kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

এসএসসি প্রস্তুতি ♦ পদার্থবিজ্ঞান

মো. মিকাইল ইসলাম নিয়ন, সহকারী শিক্ষক, ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা সদর চুয়াডাঙ্গা

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এসএসসি প্রস্তুতি ♦ পদার্থবিজ্ঞান

কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর কাজ করার হারকে ক্ষমতা বলে

অ নু ধা ব ন মূ ল ক  প্র শ্ন

চতুর্থ অধ্যায়

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

১।   250 J কাজ বলতে কী বোঝো?

     উত্তর : 250 J কাজ বলতে বোঝায়—

     ক) 250 N বল প্রয়োগের ফলে বলের দিকে বলের প্রয়োগ বিন্দুকে 1 m সরাতে যে কাজ সম্পাদিত হয়।

     খ) 1 N বল প্রয়োগের ফলে বলের দিকে বলের প্রয়োগ বিন্দুকে 250 J সরাতে যে কাজ সম্পাদিত হয়।

২।   বিভব শক্তি কিসের ওপর নির্ভরশীল? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : m ভরের কোনো বস্তুকে ভূপৃষ্ঠ থেকে h উচ্চতায় ওঠাতে কৃতকাজই হচ্ছে বস্তুতে সঞ্চিত বিভব শক্তির পরিমাপ। আমরা জানি, বিভব শক্তি = বস্তুর  ওজন × উচ্চতা

            V= mgh

     অর্থাৎ বিভব শক্তি = বস্তুর  ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ × উচ্চতা Vαh

সমীকরণ হতে দেখা যায়, উচ্চতা যত বেশি হবে, বস্তুর বিভব শক্তিও তত বেশি হবে। অতএব, আমরা বলতে পারি, বিভব শক্তি বস্তুর উচ্চতার ওপর নির্ভরশীল।

৩।   ক্ষমতা কাকে বলে? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর কাজ করার হারকে ক্ষমতা বলে। একক সময়ের কৃতকাজ দ্বারা ক্ষমতা পরিমাপ করা হয়। কোনো ব্যক্তি বা উৎস t সময়ে w

পরিমাণ কাজ সম্পাদন করলে ক্ষমতা, P = w/t

৪।   400 MeV শক্তিকে জুল (J)-এ রূপান্তর করো।

     উত্তর : প্রদত্ত শক্তি

            = 400 MeV

            = 400×106 eV

            = (400×106 ×1.6 ×10-19)J

                        = 6.4×10-11J

৫। 

    

৬।   একটি ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা 70% বলতে কী বোঝায়?

     উত্তর : একটি ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায়, ইঞ্জিনটিতে 100 J শক্তি সরবরাহ করলে আমরা তা থেকে 70 J শক্তি পাই। বাকি 30 J শক্তি অপচয় হয়। 

৭।   কোনো বৈদ্যুতিক উৎপাদন কেন্দ্রের ক্ষমতা 200 MW বলতে কী বোঝায়?

     উত্তর : কোনো বৈদ্যুতিক উৎপাদন কেন্দ্রের ক্ষমতা 200 MW বলতে বোঝায় ঐ বৈদ্যুতিক উৎপাদন কেন্দ্র প্রতি সেকেন্ডে 200 MJ শক্তি সরবরাহ করে।

৮।   1 Unit বিদ্যুৎ বলতে কী বোঝায়?

     উত্তর : 1 কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি যন্ত্র 1 ঘণ্টা ধরে যে বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ বা ব্যয় করে তার পরিমাণকে 1 Unit বিদ্যুৎ  বলে। 1 Unit =1kWh

৯।   বল প্রয়োগ করলে সকল ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : আমরা জানি,    কাজ = বলদ্ধসরণ। সরণ মানে নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন। কিন্তু বল প্রয়োগের ফলে যদি বস্তুর আদি অবস্থান ও শেষ অবস্থানের কোনো পার্থক্য না হয়, তবে কোনো বস্তুর সরণ হয় না। অর্থাৎ বস্তুর কৃতকাজের পরিমাণ শূন্য হয়। সুতরাং বলা যায়, বল প্রয়োগ করলেই সব সময় কাজ সম্পন্ন হয় না। কাজ তখনই হবে যখন বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর সরণ হবে।

১০।  শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতিটি ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অপর এক বা একাধিক রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়।

১১। কোনো বস্তুর বিভব শক্তি 60 J বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : কোনো বস্তুর বিভব শক্তি 60 J বলতে বোঝায়, বস্তুটির অবস্থান বা অবস্থার পরিবর্তন করতে 60 J কাজ করতে হয়েছে এবং বস্তুটিতে 60 J পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত আছে। বস্তুটি তার স্বাভাবিক অবস্থা বা অবস্থানে ফিরে আসতে 60 J পরিমাণ কাজ করবে।

১২। শক্তি ও কাজের পরিমাণ অভিন্ন কেন? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : কোনো বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যই হচ্ছে শক্তি। কাজ করা মানে শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা। এর অর্থ হচ্ছে বস্তুটি সর্বমোট যে পরিমাণ কাজ করতে পারে তাই হচ্ছে শক্তি। যেহেতু কোনো বস্তুর শক্তির পরিমাপ করা হয় তার দ্বারা সম্পন্ন কাজের পরিমাণ থেকে, সুতরাং শক্তি ও কাজের পরিমাণ অভিন্ন।

১৩। কখন কাজ শূন্য ও সর্বোচ্চ হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : কোনো বস্তুর কৃতকাজই হচ্ছে তার শক্তি। যখন বস্তু স্থির থাকে তখন বস্তুর সরণ শূন্য। সুতরাং কাজের পরিমাণ শূন্য হবে। যখন বস্তুটি সর্বোচ্চ বেগে গতিশীল হয় তখন বস্তুটি সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকে এবং এর কাজ সর্বোচ্চ হয়।

১৪। কোনো যন্ত্রের ক্ষমতা 2 HP বলতে কী বোঝো?

     উত্তর : কোনো বস্তুর ক্ষমতা হলো একক সময়ে কাজের পরিমাণ বা শক্তি রূপান্তরের হার। HP অর্থাৎ অশ্বক্ষমতা হলো ক্ষমতার একক, যেখানে 1 অশ্বক্ষমতা সমান 746 ওয়াট। সুতারাং 2 HP =2×746 W

            =1492W

            =1492Js-1

     তাই কোনো যন্ত্রের ক্ষমতা 2 HP বলতে বোঝায় এটি প্রতি সেকেন্ডে 1492J পরিমাণ কাজ করতে সক্ষম।

 

১৫। জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প জ্বালানি অনুসন্ধান জরুরি কেন? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়। এসব জ্বালানির উৎস খুবই সীমিত এবং অনবায়নযোগ্য, যা মানুষের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একসময় ফুরিয়ে যাবে। তাই জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প জ্বালানি অনুসন্ধান জরুরি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা