kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

সাঁকো

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে সাঁকোর উল্লেখ আছে]

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাঁকো

নদী, খাল বা যেকোনো জলাশয়ের ওপর দিয়ে পারাপারের জন্য সবচেয়ে সহজ পন্থা হচ্ছে সাঁকো। অনেক আগে থেকেই এই ভূখণ্ডে সাঁকোর প্রচলন ছিল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান জোড়াসাঁকোর নামের সঙ্গে সাঁকো শব্দটি জড়িত। বাঁশের সাঁকো থেকে যশোর নামেরও উৎপত্তি বলেও প্রচলিত মত আছে। ফরাসি শব্দ ‘জসর’ থেকে যশোর শব্দটি এসেছে। ‘জসর’ অর্থ সাঁকো। এককালে যশোরের সর্বত্র নদীনালায় পরিপূর্ণ ছিল। নদী বা খালের ওপর সাঁকো বানানো হতো। পীর খানজাহান আলী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ভৈরব নদ পেরিয়ে মুড়লীতে আসেন বলে জানা যায়।

পল্লীগ্রামে বর্ষা মৌসুমে যখন পানি বা কাদায় নদী, ছোট নদী, খাল পরিপূর্ণ থাকে তখন সেসব জায়গা দিয়ে সহজে পারাপার হওয়ার জন্য সাঁকো ব্যবহার করা হয়। সাঁকো সাধারণত বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়। বাঁশ ছাড়াও সাঁকো তৈরিতে বড় গাছের কাণ্ড বা ডাল, মোটা লোহার পানির পাইপ, কলাগাছ, মোটা দড়ি প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। সাঁকো তৈরিতে সব সময় অভিজ্ঞ মিস্ত্রির প্রয়োজন হয় না।  নিজেদের উদ্যোগেই গ্রামের কয়েকজন মিলে তৈরি করে ফেলতে পারে এক একটি বাঁশের সাঁকো। শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় খাল বা ঝিল আছে, সেখানে খাল বা ঝিল পারাপারের জন্য সাঁকো ব্যবহার করা হয়।

একটি সাঁকো তৈরি করতে অনেক বাঁশের প্রয়োজন হয়। তাই সাঁকো তৈরির উদ্যোক্তারা সেই গ্রাম বা মহল্লার সবার কাছ থেকে বাঁশ, দড়ি বা সাঁকো তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা অর্থ সংগ্রহ করত। তারপর সেগুলো একত্র করে বিশেষ একটি দিনে সবাই একযোগে কাজ করে খাল বা নদীর বুকে সাঁকো তৈরি করত। নদীর বুকের দুই পাশে সরু বাঁশ পুঁতে দুই বাঁশের মধ্যবর্তী স্থানে ঢালাওভাবে বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়। পারাপারের সুবিধার জন্য সাঁকোর ওপরের অংশে যেকোনো এক পাশে বা উভয় পাশে হাতল দেওয়া হয়। হাতল ধরে যে কেউ সহজে সাঁকো পার হতে পারে। তবে শহরাঞ্চলের যারা সাঁকো পারাপারে অভ্যস্ত নয়, তাদের অনেকে সাঁকো পার হতে খুব ভয় পায়।

বর্তমানে সভ্যতার বিকাশে ইট-পাথরের ব্যবহারের ফলে সাঁকো দেখতে পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। দেশের উন্নয়নের ফলে বেশির ভাগ নদী বা খালে সরকারি অর্থায়নে ব্রিজ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশীয় ঐতিহ্য সাঁকো দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

 



সাতদিনের সেরা