kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অ্যা সা ই ন মে ন্ট - ২

ষষ্ঠ শ্রেণি । বিজ্ঞান

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ের নমুনা অ্যাসাইনমেন্ট-২ তৈরি করেছেন হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু জাফর সৈকত

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ষষ্ঠ শ্রেণি । বিজ্ঞান

তোমরা নিশ্চয়ই অবগত আছ যে ‘কভিড-১৯’ মহামারির কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক সংক্ষিপ্ত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসের আলোকে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই মূল্যায়নের মাধ্যমে তোমাদের অর্জিত শিখনফলের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরবর্তী ক্লাসে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই নির্দেশিত অ্যাসাইনমেন্টটি ভালো মানের করার জন্য নিচের বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখবে।

►বিষয়বস্তুর সঠিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

►লেখায় তথ্য, তত্ত্ব, সূত্র ও ব্যাখ্যা পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে।

►নিজস্বতা ও সৃজনশীলতা বজায় রাখবে।

কাজ : ২

ক) বিদ্যুৎ পরিবাহী ও অপরিবাহী পদার্থের নাম লেখো।

খ) বিদ্যুৎ পরিবহনে তামার তার ব্যবহারের কারণ কী?

গ) উদ্দীপকের প্রথম চিত্রে মোম গলে পড়ার পরবর্তী অবস্থা ব্যাখ্যা করো।

ঘ) চিত্রের পদার্থ দুটির গলনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক কি একই? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক)

১.       বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থের

          নাম :

          তামা, সোনা, অ্যালুমিনিয়াম।

২.      বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থের নাম : অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম।

খ) আমরা জানি, বৈদ্যুতিক তারে সব সময় বিদ্যুৎ সুপরিবাহী পদার্থ ব্যবহার করতে হয়। বিদ্যুৎ পরিবহনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তামার তার ব্যবহার করা হয়।

ধাতুসমূহ বিদ্যুৎ পরিবহন করে। তবে সব ধাতুর বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা এক নয়। কারণ তামা একটি উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু। ধাতুসমূহের মধ্যে তামার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা অন্যান্য ধাতুর তুলনায় বেশি। এটি দামেও সস্তা। তাই বিদ্যুৎ পরিবহনে তামার তার ব্যবহার করা হয়।

গ) উদ্দীপকের প্রথম চিত্রে মোম গলে পড়ার অবস্থাটি তরল অবস্থা। এর পরবর্তী অবস্থা হলো কঠিন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো—

আমরা জানি যে, কোনো পদার্থ সাধারণত তিনটি অবস্থায় বিরাজ করে। মোম স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ। মোমের জ্বলনে পদার্থের তিন অবস্থা দেখা যায়। যেমন—কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়। কঠিন অবস্থায় তাপে যখন মোম গলে তরলে পরিণত হয়; তখন কিছু অংশ বাষ্পেও পরিণত হয়।

এর পরবর্তী ধাপে মোমের কিছু অংশ নিচে জমে কঠিন মোমে পরিণত হয়। অর্থাৎ এ ধাপটিতে পদার্থের কঠিন অবস্থা বিরাজ করে।

সব কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে। কঠিন পদার্থের আকার ও আয়তন সহজে পরিবর্তন করা যায় না। এরা যথেষ্ট দৃঢ় অর্থাৎ এদের দৃঢ়তা আছে। তবে কিছু কিছু কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা কম। যেমন— সরিষার দানা, ভাত, কলা ইত্যাদি।

ঘ) চিত্রের পদার্থ দুটির গলনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক একই। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো—

যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, সেই তাপমাত্রাকে ওই পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। আবার যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ তরল থেকে জমতে শুরু করে কঠিন অবস্থায় পরিণত হয়, তাকে ওই তরলের হিমাঙ্ক বলে। প্রায় সব পদার্থের গলনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক সমান।

চিত্রের প্রথম পদার্থটি হলো মোম। কঠিন মোম ৫৭০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে তরলে পরিণত হয়। তাই মোমের গলনাঙ্ক ৫৭০ সেলসিয়াস। এই একই তাপমাত্রায় মোম জমতে শুরু করে তরল মোম কঠিন মোমে পরিণত হয়। অতএব, মোমের হিমাঙ্কও ৫৭০ সেলসিয়াস। তাই বলতে পারি মোমের গলনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক সমান।

চিত্রের দ্বিতীয় পদার্থটি হলো বরফ। বরফ ০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে পানিতে পরিণত হয়। তাই বরফের গলনাঙ্ক ০০ সেলসিয়াস। এই একই তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়। অতএব, হিমাঙ্কও ০০ সেলসিয়াস। দেখা যাচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক সমান।

আলাদাভাবে পদার্থ দুটির গলনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক যথাক্রমে ৫৭০ সেলসিয়াস ও ০০ সেলসিয়াস। পরিশেষে বলা যেতে পারে, পরিমাণগতভাবেই পদার্থ দুটির গলনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক একই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা