kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

অষ্টম শ্রেণি-বিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তৃতীয় অধ্যায়

ব্যাপন অভিস্রবণ

ও প্রস্বেদন

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

[পূর্ব প্রকাশের পর]

৬।         ভেদ্য পর্দা কাকে বলে?

            উত্তর : যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয়েরই অণু সহজে চলাচল করতে পারে তাকে ভেদ্য পর্দা বলে।

৭।         অর্ধভেদ্য পর্দা কাকে বলে?

            উত্তর : যে পর্দা দিয়ে শুধু দ্রবণের দ্রাবক অণু (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) চলাচল করতে পারে; কিন্তু দ্রাব অণু চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে।

৮।         অভিস্রবণ কী?

            উত্তর : একই দ্রব ও দ্রাবক বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হয় তাকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে।

৯।         কোষ রস কী?

            উত্তর : কোষস্থিত পানি ও দ্রবীভূত খনিজ লবণকে একত্রে কোষ রস বলে।

১০।       শোষণ কাকে বলে?

            উত্তর : মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ উদ্ভিদদেহের সজীব কোষে টেনে নেওয়ার পদ্ধতিকে শোষণ বলে।

১১।       প্রস্বেদন কাকে বলে?

            উত্তর : উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১।  কাপড়ে দেওয়া নীল পানিতে ছড়িয়ে পড়ে কেন? ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : কোনো পদার্থের অণুগুলোর অধিক ঘন স্থান থেকে কম ঘন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হচ্ছে ব্যাপন। পানিতে কাপড়ে দেওয়া নীল মেশালে তা ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। নীলের অণুগুলোর ঘনত্ব পানির অণুর ঘনত্ব থেকে বেশি হওয়ার কারণে এই ব্যাপন ঘটে এবং প্রক্রিয়া ততক্ষণ চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না অণুগুলোর ঘনত্ব সমান হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাপন চাপ মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

২। পলিথিনকে কেন অভেদ্য পর্দা বলা হয়?

            উত্তর : যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয় প্রকার পদার্থের অণুগুলো চলাচল করতে পারে না তাকে অভেদ্য পর্দা বলে। যেহেতু পলিথিনের মধ্য দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব অণুর কোনোটিই প্রবেশ করতে পারে না। তাই পলিথিন একটি অভেদ্য পর্দা।

৩। মাছের পটকাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলা হয় কেন?

            উত্তর : যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রাব চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। মাছের পটকার কোষ পর্দা দিয়ে শুধু দ্রবণের দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে; কিন্তু দ্রাব চলাচল করতে পারে না। তাই মাছের পটকাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলা হয়।

৪। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য পানি ও খনিজ লবণ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

            উত্তর : উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে পানি ও খনিজ লবণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পানি ও খনিজ লবণের দ্রবণ কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখার মধ্য দিয়ে পাতায় পৌঁছায়। পাতা এগুলো ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

৫। ইমবাইবিশন বলতে কী বোঝায়?

            উত্তর : কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষ প্রাচীর) যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে। বেশির ভাগ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান। যেমন স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি।

৬। শুকনো কাঠ পানিগ্রাহী। ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : কাঠ সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। আর সেলুলোজ হচ্ছে কলয়েডধর্মী পদার্থ। বেশির ভাগ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। আর শুকনো কাঠ পানির ঘাটতি থাকায় এবং তাদের কলয়েডধর্মী গুণের কারণে ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। তাই শুকনো কাঠ পানিগ্রাহী।