kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ঢেঁড়স

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ঢেঁড়সের উল্লেখ আছে]

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢেঁড়স

ঢেঁড়স মালভেসি পরিবারের এক প্রকারের বর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Abelmoschus esculentus বা Hibiscus esculentus L। ঢেঁড়স ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা এবং এর পাতা ১০-২০ সেমি দীর্ঘ এবং চওড়া হয়। পাতায় ৫-৭টি অংশ থাকে। ফুল হয় ৪-৮ সেমি চওড়া। প্রতিটি ফুলে ৫টি পাপড়ি থাকে এবং পাপড়ির রং সাদাটে হলুদ। প্রতিটি পাপড়ির কেন্দ্রে লাল বা গোলাপি বিন্দু থাকে। ঢেঁড়স ফল প্রায় ১৮ সেমি দীর্ঘ, দেখতে ক্যাপসুলের মতো এবং এর ভেতরে অসংখ্য বিচি থাকে।

ঢেঁড়সের ইংরেজি লেডিস ফিঙ্গার (Ladies finger)। তবে আমেরিকানরা একে ওকরা (Okra) বলে। ঢেঁড়সের আদি নিবাস ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি এলাকায়। বাংলাদেশে এটি ভেণ্ডি নামেও পরিচিত।

ঢেঁড়স একটি পুষ্টিকর গ্রীষ্মকালীন সবজি। আমাদের দেশে সাধারণত মাঘ মাসের শুরু থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত এই সবজির চাষ হয়। ঢেঁড়সের বিভিন্ন জাতের মধ্যে পুষা শ্রাবণী, প্রভাতি ক্রান্তি, অর্কা-অনামিকা উল্লেখযোগ্য। এ জাতগুলোর মধ্যে পুষা শ্রাবণী স্বল্পমেয়াদি। ঢেঁড়স চাষের জন্য সব সময় নতুন বীজ ব্যবহার করা ভালো। এর চাষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, এমন জমি নির্বাচন করতে হয়। জমি উঁচু ও পানি নিকাশের ভালো সুবিধা থাকতে হয়। বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল—সব ধরনের মাটিতেই ঢেঁড়সের চাষ হলেও দো-আঁশ মাটিই সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

জমিতে রোপণ করার আগে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা বীজ ১-২ সেমি জলে ভিজিয়ে রাখতে হয়। বীজ রোপণের ছয় দিন থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অঙ্কুরোদগম হয়। ঢেঁড়সের চারার প্রচুুর পানির দরকার হয়। ফল পেড়ে নিতে হয় পরাগায়ণের এক সপ্তাহের মধ্যেই। নয়তো এটি আঁশযুক্ত হয়ে যায়। এই ফল সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ঢেঁড়স ভর্তা, ভাজি ও তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে। বাঙালিদের কাছে ঢেঁড়স ভাজি খুব প্রিয়।

ঢেঁড়স ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও লোহাসমৃদ্ধ। এতে প্রতি ১০০ গ্রামে ভক্ষণযোগ্য অংশে আমিষ (১.৮ গ্রাম) ভিটামিন-সি (১৮ মিলিগ্রাম) খনিজ পদার্থ বিশেষ করে ক্যালসিয়াম (৯০ মিলিগ্রাম), লোহা (১ মিলিগ্রাম) ও আয়োডিন রয়েছে। এ ছাড়া এতে রয়েছে ক্যারোটিন, ফলিক এসিড, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, অক্সালিক এসিড ও অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।

ঢেঁড়স বেশ কয়েকটি রোগের জন্যও উপকারী। এই সবজি আয়োডিনের অভাবে সৃষ্ট গলগণ্ড রোগ এবং মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ড দুর্বলতা প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। প্রতিটি ঢেঁড়সে রিবোফ্লাভিনের পরিমাণ বেগুন, মুলা, টমেটো আর শিমের থেকে বহুগুণ বেশি। এ ছাড়া এটি কোষ্ঠকাঠিন্য ও শুকনো কাশির জন্য বেশ উপকারী।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য