kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

বউচি

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বউচি

[অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের একাদশ অধ্যায়ে বউচির উল্লেখ আছে]

বউচি বাংলাদেশের গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। প্রযুক্তির উন্নতির আগে খেলাটি গ্রামবাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয় ও ছেলে-মেয়েদের বিনোদনের বড় একটি অংশ ছিল। অন্যান্য খেলার মতোই বউচি খেলায়ও দুটি দলের প্রয়োজন হয়। এই খেলায় খেলোয়াড়ের সংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই। ক্ষেত্রবিশেষে খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমবেশি হয়।

খেলাটি খেলতে খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। ঘরের সামনে উঠানের মতো ছোটখাটো জায়গায় এই চমত্কার খেলাটি খেলা যায়। আবার ধান কাটার পর জমি অনেক দিন খালি থাকে। তখন সেখানেও বউচি খেলা যায়। খেলার শুরুতে ২০-২৫ ফুট দূরত্বে মাটিতে দাগ কেটে দুটি ঘর তৈরি করে নিতে হয়। দুই দলের মধ্যে যারা প্রথমে খেলার সুযোগ পায় তাদের মধ্যে থেকে একজনকে বউ বা বুড়ি নির্বাচন করা হয়। দুটি ঘরের মধ্যে একটি ঘর হয় বড় ও আয়তাকার। যেখানে এক পক্ষের বউ বাদে সব খেলোয়াড় থাকে। আর ছোট বৃত্তাকার ঘরে দাঁড়ায় বউ। ছোট ঘরটিকে বউঘর বা বুড়িঘর বলে।

বিপক্ষ দলের সব সদস্য বৃত্তাকার ও আয়তাকার ঘরের আশপাশে অবস্থান করে। তাদের কাজ হচ্ছে ‘বউ’কে পাহারা দেওয়া। আয়তাকার ঘর থেকে কেউ একজন ‘চি’ দেয় অর্থাৎ দম নিয়ে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের তাড়া করে। সে বিপক্ষ দলের কাউকে স্পর্শ করলে সেই খেলোয়াড় মারা পড়ে বা আউট হয়ে যায়। দম শেষ হওয়ার আগেই তাকে আয়তাকার ঘরে ফিরে আসতে হয়। অন্যথায় সে দম হারালে, বিপক্ষ দল তাকে ঘরে ফেরার আগে স্পর্শ করলে বা ধরে ফেললে সেই খেলোয়াড়ও আউট হয়ে যায়। খেলোয়াড়ের দম দেওয়া অবস্থায় বউ বৃত্তাকার ঘর থেকে দৌড়ে আয়তাকার ঘরে আসতে পারলে বউয়ের দল জিতে যায় অর্থাৎ এক ম্যাচ জেতা হয়। আর আয়তাকার ঘরে আসার আগে বিপক্ষ দলের কেউ যদি বউকে ধরে ফেলে তাহলে বউ আউট হয়ে যায়। কোনো দলের বউ আউট হলে পুরো দল আউট হয়ে যায়। এক দল আউট হলে বিপক্ষ দল একইভাবে বউ হিসেবে একজনকে দাঁড়া করাবে এবং বাকিরা একজন একজন করে পালাক্রমে দম করে অন্য দলের খেলোয়াড়দের তাড়া করবে।

বিপক্ষ দলকে পরাজিত করে বা তাদের আক্রমণকে প্রতিহত করে বউকে আনাই এই খেলার লক্ষ্য বা টার্গেট। ‘চি’ দিয়ে বউকে ঘরে আনা হয় বলেই এই খেলার নাম ‘বউচি’।                 

 



সাতদিনের সেরা