kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

অ নু ধা ব ন মূ ল ক প্র শ্ন

অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

আতাউর রহমান সায়েম, সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি - বাংলা

গদ্য

অতিথির স্মৃতি

শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

 

১।        লেখক দেওঘর থেকে কেন বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগ্রহ খুঁজে পেলেন না?

            উত্তর : অতিথির প্রতি মায়া জন্মে যাওয়ার কারণে লেখক বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগ্রহ খুঁজে পেলেন না।

            বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘর বেড়াতে গিয়ে লেখক একটি পথের কুকুর ডেকে এসে খাবার দেন। ক্রমে ক্রমে তার প্রতি লেখকের মমতা জন্মে। তিনি তার নাম দেন অতিথি। অতিথিও লেখকের খুব ভক্ত হয়ে ওঠে। তারপর একদিন লেখকের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে যায়। দেওঘরে লেখক নানা ছলে অতিরিক্ত দিন দুই দেরি করার পর অবশেষে বিদায়ের সময়ও অতিথি রেলস্টেশন পর্যন্ত যায়। দুপুরে ট্রেন ছেড়ে দিলেও লেখকের যাত্রাপথের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। অবোধ প্রাণীটির প্রতি মমত্বের কারণে লেখক মনের মধ্যে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগ্রহ খুঁজে পেলেন না।

 

২।         লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন?

            উত্তর : বেড়াতে যাওয়ার একমাত্র পথের সঙ্গী অতিথি কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগার কারণে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।

            ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক পথে বেড়াতে বের হলে সঙ্গী হয় একটি কুকুর। তিনি তার নাম দেন অতিথি। প্রতিদিন কুকুরটি বাড়ির গেটের সামনে লেখকের জন্য অপেক্ষা করে সঙ্গে যাওয়ার জন্য। কুকুরটির এরূপ আচরণে লেখকের মনে কুকুরটির জন্য মমত্ববোধ  জেগে ওঠে। তাই দেওঘর থেকে বিদায় নেওয়ার দিন যখন এসে পড়ে তখন কুকুরটি ছেড়ে যেতে খারাপ লাগায় লেখক নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।

 

৩।        ‘আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে’—লেখক উক্ত কথা কেন বলেছেন?

            উত্তর : ‘আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে’ বলতে বিনা নিমন্ত্রণে কুকুরটি ভোজ খাওয়ার আশায় নিশ্চিত হয়ে বসে আছে, যা আতিথ্যের মর্যাদাকে ক্ষুুণ্ন করে বোঝানো হয়েছে।

            কুকুরটির সঙ্গে লেখকের সখ্য হওয়ার পরের দিন কুকুরটি লেখকের নিমন্ত্রণ রক্ষা করে। পরের দিনও একই সময় কুকুরটি লেখকের গৃহে এসে হাজির হয়। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারো বাড়িতে কোনো অতিথি অধিক সময় থাকাটাকে আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন বোঝানো হয়। কুকুরটি লেখকের গৃহের সামনে দীর্ঘক্ষণ এবং আরামে নিশ্চিন্তে থাকায় লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

৪।        ‘ফোলা পায়ের লজ্জা ঢাকতে বেচারাদের কত না যত্ন।’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

            উত্তর : ‘ফোলা পায়ের লজ্জা ঢাকতে বেচারাদের কত না যত্ন।’—কথাটি বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত মেয়েদের সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে।

            বিকেল বেলা লেখকের বাড়ির সামনে দিয়ে পা ফোলা ফোলা মেয়েরা দল বেঁধে যেত। বেরিবেরি রোগের কারণে তাদের পা ফুলে গেছে, যা পায়ের সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলেছে। পায়ের এ সৌন্দর্যহীনতা ও লজ্জা ঢাকতেই তারা গরমের দিনেও মোজা পরত। এ ছাড়া তারা মাটি পর্যন্ত লুটিয়ে কাপড় পরত। আলোচ্য কথাটি দ্বারা একটাই বোঝানো হয়েছে।

 

৫।        দরিদ্র ঘরের মেয়েটিকে দেখে লেখকের সবচেয়ে বেশি দুঃখ হতো কেন?

            উত্তর : দরিদ্র ঘরের মেয়েটিকে দেখে লেখকের সবচেয়ে বেশি দুঃখ হতো, কারণ ওই মেয়েটির কোনো আত্মীয়-স্বজন ছিল না। সে একা একা পথ চলত। ২৪-২৫ বছরের দরিদ্র মেয়েটির দেহ শীর্ণ আর পাণ্ডুর। যেন গায়ে কোনো রক্ত নেই। মেয়েটির তিনটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে। শীর্ণ মেয়েটিকে নিজের দেহ টেনে নিয়ে যেতেই অনেক কষ্ট করতে হয়। তবু তার কোলে একটা বাচ্চা থাকে। মেয়েটির এ দুরবস্থা দেখে লেখকের মনে বেশি দুঃখ হতো।

 

৬। লেখকের অতিথি কেন উপবাস করেছিল?

            উত্তর : লেখকের অতিথি উপবাস করার কারণ হলো অতিথির আতিথ্যির প্রতি বাড়ির মালিনী ও চাকরদের আপত্তি ছিল।

            কুকুরটিকে লেখক অতিথির মর্যাদা দিয়ে বেঁচে যাওয়া খাবার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, যা মালিনীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে। তাই সে কুকুরটিকে মেরে তাড়িয়ে দিত। এমনকি হাঁড়ি-পাতিলে উদ্বৃত্ত খাবার কুকুরটিকে না দিয়ে নিজে চেটে খেয়ে নেয়। এ কারণেই লেখকের অতিথি উপবাস করত।

৭।        কুলিদের সাথে কুকুরটির ছোটাছুটি করার কারণ ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : কুলিদের সাথে কুকুরটির ছোটাছুটি করার কারণ হলো, লেখকের কোনোকিছু যেন স্টেশনে খোয়া না খায়।

            দেওঘর থেকে লেখকের যাওয়ার দিন কুলিরা ব্যস্ত হয়ে মালামাল গাড়িতে তুলতে লাগল। কুলিদের ব্যস্ততার সাথে কুকুরটিও ছোটাছোটি করে একাত্মতা ঘোষণা করল। লেখকের  ভালোবাসার প্রতিদানস্বরূপ সেই যেন সাহায্য করতে চায় লেখককে। তাই কুকুরটি কুলিদের সঙ্গে খবরদারি করতে লাগে যেন কোনো জিনিস খোয়া না যায়।

 

৮। ‘হয়তে নিস্তব্ধ মধ্যহ্নের কোনো ফাঁকে লুকিয়ে ওপরে উঠে খুঁজে দেখবে আমার ঘরটা।’—কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : আলোচ্য কথাটি দ্বারা অতিথি কুকুরটির প্রতি লেখকের মমতা প্রকাশ পেয়েছে এবং লেখকের প্রতি কুকুরের ভালোবাসার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।

            দেওঘরে অবস্থানকালে পথের কুকুরটির সঙ্গে লেখকের দারুণ সখ্য গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে যা লেখকের মনে একখণ্ড বেদনার অবতারণা করে। কারণ লেখকের প্রস্থানের বিষয়টি কুকুরটা তত্ক্ষণাৎ বুঝতে পারবে না। তালাবদ্ধ গেটের সামনে অক্লান্তভাবে সে প্রতিদিন অপেক্ষা করবে। তারপর গোপনে লেখককে খুঁজবে। লেখকের প্রতি কুকুরটির এ নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা স্মরণ করেই লেখক ওই কথাটি বলেছেন।



সাতদিনের সেরা