ অনুসারে ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে যে প্রাথমিক বইতে লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে জাবেদা বলে।

২।   লেনদেনের প্রাথমিক ও স্থায়ী দলিলপত্র কী?

     উত্তর : ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত লেনদেনগুলো তারিখের ক্রমানুসারে জাবেদায় প্রাথমিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে এটি দুই পক্ষের মধ্যে স্থায়ী দলিল হিসেবে সংরক্ষিত হয়।

৩।   লেনদেনের বিস্তৃত, পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্র কী?

     উত্তর : বর্তমান যুগের বৃহদায়তন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনকার অসংখ্য লেনদেন সরাসরি খতিয়ানে লিখতে গেলে ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে। এর ফলে হিসাব লিখনে ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা হ্রাস পায় এবং খতিয়ান বইটি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকে। উপযুক্ত ব্যাখ্যাসহ জাবেদায় তথ্য উপস্থাপিত হয় বলে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যেকোনো সময় যেকোনো তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

৪।   লেনদেনের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ কী?

     উত্তর : জাবেদায় লেনদেনগুলোকে তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়। লেনদেনগুলো যেদিন সংঘটিত হয় সেদিনই পর পর সাজিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে প্রতিদিনের লেনদেনের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ জানা যায়।

৫।   ভবিষ্যৎ রেফারেন্স কী?

     উত্তর : মানুষের স্মৃতিশক্তি দ্বারা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অগণিত লেনদেন, এদের ধরন এবং কারণ মনে রাখা সম্ভব নয়। জাবেদায় এগুলো সুশৃঙ্খলভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। ভবিষ্যতে লেনদেন সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য জাবেদা বই হতে পাওয়া যায়। এর ফলে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে জাবেদা ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।

৬।   পরিচ্ছন্ন খতিয়ান কী?

     উত্তর : লেনদেনসমূহকে দ্বৈতসত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ জাবেদাভুক্ত করার পর একই লেনদেনের দ্বৈত ফলাফল দুটি পৃথক খতিয়ানে সংক্ষিপ্তাকারে স্থানান্তরিত করা হয়। ফলে খতিয়ান হয় নির্ভুল, পরিচ্ছন্ন ও সংক্ষিপ্ত।

৭।   সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্যের আদি উৎস  কী?

     উত্তর : জাবেদায় কারবারের লেনদেন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ হওয়ায় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রণকাজে সহায়ক সর্বোত্তম তথ্য জাবেদা থেকে পাওয়া যায়।

৮।   ফলাফল কী?

     উত্তর : খতিয়ান প্রস্তুত করার অন্যতম সহায়ক হলো জাবেদা। তাই জাবেদার সাহায্যে খতিয়ান প্রস্তুত করে প্রত্যেক হিসাবের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ণয় করা যায়।

৯।   খতিয়ানে স্থানান্তর কী?

     উত্তর : জাবেদায় লেনদেনগুলোকে ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে লেখার ফলে হিসাবের পাকা বই বা খতিয়ানে স্থানান্তর সহজ হবে।

১০। ধারাবাহিকতা রক্ষা কী?

     উত্তর : জাবেদাকে কালানুক্রমিক হিসাবের বই বলা হয়। কারণ তারিখ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে জাবেদায় লেনদেনসমূহকে লিপিবদ্ধ করা হয় বলে প্রয়োজনে লেনদেনের তারিখ সম্পর্কে জানা যায়।

১১। দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির প্রয়োগ কী?

     উত্তর : প্রত্যেকটি লেনদেনকে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুসারে একটি পক্ষকে ডেবিট এবং অন্য পক্ষকে সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা ক্রেডিট করে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মোট ডেবিট টাকা মোট ক্রেডিট টাকার সমান হয় ও পাশাপাশি ব্যবসায়ে সংঘটিত মোট লেনদেনের পরিমাণ জানা যায়।

১২। খতিয়ান পৃষ্ঠার ঘর কী?

     উত্তর : খতিয়ানটি যে পৃষ্ঠায় আছে ঘরে সে পৃষ্ঠা নম্বর লেখা হয়। খতিয়ান তৈরির পর এই ঘরে নম্বর বসানো হয়। আধুনিক হিসাব ব্যবস্থায় এই ঘরে হিসাব কোড লেখা হয়।

১৩। ডেবিট টাকার ঘর কী?

     উত্তর : এ ঘরে লেনদেনের ডেবিট হিসাব খাতের টাকার পরিমাণ লেখা হয়।

১৪। ক্রেডিট টাকার ঘর কী?

     উত্তর : এ ঘরে লেনদেনের ক্রেডিট হিসাব খাতের টাকার পরিমাণ লেখা হয়।

১৫। প্রাথমিক হিসাবের বই কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলো সংঘটিত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে জাবেদায় লেখা হয়। এ কারণে জাবেদাকে প্রাথমিক হিসাবের বই বলা হয়। লেনদেনগুলোকে সর্বপ্রথম এ বইতে লেখা হয় বলে একে প্রথম হিসাবের বই বলে।

 

১৬। মৌলিক হিসাবের বই কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলোকে মৌলিক আকারে অর্থাৎ লেনদেন যে অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে ঠিক সেই অবস্থায় জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয়। এ কারণে জাবেদাকে মৌলিক হিসাবের বই বলা হয়।

১৭। দৈনিক হিসাবের বই কী?

     উত্তর : দৈনিক যে সকল লেনদেন সৃষ্টি হয় তাদেরকে দিনের ভিত্তিতে সর্বপ্রথম এই বইতে লেখা হয় বলে একে দৈনিক হিসাবের বই বলা হয়।

১৮।  হিসাবের প্রথম বই কী?

     উত্তর : কোনো লেনদেন ঘটার সাথে সাথে ডেবিট ও ক্রেডিটে বিশ্লেষণ করে সর্বপ্রথম এ বইতে লেখা হয়, তাই একে হিসাবের প্রথম বই বলে।

১৯। হিসাবের সহকারী বই কী?

     উত্তর : হিসাবের প্রধান এবং পাকা বই হলো খতিয়ান, জাবেদা খতিয়ানের সহকারী বই রূপে কাজ করে থাকে। নির্ভুলভাবে হিসাব লিখতে হলে লেনদেনগুলোকে ডেবিট ও ক্রেডিটে বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে জাবেদায় লিখতে হয়। এরপর জাবেদা হতে লেনদেনগুলোকে চূড়ান্তভাবে খতিয়ানে স্থানান্তর করা হয়। জাবেদা খতিয়ান প্রস্তুতের সহকারী বই রূপে কাজ করে বলে একে হিসাবের সহকারী বই বলা হয়।

২০। পর্যায়ক্রমিক হিসাব বই কী?

     উত্তর : লেনদেনসমূহ তারিখের ক্রমানুসারে পর পর সাজিয়ে রাখা হয় বলে জাবেদাকে পর্যায়ক্রমিক হিসাব বইও বলা হয়।

২১। মাঠ পর্যায়ের বই কী?

     উত্তর : যে স্থানে লেনদেন সংঘটিত হয় সেখানে জাবেদা লেখা হয় বলে একে মাঠ পর্যায়ের বই বলা হয়।

২২। জাবেদা কী?

     উত্তর : হিসাবের যে বইতে লেনদেনগুলো তারিখের ক্রমানুসারে ডেবিট ও ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে জাবেদা বলে।

২৩। খতিয়ানে স্থানান্তরের সুবিধা  কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলো জাবেদাভুক্ত করার কারণে পরবর্তী সময়ে ধীরেসুস্থে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে স্থানান্তরের সুবিধা হয়।

২৪। পরিচ্ছন্ন হিসাব তৈরি কী?

     উত্তর : জাবেদা হতে খতিয়ান প্রস্তুত করার কারণে খতিয়ান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। যার ফলে সুষ্ঠুভাবে হিসাব রাখা সহজতর হয়।

২৫। খতিয়ানের পৃষ্ঠা নির্ণয়ে সুবিধা  কী?

     উত্তর : প্রতিটি জাবেদার পাশে খতিয়ান পৃষ্ঠা নম্বর লেখা থাকে বলে জাবেদা দেখে খতিয়ানের কোন পৃষ্ঠায় উক্ত হিসাব রয়েছে তা নির্ণয়ে সুবিধা হয়।

২৬। দক্ষতার সাথে হিসাব সংরক্ষণ কী?

     উত্তর : জাবেদায় লেনদেনসমূহ লিপিবদ্ধ করার ফলে হিসাবের খাত অনুযায়ী হিসাবরক্ষণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হিসাব সংরক্ষণ করতে পারে। দৈনন্দিন ভিত্তিতে সুষ্ঠুভাবে জাবেদা লিপিবদ্ধ করা হয় বলে পরবর্তী সময়ে কমসংখ্যক হিসাবরক্ষক নিয়োগ করে খতিয়ান প্রস্তুত করা যায়।

২৭। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য কী?

     উত্তর : লেনদেন সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে সুষ্ঠুভাবে জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয় বলে অযাচিত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি দৈনন্দিন ভিত্তিতে জাবেদা লিপিবদ্ধ করা হলে পরবর্তী সময়ে কমসংখ্যক হিসাবরক্ষক নিয়োগ করে হিসাবের কাজ করা যায়, যা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় হ্রাসে সাহায্য করে।

২৮। জাবেদাকরণ বা জাবেদাভুক্তিকরণ কী?  

     উত্তর : লেনদেনকে জাবেদায় নিয়মানুযায়ী লিপিবদ্ধ করার কাজকে জাবেদাভুক্তিকরণ বলে। লেনদেন জাবেদায় লিপিবদ্ধ করার সময় জাবেদার চারটি ঘর পূর্ণ করতে হয়। যেমন—

     (১) সুষ্ঠু তারিখ দ্বারা তারিখের ঘর। 

     (২) ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষ দ্বারা বিবরণের ঘর।

     (৩) ডেবিট টাকার পরিমাণ দ্বারা ডেবিট টাকার ঘর।  (৪) ক্রেডিট টাকার পরিমাণ দ্বারা ক্রেডিট টাকার ঘর।



সাতদিনের সেরা