kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বোলতা

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বোলতা

[অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ের ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় বোলতার কথা উল্লেখ আছে]

বোলতা (Wasp) কীটপতঙ্গের Hymenoptera বর্গের কয়েকটি গোত্রের সদস্যদের সাধারণ নাম। এদের উদরের গোড়ায় সংকীর্ণ কোমরের মতো অংশ রয়েছে। স্ত্রী পতঙ্গে বিষগ্রন্থিসহ হুলের উপস্থিতি এদের অনন্য বৈশিষ্ট্য। উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলোতে এদের বেশি দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে প্রায় ১৭ হাজার প্রজাতির বোলতা আছে। বেশির ভাগ বোলতার দেহ সরু ও চারটি ডানা থাকে। এদের দেহের রং সাধারণত উজ্জ্বল নীল, কালো, হলুদ অথবা লালচে। তবে অসংখ্য প্রজাতিতে একাধিক রঙের সমাহার দেখা যায়। অনেক প্রজাতিতে ডোরা দাগ থাকে। বাংলাদেশে বোলতার সব গোত্রের প্রতিনিধি আছে। কীটপতঙ্গের মধ্যে বোলতা যথেষ্ট বুদ্ধিমান। এরা মৌমাছি ও পিঁপড়ার নিকট জ্ঞাতি। এদের কিছু প্রজাতি নিজেদের তৈরি বাসায় দলবদ্ধভাবে বাস করে এবং কাজের দায়-দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়। এ ধরনের বোলতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভীমরুল ও হলুদ বোলতা। উভয় দলই Vespidae গোত্রের। মৌমাছি ও পিঁপড়ার মতো এদের কলোনিতেও থাকে রানি, পুরুষ ও শ্রমিক বোলতা।

কিছু প্রজাতি বোলতা আবার কলোনিবদ্ধ হয়ে বাস করে না। নিজ নিজ বাসা আলাদাভাবে নিজেরাই তৈরি করে। এ ধরনের বোলতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ম্যাসোন, কার্পেন্টার ও ডিগারস (গর্ত খননকারী) বোলতা।

বোলতা বিশ্রামের সময় দেহের উপরিভাগে ডানা ভাঁজ করে রাখে। এদের বাসা বানানোর ধরন ভিন্ন প্রকৃতির। পুরনো নরম কাঠ এবং উদ্ভিদের আঁশ একত্রে মিশিয়ে, চিবিয়ে লালার সংমিশ্রণে কাগজের মতো এক ধরনের পদার্থ তৈরি করে তা দিয়ে বাসা বানায়। কেউ কেউ কাদা দিয়েও বাসা বানায়। ঘরে দরজা-জানালার কার্নিশে, কাঠের আসবাবের গায়ে অথবা তার মধ্যে গর্ত করে এরা বাসা বানায়। অনেক প্রজাতি উঁচু জায়গায় মাটি খুঁড়ে, বিশেষ ধরনের সুড়ঙ্গ বা গর্ত করে সেখানে ডিম পাড়ে। কোনো কোনো বোলতা ফলমূলের ক্ষতি করে। তবে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও শুঁয়াপোকা দমনে এদের জুড়ি নেই। 

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা