kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

ঘোমটা

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে ঘোমটার উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘোমটা

ঘোমটা হচ্ছে স্ত্রীলোকের মুখাবরণ। মেয়েদের পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ মাথার ওপর থাকে তাকেই ঘোমটা বলে। ঘোমটা দেওয়ার প্রবণতা বিবাহিত, ধর্মপরায়ণ ও শালীন মেয়েদের বেশি দেখা গেলেও অনেক অবিবাহিত মেয়েও ক্ষেত্রবিশেষে ঘোমটা দেয়।

ঘোমটা ভদ্রতার প্রতীক। ঘোমটা চুলের ওপর পর্দার কাজ করে। চুল এমন একটা বিষয়, যেটাকে ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্ট, বৌদ্ধ ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্মে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মমতে নারীরা বিশ্বাস করে, তাদের চুল শুধু স্বামী বা পরিবারের মানুষ দেখতে পারবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ঘোমটা দেওয়া বা ঘোমটা টানার প্রচলন হয়েছে বলে অনেকে মনে করে।

ঘোমটা দেওয়া মেয়েদের মার্জিত আচরণের অধিকারিণী বলে ধরে নেওয়া হয়। তাই ঘোমটা দেওয়া মেয়েরা কোনো অসভ্যতা করলে সমাজ সহজে মেনে নেয় না। ধর্মের প্রতি আনুগত্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের নারীরাই ঘোমটা দিয়ে মাথা ঢেকে রাখেন। শালীনতা প্রতিটি ধর্মেই আছে। মুসলিম নারীদের মধ্যে যেমন রয়েছে বোরকা পরার চল, তেমনি হিন্দু নারীদের মধ্যে রয়েছে মাথায় ঘোমটা দেওয়ার রেওয়াজ। ইসলামে মুসলিম নারীদের সব সময়ই মাথা আবৃত করে রাখার আদেশ থাকলেও আজানের সময় মেয়েদের মাথায় ঘোমটা টানার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। মুসলিম নারীদের ঘোমটা দেওয়া, পর্দা করা ধর্মীয় রীতি। ইসলাম ধর্ম মতে, নারীদের মুখমণ্ডল ও হাতের কবজি ছাড়া শরীরের সব কিছুই তাদের লজ্জাস্থান। তাই পরপুরুষের সামনে মাথাসহ সমস্ত শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখা ফরজ। হিন্দুধর্মে মেয়েদের পূজার সময় ঘোমটা দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। পূজার সময় ঘোমটা দেওয়ার কারণ হলো, এর ফলে মহিলাদের মাথার চুল ঠিক জায়গায় আটকে থাকে। মন্দিরে বা পূজার উপাচারে চুল স্পর্শ করে না।

একসময় হিন্দু বিয়েতে কনেকে লম্বা ঘোমটা টেনে বিয়ে করতে দেখা যেত। নতুন বউদের ঘোমটা দেওয়াই ছিল রীতি। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের সামনে নতুন বউ ঘোমটা না দিলে তা অসভ্যতা বলে গণ্য করা হতো। ঘোমটা নিয়ে প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে, ‘ঘোমটার নিচে খ্যামটা নাচে।’ ঘোমটা দেওয়া সত্ত্বেও যেসব মেয়ে অসভ্যতা করে, তাদের উদ্দেশে এ কথাটি প্রচলিত। বর্তমানে পূজায় ঘোমটা দেওয়ার প্রচলন থাকলেও নতুন বউদের ঘোমটা দেওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমে এসেছে।

ঘোমটা মেয়েদের এক ধরনের সম্মান প্রদর্শনের পন্থা হিসেবে ধরা হয়। তবে অনেকে ধুলাবালি বা রোদ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখার জন্যও ঘোমটা দেয়।