kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

নেলসন ম্যান্ডেলা

[একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সাহিত্যপাঠ বইয়ের ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ প্রবন্ধে নেলসন ম্যান্ডেলার উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নেলসন ম্যান্ডেলা

নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে দেশটিতে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।

ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই কেপটাউনের কুনু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম গাডলা হেনরি এমফাকানিসিওয়া ও মা নোসেকেনি ফ্যানি। তাঁর পরিবারে ম্যান্ডেলাই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া করেন। ১৯৩৯ সালে ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তখনকার আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের জন্য একমাত্র পশ্চিমা উচ্চশিক্ষার বন্দোবস্ত সেখানেই ছিল। সেখানেই দেখা হয় বন্ধু এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্য সহযোগী অলিভার টেম্বোর সঙ্গে। দুজনকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ভঙ্গের অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নেলসন ম্যান্ডেলা যখন এ খবর পান বাড়িতে তাঁর বিয়ের তোড়জোড় চলছে, তখন পালিয়ে নাইটগার্ডের চাকরি নেন। পরে আইনের পড়াশোনা শেষ করে আইনজীবী হিসেবে জীবন শুরু করেন। এরই মধ্যে আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৪৪ সালে যোগ দেন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে (এএনসি)। ১৯৬২ সালে ম্যান্ডেলা ও তাঁর কয়েকজন সহযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৬৪ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে পাঠানো হয় রবেন দ্বীপের কারাগারে। দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগের পর ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তি পান।

কারামুক্তি লাভের পর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সঙ্গে বর্ণবাদ নিপাতের প্রচেষ্টায় শান্তি আলোচনায় অংশ নেন। এর ফলে ১৯৯৪ সালে সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ম্যান্ডেলা তাঁর দল এএনসির হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং জয়লাভ করে রাষ্ট্রপতিত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে গণ্য ম্যান্ডেলা ২৫০টিরও অধিক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভারত সরকার প্রদত্ত ১৯৯০ সালের ভারতরত্ন পুরস্কার ও ১৯৯৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর এই মহান নেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।