kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

শিশুশ্রম

[অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দশম অধ্যায়ে শিশুশ্রমের উল্লেখ আছে]

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিশুশ্রম

শিশুশ্রম বলতে প্রত্যক্ষভাবে উৎপাদনকাজে এবং পরোক্ষভাবে গার্হস্থ্য শ্রমে শিশুদের নিয়োজিত করাকে বোঝায়। দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ সমস্যা হলো শিশুশ্রম। বিভিন্ন দেশে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভিন্নতা, সাংস্কৃতিক ও মূল্যবোধের ভিন্নতা, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভিন্নতার কারণে দেশে দেশে শিশুর বয়স নির্ধারণে কিছুটা পার্থক্য আছে। আবার একই দেশে কাজের ধরন ও কাজের পরিবেশের কারণে শিশুর বয়স নির্ধারণে পার্থক্য রয়েছে। যেমন জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (১৯৮৯) অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচের সব মানবসন্তানকে শিশু বলা হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুযায়ী ১৫ বছরের নিচে মানবসন্তানকে শিশু বলা হবে; কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ১৮ বছরের নিচের বয়সের মানবসন্তানকে শিশু বলা হবে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, যাদের বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হয়নি তাদের শিশু বলা হয়।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক দুরবস্থা হচ্ছে শিশুশ্রমের প্রথম ও প্রধান কারণ। লেখাপড়ার খরচ দিতে না পেরে এবং সংসারের অসচ্ছলতার গ্লানি একজন     মা-বাবাকে বাধ্য করে তার সন্তানকে শ্রমে নিযুক্ত করতে। বাংলাদেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৫-১৪ বছর বয়সী মোট শিশুর ১৯ শতাংশ। ছেলেশিশুর ক্ষেত্রে এই হার ২১.৯ শতাংশ এবং মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে তা ১৬.১ শতাংশ। যে বয়সে শিশুর হাতে থাকার কথা ছিল বই আর পেনসিল; অথচ তার পরিবর্তে শিশুটি নিজের আহার জোগানোর জন্য কাজের সন্ধানে নামতে বাধ্য হচ্ছে। এক শ্রেণির লোভী স্বার্থপিপাসু মানুষ এই সব শিশুর দারিদ্র্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওদের দ্বারা কাজ করায়। কেননা এসব শিশুর শ্রমের মূল্য খুবই নগণ্য। বাংলাদেশে যেসব সেক্টরে শিশুশ্রমের প্রবণতা বেশি তার মধ্যে টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট, প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারি, পোশাক, চামড়াশিল্প, জুতা ও ইট কারখানা অন্যতম। এখনো বয়স গোপন করে অনেক শিশু গার্মেন্টে কাজ করছে। মার্কিন শ্রম বিভাগের প্রতিবেদন অনুসারে, শিশুশ্রম ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে ভারত এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফিলিপাইন।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল