kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

ভা ব - স ম্প্র সা র ণ

অষ্টম শ্রেণি : বাংলা

আতাউর রহমান সায়েম , সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



[পূর্ব প্রকাশের পর]

৫.   জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে,

     চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন নদে?

     ভাব-সম্প্রসারণ

মানুষ মরণশীল। মানুষ অমর নয়। একদিন সবাইকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

মৃত্যুই জীবনের অনিবার্য পরিণতি। মৃত্যুকে ঠেকানোর ক্ষমতা কোনো মানুষের নেই। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘কুল্লু নাফছুন জায়কাতুল মউত।’ অর্থাৎ প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মানবজীবন নদীর জলের মতো প্রবহমান। নদীর জোয়ার-ভাটার মতো মানুষের জীবনেও সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতন আছে। জাগতিক নিয়মেই জীবন চলে। এটাই প্রকৃতির বিধান। তাই মৃত্যুকে অযথা ভয় পাওয়ার কিছু নেই; বরং এই সত্যকে মেনে নিয়ে মানবজীবনকে সার্থক করে তুলতে হবে। কর্মগুণে সমাজ-সভ্যতায় নিজের কীর্তির চিহ্ন রেখে যেতে হবে। নিষ্ফল জীবনের অধিকারী মানুষকে কেউ মনে রাখে না। কিন্তু কৃতী লোকের গৌরব জীবনের সীমা অতিক্রম করে অমরতা ঘোষণা করে। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মতো অনেকেই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে এ নশ্বর পৃথিবীতেও মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার পাত্র হয়ে থাকতে চান।

মানুষেরও শরীরের মৃত্যু হয়। কিন্তু তার জীবনের পুণ্যকর্ম পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। নশ্বর মৃত্যুও মানুষের জীবনে তখন অবিনশ্বর হয়ে ওঠে।

৬.   বাংলার ইতিহাস—এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।

     ভাব-সম্প্রসারণ

স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রতিটি জাতির মাঝেই প্রবল।

বাধীনতার প্রবল আকাঙ্ক্ষার কারণে পরাধীন জাতিগুলো যে রক্তস্রোত বইয়ে দিয়েছে তাতেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভেসে গেছে শাসক ও শোষকদের অশুভ শক্তিবলয়। বিশ্বের মধ্যে রক্তদানের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের ইতিহাস অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ইতিহাস। বাঙালি জাতি কারো অধীনতা কোনো দিন মেনে নেয়নি। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির অবস্থান চিরকালই ছিল বজ্র কঠিন। তাই এখানে বারবার বিদ্রোহের আগুন জ্বলেছে। তবু বাঙালি হার মানেনি। কারণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ কবিতার ভাষায়—

     ‘সাবাশ বাংলাদেশ! এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়

     জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার

     তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের জাঁতাকলে প্রায় দু শ বছর ধরে নিষ্পেষিত হয়েছে এই জাতি। ১৯৪৭ সালে সেই জাঁতাকল থেকে এ উপমহাদেশের মানুষ মুক্তি পেলেও বাঙালির মুক্তি মেলেনি। এ বন্ধন বাঙালি মেনেও নেয়নি। ১৯৫২ সালের রক্তঝরা ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মুক্তিসংগ্রামের দিকে। ১৯৫৮ ও ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানি সামরিক শাসক বাংলার দামাল ছেলেদের ওপর গুলি চালায়। গুলি করে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও। বারবার বাঙালির বুকের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। তবু তাদের স্বাধীনতার দাবিকে ঠেকাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী। তাই তারা ১৯৭১ সালে বাঙালির ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানে। তখন বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিসংগ্রামে। লাখ লাখ মানুষের বুকের রক্তে বাংলার মাটি লাল হয়। অবশেষে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ২০২১ সালে আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হয়।

বাংলাদেশ আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি দেশ। আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠার পেছনে আছে রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। এ ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।



সাতদিনের সেরা