kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

অ ধ্যা য় ভি ত্তি ক প্র শ্ন

পঞ্চম শ্রেণি : বাংলা

মো. নূরুন্নবী বাবু, সহকারী শিক্ষক, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



পঞ্চম শ্রেণি : বাংলা

গদ্য

এই দেশ এই মানুষ

১।   শব্দার্থ লেখো

     শ্রদ্ধা—সম্মান  

     জননী—মা, আম্মা   

     বেলাভূমি—সমুদ্রতীরের বালুময় স্থান   

     বৈচিত্র্য—বিভিন্নতা    

     প্রকৃতি—নিসর্গ 

     সৌভাগ্য—ভালো ভাগ্য 

     প্রান্তর—মাঠ  

     স্বজন—আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব    

     সার্থক  —সফল

     সাংগ্রাই— রাখাইনদের নববর্ষ উত্সব  

     বিজু—চাকমাদের নববর্ষ উত্সব

 

২।   গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

 

ক)   বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও আর কোন ধরনের মানুষ বাস করে?

     উত্তর : আমাদের এই দেশে নানা শ্রেণি ও জাতের লোক বসবাস করে। তবে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে অধিকাংশই বাঙালি। বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও চাকমা, গারো, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, মুরং,তঞ্চঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। এদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা। আরো রয়েছে নিজস্ব ধর্ম, আনন্দ-উত্সব এবং নিজস্ব জীবনযাপন পদ্ধতি। তবে সব মানুষই এখানে বসবাস করে বন্ধুর মতো।

 

খ)   বাংলাদেশের গৌরব কিসে?

     উত্তর : বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাঙালি হলেও এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক বাস করে। সকলে মিলেমিশে এ দেশে বসবাস করে। তারা তাদের নিজ নিজ ভাষায় কথা বলে। দৈনন্দিন জীবনযাপন, আনন্দ-উত্সবও তাদের নিজেদের। নানা জাতের মানুষ মিলেমিশে বন্ধুর মতো বসবাস করে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অনেক ধর্মের মানুষ এ দেশে রয়েছে। একই দেশ, অথচ কত বৈচিত্র্য। এটাই বাংলাদেশের গৌরব।

 

গ)   বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের উত্সবগুলোর নাম কী?

     উত্তর : বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের লোক বসবাস করে। নানা ধর্ম হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অনেক ধর্মের মানুষ এদেশে রয়েছে। এ দেশে সকল ধর্মের লোক পাশাপাশি বসবাস করে এবং ধর্মীয় উত্সব পালন করে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের নানা রকম উত্সব রয়েছে। এখানে কয়েকটি ধর্মের  উত্সবের নাম উল্লেখ করা হলো।

     মুসলমানদের উত্সব

     ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, মহররম, শবেবরাত, শবেকদর, শবেমিরাজ, ঈদে মিলাদুন্নবী ইত্যাদি।

     হিন্দুদের উত্সব

     দুর্গাপূজা, কালীপূজা, লক্ষ্মীপূজা, সরস্বতীপূজা, মনসাপূজা, দোলযাত্রা প্রভৃতি।

     বৌদ্ধদের উত্সব

     বুদ্ধ-পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা ইত্যাদি।

     খ্রিস্টানদের উত্সব

     ইস্টার সানডে, ২৫ ডিসেম্বর বা বড়দিন, গুড ফ্রাইডে ইত্যাদি।

 

ঘ)   ‘দেশ হলো আসলে জননীর মত।’ দেশকে জননীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?

    পৃথিবীতে মা আমাদের সবচেয়ে আপনজন। মা সব সময় আমাদের স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন। মা যেমন নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করে সন্তানদের আগলে রাখেন, দেশও তেমনি তার আলো-বাতাসসহ সব কিছু দিয়ে আমাদের মমতায় বন্দি করে রাখেন। মায়ের মতো দেশও সব কিছু আমাদের জন্য নিবেদন করে দেন। মাঠে প্রান্তরে সবুজ ঘাস, বন-বনানী, সোনার ফসল, নদ-নদীর পানি, গাছের ফলমূল সব কিছুই আমাদের ভোগের জন্য। এক কথায় এ দেশের সব কিছুর সঙ্গে মিশে আছে আমাদের অস্তিত্ব। মায়ের ভালোবাসার ঋণ যেমন কোনো দিন শোধ করা যায় না তেমনি দেশের ঋণও আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না। দেশ তাই আমাদের মায়ের মতো। তাই দেশকেও মায়ের মতোই ভালোবাসতে হবে।

 

ঙ)   ‘বাগানে কত রকমের গাছপালা—বড় গাছ, ছোট গাছ।’ এ কথার দ্বারা কী      বোঝানো হয়েছে?

     উত্তর : বাংলাদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক বাস করে। সকলে মিলেমিশে এ দেশে বসবাস করে। তারা তাদের নিজ নিজ ভাষায় কথা বলে। দৈনন্দিন জীবনযাপন, আনন্দ-উত্সবও তাদের নিজেদের। বাংলাদেশ ঠিক যেন একটি বাগানের মতো। বাগানে যেমন ছোট-বড় নানা ধরনের গাছপালা ও নানা ফুল থাকে তেমনি বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। তাই বাংলাদেশের জনজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। এ জন্য বাংলাদেশকে একটি বাগানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এখানে।

 

চ)   দেশকে কেন ভালোবাসতে হবে?

     উত্তর : স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা মানুষের জন্মগতও  সহজাত গুণ। মানুষ যেখানে জন্মগ্রহণ করে, সেটাই তার দেশ। বাংলাদেশে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দেশে আমরা লালিত-পালিত হচ্ছি। মা যেমন নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করে সন্তানদের আগলে রাখেন, দেশও তেমনি তার আলো-বাতাসসহ সব কিছু দিয়ে আমাদের মমতায় বন্দি করে রাখে। মায়ের মতো দেশও সব কিছু আমাদের জন্য নিবেদন করে দেন। মাঠে প্রান্তরে সবুজ ঘাস, বন-বনানী, সোনার ফসল, নদ-নদীর পানি, গাছের ফলমূল—সব কিছুই আমাদের ভোগের জন্য। এক কথায় এ দেশের সব কিছুর সঙ্গে মিশে আছে আমাদের অস্তিত্ব। মায়ের ভালোবাসার ঋণের মতো দেশের ঋণও আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না। দেশ ও মা উভয়ের মায়ার বাঁধনে আমরা জড়িয়ে আছি। তাই দেশকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। আর দেশকে ভালোবাসা আমাদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

 

৩।   ক্রিয়াপদের চলিতরূপ

     লেখো :

     জন্মিয়াছি—জন্মেছি

     জোগাইত—জোগাত

     করিতে—করতে

     হইবে—হবে

     হইল—হলো

     ভালোবাসিতে—ভালোবাসতে

 

৪।   যুক্তবর্ণ ভেঙে লেখো এবং প্রতিটি যুক্তবর্ণ দিয়ে শব্দ তৈরি করো : 

     ন্ম = (ন্+ম) জন্ম, তন্ময়, উন্মুক্ত

     শ্চ = (শ্+চ) নিশ্চয়, পশ্চিম, পশ্চাৎ

     ন্ত= (ন্+ত) শান্ত, অনন্ত, দিগন্ত

     দ্ধ = (দ্+ধ) বৌদ্ধ, শুদ্ধ, পদ্ধতি

     স্ট = (স্+ট) স্টার, স্টোর, স্টেশন 

     ম্ব = (ম্+ব) নভেম্বর, কম্বল, সম্বল

     ট্র = {ট্+  ্র(র-ফলা)}ট্রাক, ট্রাম, ট্রফি

     ক্ক = (ক্+ক) ছক্কা, মক্কা, অক্কা

     দ্দ = (দ্+দ) উদ্দেশ্য, নিরুদ্দেশ, খদ্দর

     ঙ্গ = (ঙ্+ গ) অঙ্গ, বঙ্গ, ভঙ্গ

 

৫।   নিচের অনুচ্ছেদটিতে যথাস্থানে উপযুক্ত বিরামচিহ্ন বসিয়ে উত্তরপত্রে লেখো :

ক)   ভাবো তো কৃষকের কথা তারা কাজ না করলে আমাদের খাদ্য জোগাতো কে সবাই তাই আমাদের শ্রদ্ধা করতে হবে ভালোবাসতে হবে সবাই আমাদের আপনজন

 

খ)   আমাদের দেশে রয়েছে নানা ধর্মের লোক হিন্দু, মুসলমান  বৌদ্ধ ও  খ্রিস্টান রয়েছে সবাই মিলেমিশে আছে যুগ যুগ ধরে

 

     উত্তর :

ক)   ভাব তো কৃষকের কথা। তারা কাজ না করলে আমাদের খাদ্য জোগাতো কে? সবাইকে তাই আমাদের শ্রদ্ধা করতে হবে, ভালোবাসতে হবে। সবাই আমাদের              আপনজন।

 

খ)   আমাদের দেশে রয়েছে নানা ধর্মের লোক। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান।  রয়েছে সবাই মিলেমিশে আছে যুগ যুগ ধরে।

 

৬।   এককথায় প্রকাশ করে উত্তরপত্রে লেখো :

     কোথাও উঁচু কোথাও নিচু—বন্ধুর

     যেখানে জনগণ বসবাস করে—জনপদ

     বাংলায় কথা বলে যারা—বাঙালি

     কৃষিকাজ করেন যিনি—কৃষক

     ঝুলে আছে যা—ঝুলন্ত

     সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি এমন—সংখ্যাগরিষ্ঠ

     সমুদ্রের তীরের বালুময় স্থান—বেলাভূমি

     জনবসতি নেই এমন বিস্তীর্ণ স্থান—প্রান্তর

 

৭।   বিপরীত শব্দ লেখো :

     বাঙালি—অবাঙালি

     দূরে—নিকটে

     সংখ্যাগরিষ্ঠ—সংখ্যালঘিষ্ঠ

     বন্ধু—শত্রু

     শ্রদ্ধা—অশ্রদ্ধা

     দেশ—বিদেশ

     সার্থক—ব্যর্থ

     সৌভাগ্য—দুর্ভাগ্য

     কম—বেশি

     ভালোবাসা—ঘৃণা

     মানুষ—অমানুষ

     আনন্দ—বিষাদ

     গৌরব—গ্লানি

     আপন—পর

     পূর্ণিমা—অমাবস্যা

     আত্মীয়—অনাত্মীয়

     সফল—বিফল

     ভালো—মন্দ  

 

৮।   সমার্থক শব্দ লেখো :

     পাহাড়—পর্বত, অচল, গিরি, শৈল

     নদী—তটিনী, গাঙ, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিনী

     সমুদ্র—সাগর, জলধি, সিন্ধু, অর্ণব

     আকাশ—গগন, শূন্য, ব্যোম, আসমান

     মা—গর্ভধারিণী, জননী, মাতা

     বাতাস—সমীর, বায়ু, হাওয়া, সমীরণ

     ফুল—পুষ্প, প্রসূন, কুসুম

     গাছ—বৃক্ষ, বিটপী, তরু, উদ্ভিদ

     বিচিত্র—বিভিন্ন, নানা, হরেক, রকমারি

     স্বজন—নিজের লোক, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব

     সুখ্যাতি—সুনাম, প্রশংসা



সাতদিনের সেরা