kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

একাদশ-দ্বাদশ ► শ্রেণি ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

মো. রবিউল আউয়াল, প্রভাষক, ফিন্যান্স বিভাগ, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৃ জ ন শী ল  প্র শ্ন

নবম অধ্যায়

ইলেকট্রনিক ও আধুনিক ব্যাংকিং

[পূর্ব প্রকাশের পর]

২। মি. সিজান একজন প্রতিষ্ঠিত কম্পিউটার ব্যবসায়ী। প্রতিদিন তাঁকে দ্রুত অনেক ধরনের লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়। সে জন্য তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসেই ব্যাংক হিসাবের বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মুঠোফোনে ব্যাংকিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এর ফলে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনেই ইন্টারনেটের সাহায্যে ব্যক্তিগত গোপনীয় সংখ্যা (PIN) ব্যবহার করে যেকোনো সময় নিজের হিসাবের তথ্য সংগ্রহ ও তহবিল স্থানান্তর করতে পারেন।

ক)        ই-ব্যাংকিং কী?            ১

খ)        স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর বলতে কী বোঝায়?                    ২

গ)        জনাব সিজান প্রথমে কোন ধরনের ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতেন? ব্যাখ্যা করো।              ৩

ঘ)        উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব সিজান মুঠোফোনের মাধ্যমে যে ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।                                        ৪

উত্তর

ক)        ই-ব্যাংকিং হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক পদ্ধতি, যেখানে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সব ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করা হয়।

 খ)       স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর বলতে ইলেকট্রনিকভাবে আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করাকে বোঝায়।

            সনাতন পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যাংকের প্রতিনিধিরা একত্র হয়ে আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করেন, ফলে অনেক সময় লাগে। দ্রুত এসব লেনদেন নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো ইলেকট্রনিকভাবে মেশিনে কাগজপত্রবিহীন খুব সহজে তাদের হিসাবগুলো ডেবিট-ক্রেডিট করে নেয়, যা স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘর নামে পরিচিত।

গ)        উদ্দীপকের মি. সিজান প্রথমে ‘হোম ব্যাংকিং’-এর সেবা গ্রহণ করেছেন।

            ঘরে বসে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আধুনিক যে ব্যবস্থা, তাঁকে ঘরোয়া ব্যাংকিং বা হোম ব্যাংকিং বলে।

            উদ্দীপকে মি. সিজান  কম্পিউটার ব্যবসায়ী হওয়ায় প্রতিদিন তাঁকে ব্যাংকের মাধ্যমে অনেক লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়। তিনি ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসেই নিজের হিসাবে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করতেন। অর্থাৎ তিনি ঘরে বসেই স্বল্প সময়ে এবং কম পরিশ্রমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা হোম ব্যাংকিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মি. সিজান  প্রথমে ‘হোম ব্যাংকিং’-এর মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করেছেন।

ঘ)        উদ্দীপকে মি. সিজান  পরবর্তী সময়ে ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।

            মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, তথ্য সংগ্রহ ও লেনদেন করাকেই মোবাইল ব্যাংকিং বলে।

            উদ্দীপকে মি. সিজান একজন ব্যবসায়ী। ব্যাবসায়িক কারণেই লেনদেন সম্পাদনের জন্য তিনি প্রথমে হোম ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করেন। পরে তিনি তা পরিবর্তন করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করেন।

            মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে PIN-এর সাহায্যে নিজের হিসাবের তথ্য সহজেই বের করা যায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে লেনদেন সম্পাদন করা যায় এবং তহবিল স্থানান্তর করা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন তথ্য গ্রাহক মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে পেতে পারেন। এতে ব্যাংকিং আনুষ্ঠানিকতাও কম পালন করতে হয়। অন্যদিকে হোম ব্যাংকিংয়ে প্রচুর আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। সুতরাং হোম ব্যাংকিং সেবার চেয়ে মোবাইল ব্যাংকিং অধিক উত্তম।

মন্তব্য