kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

অনুধাবন মূলক প্রশ্ন

অষ্টম শ্রেণি-বাংলা

আতাউর রহমান সায়েম, সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি-বাংলা

গদ্য

তৈলচিত্রের ভূত

১।         নগেন তার মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে গিয়েছিল কেন?

            উত্তর : মামার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে নগেন তার মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে গিয়েছিল।

            ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন কৃপণতার জন্য মামাকে অপছন্দ করত। মামা মারা যাওয়ার পর নগেন জানতে পারে তিনি ছেলেদের সমান অর্থ নগেনের নামে উইল করে গেছেন। তখন সে বুঝতে পারে যে তার মামা বাইরে থেকে কঠোর ও কৃপণ হলেও নগেনকে তিনি নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসতেন। তাই সে মামার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে তাঁর তৈলচিত্রে প্রণাম করতে গিয়েছিল।

২।         নগেন তার মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধাভক্তি করেনি কেন?

            উত্তর : নগেন তার মামার কাছ থেকে আদর-ভালোবাসা তেমন একটা পায়নি বলে মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করেনি।

            নগেন তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়াশোনা করত। তার মামা অনেক বড়লোক ছিলেন। যথেষ্ট টাকা-পয়সা থাকার পরও নগেনের মামা ভীষণ কৃপণ ছিলেন। নগেন কখনো আদর পায়নি তার মামার কাছ থেকে। অনেকটা অনাদরেই সে মামার বাড়িতে থেকেছে। এ কারণেই নগেন বাইরে থেকে মামাকে শ্রদ্ধা-ভক্তি দেখালেও অন্তর থেকে কোনো দিনই মামাকে শ্রদ্ধাভক্তি করেনি।

৩।         নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ জেগেছিল কেন?

            উত্তর : মামাকে সারা জীবন ভক্তি-শ্রদ্ধার ভান করে ঠকিয়েছে ভেবে নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ জেগেছিল।

            নগেন তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়ে। মামা বড়লোক কিন্তু কৃপণ। মামার কাছ থেকে খুব একটা স্নেহ-ভালোবাসা নগেন পায়নি। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে মামা নগেনকে নিজ ছেলেদের প্রায় সমান টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন। এটা জানার পর মামার প্রতি তার ভক্তি-শ্রদ্ধা বেড়ে যায় আর সে মনে মনে দারুণ লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। কারণ সারা জীবন মামাকে সে ভক্তি আর ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছে।

৪।         নগেনের কথা বলার ভঙ্গি খাপছাড়া হয়ে গেছে কেন?

            উত্তর : নগেনের কথা বলার ভঙ্গি খাপছাড়া হওয়ার কারণ সে ভীষণ ভয় পেয়েছে।

            নগেনের মামা ছিল কৃপণ স্বভাবের লোক। কিন্তু মামা মারা যাওয়ার আগে নগেনকে অনেক টাকা উইল করে দিয়ে যান। বেঁচে থাকতে নগেন তার মামার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি না করায় আত্মগ্লানিতে ভুগতে থাকে। এই আত্মগ্লানি কমানোর জন্য সে মামার তৈলচিত্র ধরে ক্ষমা চাইতে গেলে কিসে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সে মনে করে তার মামার প্রেতাত্মা তার সঙ্গে এ রকম করে। ফলে ভয় পাওয়ায় নগেনের কথা বলার ভঙ্গি খাপছাড়া হয়ে গেছে।

 

৫।         ‘নগেন যেন মরিয়া হয়ে জিজ্ঞেস করে বসল, ‘আচ্ছা ডাক্তার কাকা, প্রেতাত্মা আছে?’—কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : মামার তৈলচিত্র স্পর্শ করে ধাক্কা খাওয়ার কারণে নগেনের মনে হয়েছিল তাকে কোনো অশরীরী আত্মা ধাক্কা দিয়েছিল। তাই সে পরাশর ডাক্তারকে কথাটি জিজ্ঞাসা করে।

            নগেনের মামার মৃত্যুর পর নগেন জানতে পারে তার মামা তার জন্য মোটা টাকা উইল করে গেছেন। এ কথা জানার পর নগেনের মনে অনুশোচনা জন্মে। কারণ মামা জীবিত থাকতে সে মামাকে শ্রদ্ধা করেনি। মামাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাই সে মামার ছবি ছুঁয়ে প্রণাম করতে যায়। তার মনে হয় মামার অশরীরী আত্মা তাকে ঠেলে সরিয়ে দেয়। নগেন খুব ভয় পায় এবং এ সমস্যা সমাধানের জন্য সে পরাশর ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার সমস্যার কথা খুলে বলে। একসময় সে মরিয়া হয়ে পরাশর ডাক্তারকে ভূত-প্রেতাত্মার অস্তিত্বের কথা জিজ্ঞাসা করে।

৬।         ‘যেই ছবি ছুঁয়েছি ডাক্তার কাকা, কে যেন আমাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে ফেলে দিল।’—কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : ‘যেই ছবি ছুঁয়েছি ডাক্তার কাকা, কে যেন আমাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে ফেলে দিল।’—কথাটি নগেন পরাশর ডাক্তারকে বলেছিল। নগেন তার মামার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তার মামার তৈলচিত্রের কাছে যায়। কিন্তু তৈলচিত্রে হাত স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে সে বৈদ্যুতিক শক খায়। শক খেয়ে তার মনে হয় কে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিল। এতে নগেন ভীষণ ভয় পেয়ে যায়।

 

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

১।         ‘এই বাংলায়—হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি, অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই’—কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : ‘এই বাংলায়—হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি, অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই’—উক্তিটির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলার মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মহান নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে তিনি স্বাধীনতার জন্য ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য না করে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহবান জানান। তিনি ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাইকে নিজের ভাই বলে পরিচয় দেন। যার মধ্য দিয়ে বাংলার সব মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

২।         জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন কেন?

            উত্তর : জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করার পর জনগণের জোর দাবির মুখে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।   ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাচ্যুত হন জেনারেল আইয়ুব খান। ক্ষমতা গ্রহণ করেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। তিনিও নির্বাচন দিতে টালবাহানা শুরু করেন। অবশেষে জনগণের চাপের মুখে সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।

৩।         ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব’—কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব’—কথাটি সাত কোটি বাঙালির মনে সঞ্চার করেছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

            কারণ পাকিস্তানের জন্ম থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ অবিবেচক পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের হাতে নানাভাবে শোষণ-বঞ্চনার শিকার হচ্ছিল। অবশেষে সেই শোষণের বিরুদ্ধে রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ জেগে উঠেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের সব অন্যায় রুখে দিতে বাংলার মানুষ অনুপ্রেরণা নিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী ভাষণ থেকে। প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা তিনি জীবন দিয়ে হলেও বাঙালিকে তাঁর স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করার প্রয়াস পেয়েছেন।