kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

খরা

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খরা

[অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে খরার উল্লেখ আছে]

খরা (Drought) দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট এক প্রকার সংকটময় প্রাকৃতিক অবস্থা। কোনো অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের চেয়ে বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ অনেক বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়। ব্রিটিশ ভূতাত্ত্বিকরা টানা দুই সপ্তাহ ০.২৫ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হলে একে খরা বলে। বাংলাদেশে ফসল জন্মানোর স্বাভাবিক সময়ে শস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার চেয়ে জমিতে কম আর্দ্রতা থাকলে সে অবস্থাকে খরা বলে।

অনাবৃষ্টির জন্য খরাপীড়িত অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠার কারণে স্থানীয় জলাশয়গুলো শুকিয়ে যায়। এই সূত্রে নদীপ্রবাহ হ্রাস পায় এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর নিচে নেমে যায়। তীব্র দাবদাহের ফলে মাটির আর্দ্রতা হ্রাস পেয়ে শুকনো কঠিন মাটিতে পরিণত হয়। অনেক ক্ষেত্রে শুকিয়ে যাওয়া এঁটেল ভূমির উপরিভাগে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। অন্যদিকে বালু মাটি প্রচুর ধুলার সৃষ্টি করে। উভয় ক্ষেত্রেই ফসল উৎপাদন অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোনো অঞ্চলে দীর্ঘকাল খরার কারণে ওই অঞ্চলের ভূমি ক্রমেই বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে ওই অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হয়। আফ্রিকার কালাহার ও সাহারা মরুভূমি এর উত্কৃষ্ট উদাহরণ।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, খরাকে স্থায়ী, মৌসুমি ও আপৎকালীন—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশে স্থায়ী খরা না দেখা গেলেও মৌসুমি ও আপৎকালীন খরা দেখা যায়। ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কখনো একযোগে খরা দেখা দেয়নি। আমাদের দেশে উত্তর-পশ্চিমে বরেন্দ্রভূমি অঞ্চল, বিশেষ করে দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলায় খরার ঘন ঘন প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ১৯৫১, ১৯৫৭, ১৯৫৮, ১৯৬১, ১৯৬৬, ১৯৭২ ও ১৯৭৯ সালে যথাক্রমে দেশের ৩১.৬৩, ৪৬.৫৪, ৩৭.৪৭, ২২.৩৯, ১৮.৪২, ৪২.৪৮ ও ৪২.০৪ শতাংশ অঞ্চল খরায় আক্রান্ত ছিল। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে খরা হলেও বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ খরা সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে, যা ১৯৭৪ সালের স্থানীয় দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী।      

 



সাতদিনের সেরা