kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

মানবপাচার

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের নবম অধ্যায়ে ‘মানবপাচার’-এর কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবপাচার

নারী, পুরুষ ও শিশুদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশের ভেতরে বা বাইরে কৌশলে বিক্রি করা এবং দাসের মতো রাখাকে মানবপাচার বলে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে শারীরিক নির্যাতন, জোর করে কাজ করানো, ভিক্ষা করানো, বেআইনি দত্তক প্রদান, শরীরের অঙ্গ অপসারণ এবং বলপূর্বক বিবাহ।

প্রতিবছর বহু মানুষ এই মানবপাচারের শিকার হচ্ছে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য সরকার মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ পাস করে। এই আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী মানবপাচার বলতে বোঝায়, ‘কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে যৌন শোষণ বা নিপীড়ন বা শ্রম শোষণ বা অন্য কোনো শোষণ বা নিপীড়নের উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা ক্রয়, সংগ্রহ বা গ্রহণ, নির্বাসন বা স্থানান্তর, চালান বা আটক করা বা লুকাইয়া রাখা বা আশ্রয় দেওয়া।’

সংগ্রহ বা গ্রহণ, নির্বাসন বা স্থানান্তর, চালান বা আটক করা বা লুকিয়ে রাখা নিচের যেকোনো একটি উপায়ে হতে হবে।

১. কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বল প্রয়োগ করে।

২. কাউকে প্রতারণা করে বা কাউকে আর্থ-সামাজিক বা পরিবেশগত বা অন্য কোনো অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে।

৩. কাউকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা ও লেনদেন দ্বারা তার ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমন ব্যক্তির সম্মতি গ্রহণ করে।

তবে যদি কোনো শিশু পাচারের শিকার হয়, সে ক্ষেত্রে ওপরে বর্ণিত মানবপাচার অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমগুলো অনুসৃত হয়েছে কি না তা বিবেচিত হবে না। সুতরাং কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো শিশুকে তার অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে বা অভিভাবকের বিনা অনুমতিতে স্থানান্তর করলেই মানবপাচার হিসাবে গণ্য হবে।

মানবপাচারের পেছনে দারিদ্র্য, কর্ম সুযোগের অভাব, স্বল্প শিক্ষা, ভঙ্গুর পরিবার, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা, অভিবাসন নীতিমালা ইত্যাদিকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি করার পরও বেকারত্ব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে পাচারকারীচক্র নানা প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের বিদেশে বা নিজের দেশের অভ্যন্তরেই পাচার করছে। আমাদের জনসংখ্যার একাংশ এখনো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। ফলে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করা সহজ হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মতে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে আনুমানিক ১৬.৫ মিলিয়ন মানুষ জোরপূর্বক শ্রমের শিকার (শ্রম শোষণ, প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের যৌন শোষণ এবং রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত জোরপূর্বক শ্রম)। পাশাপাশি ৮.৪ মিলিয়ন মানুষ জোরপূর্বক বিয়ের শিকার। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা