kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

শিল্প বিপ্লব

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের নবম অধ্যায়ে শিল্প বিপ্লবের উল্লেখ আছে]

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিল্প বিপ্লব

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রথমে ইংল্যান্ডে এবং পরে ইউরোপের অন্যান্য দেশে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে উৎপাদনব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়, তা-ই শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত। ফরাসি দার্শনিক লুই অগাস্তে ব্লাংকি ‘শিল্প বিপ্লব’ কথাটি ১৮৩৭ সালে প্রথম ব্যবহার করেন। ১৮৪৫ সালে আবার শিল্প বিপ্লব কথাটি ব্যবহার করেন জার্মান সমাজতন্ত্রী দার্শনিক ফ্রেডরিখ অ্যাঙ্গেলস। তবে ১৮৮০-৮১ সালে শিল্প বিপ্লব কথাটিকে জনপ্রিয় করেছিলেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি তাঁর লেখা ‘Lectures on the Industrial Revolution in England’ গ্রন্থে ব্যবহারের মাধ্যমে।

ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার নানা রকম কারণের মধ্যে একটি বড় কারণ ছিল পুঁজির জোগান। এ ছাড়া রয়েছে ইংল্যান্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশ, সুলভ শ্রমিক, অফুরন্ত মূলধন, উন্নত পরিবহনব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির আবিষ্কার, ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের প্রসার প্রভৃতি। ১৭৬০ সালে শুরু হওয়া শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে শিল্পায়নের সূত্রপাত। ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন তৈরির মাধ্যমে যা ব্যাপক কলেবরে বৃদ্ধি পায়। এ সময় মানুষ শিল্পায়নের স্বাদ পেলেও ত্রাসের রাজত্ব থেকে মুক্তি পায়নি। ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ পেয়েছে আলোকিত বিশ্ব। ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট আবিষ্কারের ফলে কায়িক শ্রমের বিপরীতে মস্তিষ্কপ্রসূত জ্ঞানের বিপ্লব ঘটে। শিল্পোৎপাদনের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

শিল্প বিপ্লব মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এটি সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। মানবসভ্যতার প্রগতির পথে শিল্প বিপ্লব ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু এই শিল্প বিপ্লব আশীর্বাদের সঙ্গে কিছু অভিশাপও বয়ে নিয়ে আসে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ব্যাপক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত কার্বন ডাই-অক্সাইড পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখে। শিল্প বিপ্লবের ফলে গ্রামের মানুষ কাজের আশায় শহরে এসে ভিড় জমালে গ্রামগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ে। এই বিপ্লবের ফলে নতুন নতুন যন্ত্রের আবিষ্কার হয়। এসব যন্ত্রের সাহায্যে কলকারখানায় অল্প সময়ে ব্যাপক উৎপাদন হলে দেশীয় কুটির শিল্পগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল