kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

অষ্টম শ্রেণি : বাংলা

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি : বাংলা

ভা ব - স ম্প্র সা র ণ

[পূর্ব প্রকাশের পর]

৩.   বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর

     অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

 

     ভাব-সম্প্রসারণ

     সৃষ্টির প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত মানবসভ্যতার যে বিকাশ সাধিত হয়েছে, তা নারী ও পুরুষ উভয়েরই যৌথ প্রচেষ্টার ফল। তাই নারী জাতিকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। নারী ও পুরুষ উভয়েই সমান মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত।

     মানবসভ্যতা বিকাশে নারী ও পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই গড়ে উঠেছে আমাদের সমাজ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি। সৃষ্টিকর্তা নারী ও পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে। তাই নারী ও পুরুষ চিরকালের সার্থক সঙ্গী। একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। সৃষ্টির আদিকালে থেকে নারী পুরুষকে জুগিয়েছে প্রেরণা, শক্তি ও সাহস। আর পুরুষ বীরের মতো সব কাজে অর্জন করেছে সাফল্য। আজ পর্যন্ত বিশ্বে যত অভিযান সংঘটিত হয়েছে, তার অন্তরালে নারীর ভূমিকাই মুখ্য। সংগত কারণেই নারী ও পুরুষের কার্যক্ষেত্রে ভিন্নতা আছে। তবু নারী যেমন পুরুষের ওপর নির্ভরশীল, পুরুষও তেমনি নারীর মুখাপেক্ষী। নারীকে বাদ দিয়ে পুরুষের জীবন অসম্পূর্ণ, অর্থহীন। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে মানুষের সংসারজীবনে সুখ, শান্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের ভূমিকা রয়েছে। বিজ্ঞানের আবিষ্কারে, চাকরির কর্মস্থলে; এমনকি দেশকে বাইরের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে নারী ও পুরুষের অনেক ভূমিকা রয়েছে। নারী ছাড়া পুরুষ যেমন বেশি দূর চলতে পারে না, তেমনি পুরুষ ছাড়া নারীও বেশি দূর চলতে পারে না। তাই নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যথার্থ বলেছেন, ‘গাড়ির দুটি চাকার মধ্যে একটি চাকা নষ্ট হলে ঐ গাড়ি বেশি চলতে পারে না। তেমনি একটি দেশের উন্নতির জন্য নারী ছাড়া পুরুষ বেশি দূর চলতে পারে না।’

     নারী জাতিকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। একের দানে অন্যে পরিপুষ্ট। তাই জগত্সংসারে পুরুষ ও নারীর সমান গুরুত্ব রয়েছে।

৪.   আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি

     আমি কি ভুলিতে পারি।

 

     ভাব-সম্প্রসারণ 

     নিজের মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পৃথিবীতে কোনো দেশের মানুষকে বাঙালির মতো বুকের রক্ত দিতে হয়নি। ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পেয়েছি। তাই তো বাঙালির শোকের, ব্যথার ও আনন্দের এই একুশে ফেব্রুয়ারিকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।

     পৃথিবীর সব দেশেরই জাতীয় জীবনে এমন দু-একটি দিন আসে, যা স্বমহিমায় উজ্জ্বল। আমাদের জাতীয় জীবনে এমন স্মৃতিবিজড়িত মহিমা-উজ্জ্বল একটি দিন একুশে ফেব্রুয়ারি। সারা বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে এ দিনটি চিরস্মরণীয়। একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস একদিকে বেদনার, অন্যদিকে আনন্দের। পাকিস্তানি স্বৈরশাসকরা বাঙালির মুখ থেকে বাংলা ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল ১৯৪৮ সালে। বাংলার মানুষ সে অন্যায় মেনে নেয়নি। বাংলার দামাল ছেলেরা তুমুল বিরোধিতা করে রাজপথে নেমে আসে। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে বাংলার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে। স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকার আন্দোলন দমনের জন্য শুরু করে গ্রেপ্তার, জুলুম ও নির্যাতন। এতেও বাংলার দুরন্ত ছেলেদের দমাতে না পেরে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তাদের মিছিলে নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। রফিক, শফিক, বরকত, জব্বার, আব্দুস সালামসহ অনেকের রক্তেই ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়। ফলে বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। আবার বাঙালির শোকের, ব্যথার এই একুশে ফেব্রুয়ারিকে সম্মানের সঙ্গে ইউনেসকো ৩০তম সাধারণ অধিবেশনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছে ‘International Mother Language Day’ বা ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে।

     যে কারণে একুশে ফেব্রুয়ারির জন্ম হলো এবং একুশে ফেব্রুয়ারির কারণেই যা কিছু জন্ম দিল তার ইতিহাস যেন আমরা ভুলে না যাই। সমগ্র বাঙালির চেতনায় চিরস্মরণীয় ও বরণীয় ভাষাশহীদদের নাম যেন হৃদয়ে গেঁথে রাখি। সত্যি তাঁদের ঋণ যে আমরা কোনো দিন ভুলতে পারব না।



সাতদিনের সেরা