kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

জোড়াসাঁকো

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জোড়াসাঁকো

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, বর্তমানে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষা প্রাঙ্গণ

[একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সাহিত্যপাঠ বইয়ের অপরিচিতা গল্পে জোড়াসাঁকোর উল্লেখ আছে]

জোড়াসাঁকো উত্তর কলকাতার একটি অঞ্চল। জোড়াসাঁকো অঞ্চলের আদি নাম ছিল মেছুয়াবাজার। জোড়াসাঁকো অঞ্চলটি বর্তমানে রবীন্দ্র সরণিতে অবস্থিত। ঐতিহাসিক রাস্তাটির আদি নাম চিত্পুর রোড। এর অন্তর্গত রয়েছে কলকাতা চক্র রেলের বড়বাজার স্টেশনটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান বলে এই অঞ্চলটি বিশেষভাবে পরিচিত। বাংলার নবজাগরণের ইতিহাসেও এই স্থান উল্লেখযোগ্য। ইতিহাসপ্রসিদ্ধ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ছিল বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পীঠস্থান। ঠাকুর পরিবার ছাড়াও নবজাগরণের অন্যান্য পৃষ্ঠপোষক কালীপ্রসন্ন সিংহের পরিবার, কৃষ্ণদাস পালের পরিবার, দেওয়ান বানারসি ঘোষ ও চন্দ্রমোহন চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের বাসও ছিল এই অঞ্চলে। এ ছাড়া জোড়াসাঁকো কলকাতার শঙ্খশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ঠাকুরবাড়িটি বর্তমানে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষা প্রাঙ্গণ।

জোড়াসাঁকো থানা কলকাতার প্রাচীনতম থানাগুলোর মধ্যে একটি। ১৭৮৫ সালে শহরের পৌর প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের জন্য যে ৩১টি থানা সৃষ্টি করা হয়েছিল, জোড়াসাঁকো ছিল তার অন্যতম। আদি ব্রাহ্মসমাজ, জোড়াসাঁকো ভারতী নাট্যসমাজ, কলিকাতা হরিভক্তিপ্রদায়িনী সভা, মিনার্ভা লাইব্রেরি, ওরিয়েন্টাল সেমিনার প্রভৃতি ইতিহাসখ্যাত প্রতিষ্ঠান জোড়াসাঁকো অঞ্চলেই স্থাপিত হয়েছিল। ১৯২৯ সালে শিক্ষাবিদ গৌরমোহন আঢ্য প্রতিষ্ঠিত ওরিয়েন্টাল সেমিনারই ছিল কলকাতার প্রাচীনতম বেসরকারি ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হিন্দুদের দ্বারা চালিত এই বিদ্যালয়ে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত হিন্দু ছাত্ররাই পড়াশোনার সুযোগ পেত।

১৯৬২ সালে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি প্রাঙ্গণে কলকাতার তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রভারতী স্থাপিত হয়। প্রথম দিকে এই বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সংগীত ও চারুকলা শিক্ষাকেন্দ্র। পরবর্তীকালে এখানে কলা ও মানবীয় বিদ্যা অন্তর্ভুক্ত হয়।

জোড়াসাঁকো নাট্যশালা নামে জোড়াসাঁকোয় দুটি নাট্যশালা ছিল। প্যারীমোহন ঘোষ তাঁর বানারসি ঘোষ স্ট্রিটের বাসভবনে প্রথমটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই নাট্যশালায় ১৮৫৪ সালের ৩ মে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের ‘জুলিয়াস সিজার’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল। ১৮৬৫ সালে গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর পারিবারিক থিয়েটার হিসেবে দ্বিতীয় জোড়াসাঁকো নাট্যশালাটির প্রতিষ্ঠা করেন। সে বছরই এই নাট্যশালায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। এই নাটকে তরুণ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম নাট্যাভিনয়ের সুযোগ পান। তিনি অহল্যা দেবীর চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রথম দিকে পুরুষরা মহিলা চরিত্রে অভিনয় করতেন। পরবর্তীকালে ঠাকুরবাড়ির মহিলারা আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সম্মুখে মঞ্চাভিনয়ে এগিয়ে আসেন। তাঁরা জনসমক্ষেও অভিনয় করেন।                   

 ► ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা