kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

কুম্ভকর্ণ

[অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ের ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে কুম্ভকর্ণের উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুম্ভকর্ণ

কুম্ভকর্ণ হিন্দু পুরাণ রামায়ণের একটি চরিত্র। বিরাট দানবাকৃতির চেহারা ও বিকট খাদ্যাভ্যাসের কারণে তিনি যেমন আলোচিত তেমনি চরিত্রবান ও দক্ষ যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। কুম্ভকর্ণের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে কুম্ভ অর্থাৎ কলসির মতো কান। তিনি ছিলেন বিশ্রবা মুনি ও কৈকেয়ীর দ্বিতীয় সন্তান এবং রাক্ষসরাজ রাবণের মেজো ভাই। তিনি বছরে ছয় মাস ঘুমিয়ে কাটাতেন। এ কারণে কেউ খুব ঘুমকাতুরে হলে তাকে কুম্ভকর্ণ বলে মশকরাও করা হয়।

কুম্ভকর্ণ দুটি বিয়ে করেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী বজ্রমালা ও দ্বিতীয় স্ত্রী কর্কটী। বজ্রমালার গর্ভে কুম্ভকর্ণের দুই ছেলে কুম্ভ ও নিকুম্ভ এবং কর্কটীর গর্ভে ভীমাসুর নামে একটি ছেলেসন্তান আছে।

বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে বর্ণনা পাওয়া যায় যে তিনি এতটাই ধার্মিক, বিচক্ষণ ও অজেয় ছিলেন যে স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রও তাঁর শক্তির প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলেন। তিনি তাঁর অন্য দুই ভাই রাবণ ও বিভীষণের সঙ্গে এক মহাযজ্ঞে অংশ নেন। তাঁরা প্রজাপতি ব্রহ্মাকে তুষ্ট করতে সফল হন; কিন্তু ব্রহ্মার কাছে বর চাওয়ার সময় দেবরাজ ইন্দ্রের অনুরোধে দেবী সরস্বতী কুম্ভকর্ণের জিহ্বায় ভর করেন। এ কারণে বর হিসেবে ইন্দ্রাসন অর্থাৎ সিংহাসনের পরিবর্তে নিদ্রাসন চেয়ে বসেন। ব্রহ্মাও তাঁকে সেই বর দেন। চৈতন্য ফিরে পেয়ে কুম্ভকর্ণ নিজের ভুল বুঝতে পারেন। পরে রাবণ কুম্ভকর্ণের হয়ে ব্রহ্মার কাছে প্রার্থনা করলে তিনি কুম্ভকর্ণের ছয় মাস নিদ্রিত থেকে এক দিনের জাগার বর দেন। ব্রহ্মার কাছ থেকে শাপরূপ বর পাওয়ার পর কুম্ভকর্ণ ছয় মাস ধরে ঘুমাতেন এবং এক দিন জাগতেন। রাম-রাবণের যুদ্ধে রাবণ কুম্ভকর্ণকে অসময়ে জাগানোর জন্য তাঁর দেহের ওপর দিয়ে ১০০টি হাতি হেঁটে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কুম্ভকর্ণ ঘুম থেকে ওঠার পর তার বড় ভাই রাবণের কাছে সব শুনে তাঁকে বলেছিলেন, পরস্ত্রী হরণ করে যদিও রাবণ অন্যায় করেছেন, তবু তিনি শত্রুর হাত থেকে রাবণকে রক্ষা করবেন। যুদ্ধে কুম্ভকর্ণের তেজে অনেক বানর সৈন্য হতাহত হয়, অনেক বানর সৈন্যকে আহার করেন কুম্ভকর্ণ। কিন্তু রামের সঙ্গে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে কুম্ভকর্ণ নিহত হন। নিহতের সময় তাঁর দেহ যুদ্ধক্ষেত্রে পতিত হলে রামের কয়েক শ সৈন্য পিষ্ট হয়ে মারা যায়।