kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্র ব ন্ধ র চ না

পঞ্চম শ্রেণি : বাংলা

মো. নূরুন্নবী বাবু, সহকারী শিক্ষক, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পঞ্চম শ্রেণি : বাংলা

ছাত্রজীবন

 

     ভূমিকা : জীবনের যে সময়টা শিক্ষার জন্য ব্যয় হয়, তাকেই ছাত্রজীবন বলা হয়। এটি কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি গ্রহণের সময়। ছাত্রজীবনের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে মানুষের কর্মজীবনের সাফল্য। তাই ছাত্রজীবনকে ভবিষ্যতের বীজ বপনের সময় বলা হয়।

 

     ছাত্রজীবনের লক্ষ্য : ছাত্রজীবনের মূল লক্ষ্য হলো অধ্যয়ন। ছাত্ররাই জাতির ভবিষ্যতের কর্ণধার, দেশের আশা-ভরসার স্থল। দেশ ও জাতিকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার গুরুদায়িত্ব ভবিষ্যতে ছাত্রদের ওপর অর্পিত হবে। জীবনের এ মূল্যবান সময় অপচয় করলে বাকি জীবন দুঃখের হয়।

 

     ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য : ছাত্রজীবন হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। তাই এ মূল্যবান সময়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধও অনেক বেশি। শ্রমের মর্যাদা, সময়ানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, চরিত্র গঠন, দেশপ্রেম ও দেশ সেবার মতো গুণাবলি অর্জন করে ছাত্রসমাজকে তৈরি হতে হবে আগামী দিনগুলোর জন্য। তা ছাড়া গুরুজনকে সেবা ও সম্মান প্রদর্শন করা, মাতাপিতাকে সাহয্য করা,  দুঃস্থ ও অসহায়কে সাহায্য, পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি কর্তব্য পালন ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।

 

     জ্ঞান অর্জন : ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো পালন করার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে প্রথমেই যে শক্তি অর্জন করতে হয় তা হচ্ছে জ্ঞানের শক্তি। আর প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমেই জ্ঞানের শক্তি অর্জন করা সম্ভব।

 

     চরিত্র গঠন : চরিত্র গঠন করাও ছাত্রজীবনের কর্তব্য। ত্যাগ, সংযম, ধৈর্য, সাধুতা, উদারতা, সত্যবাদিতা প্রভৃতি গুণ আয়ত্ত করার মাধ্যমেই একজন ছাত্রকে সচ্চরিত্রসম্পন্ন মানুষে পরিণত হতে হবে।

 

     শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা : ছাত্রজীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব অপরিসীম। এর ঘাটতি হলে কোনো শিক্ষার্থী উন্নতি করতে পারবে না। স্বাস্থ্যই সব সুখের মূল। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী না হলে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে না। কারণ স্বাস্থ্যই সম্পদ। তাই এ বিষয়ের ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া জরুরি।

     সন্ত্রাস দমন : বর্তমান সময়ের প্রধান সমস্যা সন্ত্রাস। দেশকে সন্ত্রাসমুক্তকরণের আন্দোলনে একমাত্র শিক্ষার্থীরা রাখতে পারে মুখ্য ভূমিকা। তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

     নিরক্ষরতা দূরীকরণ : দেশের নিরক্ষরতা দূরীকরণেও  শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য গ্রামে গ্রামে এবং যেসব অঞ্চল শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত সেসব অঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। একমাত্র শিক্ষার্থীরা পারে দেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে।

 

     সামাজিক উন্নয়ন : বিশ্বের অন্যতম এ দরিদ্র দেশের সামাজিক উন্নয়ন খুবই জরুরি। আর এ কাজে আত্মনিয়োগ করা শিক্ষার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দুর্গতির দিনে শিক্ষার্থীরা একতাবদ্ধ হয়ে সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে।

 

     উপসংহার : শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তারা এ সময়ে জীবনকে সুন্দর দেখে, মধুময় জীবনকে অনুভব করে এবং মহৎ আদর্শকে উদারচিত্তে আলিঙ্গন করে। তাই সুষ্ঠুভাবে কর্তব্য সম্পাদনের মাধ্যমেই  ছাত্রজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সার্থক ও আনন্দময় করে তুলতে পারে। ছাত্রজীবনকে যারা হেলায় অপচয় হতে দেয় সত্যিই তাদের মন্দভাগ্য। এ অমূল্য সময়কে কাজে লাগালে জাতি আলোর পথে, উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারবে।



সাতদিনের সেরা