kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

আদা

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে আদার উল্লেখ আছে]

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আদা

আদা ছোট কন্দ জাতীয় বীরুৎ উদ্ভিদ। এর মূল মসলা হিসেবে সারা বিশ্বে অধিক ব্যবহৃত হয়। ভেষজ ওষুধ হিসেবেও এর কদর আছে। আদা প্রথম দিকের মসলাগুলোর মধ্যে একটি, যা এশিয়া থেকে ইউরোপে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি করা হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিস ও রোমানরা এটি ব্যবহার করত। বর্তমানে খাদ্যশিল্পে, পানীয়, আচার, ওষুধ ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

জল নিকাশের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু বেলে-দোআঁশ মাটি আদা চাষের জন্য বেশি উপযোগী। ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস (এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাস) পর্যন্ত বীজ রোপণ করা যায়। সাধারণত ১২-১৫ গ্রাম ওজনের ১-২টি অঙ্কুরবিশিষ্ট কন্দ লাগানো হয়। ৪০-৪৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে সারি করে ২০ সেন্টিমিটার দূরে ৫ সেন্টিমিটার গভীরে আদা লাগানো উত্তম। প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। বীজ রোপণের ৯-১০ মাস পর আদা তোলার উপযোগী হয়। ফলন সাধারণত প্রতি হেক্টরে ১২-১৩ টন হয়। আদার কন্দ সুগন্ধি ও ঝাঁজালো স্বাদের হয়। এর ভেতরের রং ফিকে হলুদ। আদা গাছ  দৈর্ঘ্যে ২-৩ ফুট উঁচু হতে দেখা যায়। এর পাতাগুলো সুন্দরভাবে সাজানো থাকে।

প্রচলিত আছে ‘আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা’। যার অর্থ আমাদের শরীরে সব রোগ নিরাময়ের জন্য আদা যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আদায় রয়েছে পটাসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন ‘এ’, ‘বি৬’, ‘ই’ ও ‘সি’ এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি এজেন্ট বিদ্যমান। সব বয়সী মানুষ আদা খেতে পারে। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। সর্দি, কাশি, আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপায় আদা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়। তবে সন্তানসম্ভবাদের জন্য আদা ক্ষতিকর। এ ছাড়া যাঁরা ওজন বাড়াতে চান বা যাঁদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাঁদের আদা না খাওয়াই উত্তম। বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে আদার চাষ হয়ে থাকে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা