kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

সৃ জ ন শী ল প্র শ্ন

অষ্টম শ্রেণি : বাংলা

আতাউর রহমান সায়েম , সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি : বাংলা

কবিতা

নারী

কাজী নজরুল ইসলাম

     উদ্দীপক : মাজিপাড়া গ্রামের মকবুল তিন বিয়ে করেছে। নিজের কোনো আয়-রোজগার নেই। বউদের আয়ে সংসার চলে তার। ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে চলছে এ অবস্থা। বউরা চাটাই বোনে, ধান ভানে, অন্যের বাড়িতে ঝিগিরি করে, কখনো বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি চাষ করে। অথচ কারণে-অকারণে বিভিন্ন সময় তাদের নানা রকম গঞ্জনা সইতে হয়। সেইবার মকবুল চতুর্থ বিয়ে করতে চাইলে তিন বউ যখন বাধা দিয়েছিল, তখন মকবুল একসঙ্গে তিন বউকেই তালাক দিয়ে দেয়। উপায় না দেখে অসহায় অবস্থায় তারা তিনজনই এত বছরের তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসার ছেড়ে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। এর পরও মকবুলের কোনো অনুশোচনা হয় না। (তথ্যসূত্র : হাজার বছর ধরে—জহির রায়হান)

ক)   কাজী নজরুল ইসলামকে কত সালে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়?

       ১

খ)   কবির চোখে পুরুষ-নারী কোনো ভেদাভেদ নেই কেন?

গ)   উদ্দীপকে ‘নারী’ কবিতায় যে ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।             ৩

ঘ)   মকবুলের মতো লোকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ‘নারী’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করো।                    ৪

    

     উত্তর

ক)   কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালে নাগরিত্ব দেওয়া হয়।

 

খ)   কবির চোখে পুরুষ-নারী কোনো ভেদাভেদ নেই। কারণ, সমাজ-সভ্যতার উন্নয়নে উভয়েই সমান অবদান রাখতে পারে।

     জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাম্যবাদী কবি, মানবতাবাদী কবি। ‘নারী’ কবিতায় তিনি দেখিয়েছেন যে, সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই পুরুষ ও নারীর সমান অংশগ্রহণেই আজকের এ সভ্যতা। এ পৃথিবীতে যা কিছু ভালো, যা কিছু মন্দ সব কিছুই পুরুষ ও নারী উভয়ের সমান অবদানের  ফসল। তাই কবি পুরুষ- নারীর মধ্যে কোনো ভেদাভেদ খুঁজে পাননি।

 

গ)   উদ্দীপকে ‘নারী’ কবিতায় নারীর অবদান অস্বীকার বা নারীর অবমূল্যায়নের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

     ‘নারী’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই যে নারীর অবমূল্যায়নের এক বীভত্স চিত্র। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে নারীকে সে যুগে যথাযথ সম্মান দেওয়া হতো না। পুরুষের পাশাপাশি নারী সমানতালে সভ্যতার উন্নয়নে অংশগ্রহণ করত। স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে কত মায়ের সিঁথির সিঁদুর মুছে গেছে, কত বোন জীবন বাজি রেখে সেবা দিয়েছে। কিন্তু পুরুষের অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণোজ্জ্বল করে লেখা থাকলেও নারীর সে অবদান লেখা হতো না কোথাও। নারীরা হতো অধিকারবঞ্চিত, শোষিত ও নির্যাতিত।

     আলোচ্য উদ্দীপকেও আমরা নারীর অবমূল্যায়নের দিকটি লক্ষ করি। মাঝিবাড়ির দরিদ্র কৃষক মকবুল বউদের আয়ে চললেও কখনো সে বউদের মর্যাদা ও কাজের স্বীকৃতি দেয়নি। ধান ভানা, চাটাই বোনা থেকে শুরু করে বিচিত্র কাজের মাধ্যমে তিন বউ সংসারের চাকা সচল রেখেছিল। কিন্তু মকবুল তার স্বার্থে চতুর্থ বিয়ে করতে চাইলে বউরা ন্যায়সংগত প্রতিবাদ জানায়। অথচ মকবুল একসঙ্গে তিনজনকেই তালাক দিয়ে যার যার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বউদের সব অবদান মকবুল ভুলে যায়। একের বেশি বিয়ে কাম্য নয়, মকবুল সেটাও উপলব্ধি করে না। যুগ যুগ ধরে নারীর এই অবমূল্যায়নের দিকটিই  উদ্দীপকে ও ‘নারী’ কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।

 

ঘ)   মকবুলের মতো লোকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় কার্যকর কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। নারীর প্রতি মর্যাদা দিতে হবে। কেননা, যদি কেউ নারীকে অবদমন করে রাখতে চায়, তাহলে পরের যুগে তাকে অবশ্যই লাঞ্ছিত ও অধিকারবঞ্চিত হতে হবে।

     আলোচ্য ‘নারী’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম দেখিয়েছেন যে এমন এক সময় ছিল—যখন নারীরা ঠিকই পুরুষের পাশাপাশি কাজে অংশ নিত এবং পুরুষের মতোই সাহসিকতাপূর্ণ অবদান রাখত। কিন্তু বেশির ভাগ পুরুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নারীর সে অবদান অস্বীকার করত। পুরুষের অবদান ইতিহাসের পাতায় লিখে রাখলেও নারীর অবদান লিখে রাখার কোনো কিছুই মূল্যায়ন করা হতো না।

     আলোচ্য উদ্দীপকেও আমরা নারীর সে-ই অবমূল্যায়নের চিত্র দেখেছি। মকবুলের সংসারে তিন স্ত্রী তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির প্রতিদান পেয়েছে নিঃস্ব-অসহায় অবস্থায় তালাকপ্রাপ্ত হয়ে বাবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে। মকবুল একবারের জন্যও এত বছর ধরে তার সংসারে বউদের অবদানের কথা স্বীকার করেনি; বরং নিজ স্বার্থে চতুর্থবার আরেকটি বিয়ে করার জন্য তাদের তালাক দিয়ে ওই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে।

     উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলা যায়, কবি ‘নারী’ কবিতায় সেসব পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন—এখন আর নারীকে অবদমন করে রাখা যাবে না। নারীর যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে, নারীর অবদানকে যথার্থভাবে স্বীকার করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা দূর করতে হবে, অন্যথায় পরবর্তী যুগে নারীদের দ্বারা শোষিত, বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হতে হবে। তাই উদ্দীপকের মকবুলের মতো লোকদের ‘নারী’ কবিতা থেকে কাজী নজরুল ইসলামের এ পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।



সাতদিনের সেরা