kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্যাস্টেল রং

[অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ের ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধে প্যাস্টেল রঙের কথা উল্লেখ আছে]

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্যাস্টেল রং

প্যাস্টেল ছবি আঁকার এক ধরনের রঙের মাধ্যম। শুকনো রঙের গুঁড়াকে আঠালো চটচটে কোনো পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে একে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য কাঠি বা পেনসিলের মতো রূপ দেওয়া হয়। একেই প্যাস্টেল রং বলে। ছোটরা এই রং দিয়ে ছবি আঁকতে বেশি পছন্দ করে। সহজে ব্যবহার করা যায় বলে এই রঙের প্রতি ছোটরা বেশি আকৃষ্ট হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছোটদের ছবি আঁকার হাতেখড়ি হয় এই প্যাস্টেল রঙে।

প্যাস্টেল শব্দটি এসেছে মধ্যযুগীয় লাতিন শব্দ Pastellum থেকে, যার অর্থ নীলগাছের পেস্ট বা আঠা। পরবর্তী সময়ে শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় পেস্ট বা আঠালো চটচটে পদার্থ। রঙের মাধ্যম হিসেবে প্যাস্টেল পরিচিতি পায় পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইতালিতে। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি প্যাস্টেল মাধ্যমের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ফরাসি শিল্পী জাঁ প্যারেলের কাছ থেকে এই মাধ্যম সম্পর্কে জানতে পারেন, যখন শিল্পী প্যারেল ১৪৯৯ সালে মিলান শহরে আসেন। তবে প্যাস্টেল মাধ্যমে প্রথম বিশেষজ্ঞ শিল্পী ছিলেন ফরাসির শিল্পী জোসেফ ভিভিয়েন।

প্রথম দিকে প্যাস্টেল রং সীমাবদ্ধ ছিল কালো, সাদা, লাল এই তিনটিতে। প্যাস্টেলে রঙের বৈচিত্র্য আনেন জোহান আলেকজান্ডার থিয়েল। অষ্টাদশ শতাব্দীকে প্যাস্টেল রঙের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এই শতাব্দীতে পোর্ট্রেট আঁকিয়েদের কাছে প্যাস্টেল প্রিয় মাধ্যম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই সময় ‘গুয়াশ’ পদ্ধতির সঙ্গে প্যাস্টেল মিশিয়ে একটি মিশ্র মাধ্যমে আঁকা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বিংশ শতাব্দীতে প্যাস্টেলে বাবলার আঠার বদলে মিথাইল সেলুলোজ ব্যবহার শুরু হয়।  এই ধরনের প্যাস্টেল তিন রকম—নরম, প্যান ও শক্ত প্যাস্টেল। আবার উপাদানগত বিভিন্নতার ওপর নির্ভর করেও তিন ধরনের প্যাস্টেল রং পাওয়া যায়। যেমন—তেল প্যাস্টেল, মোম প্যাস্টেল ও জলে দ্রাব্য প্যাস্টেল। নাম থেকেই এই প্যাস্টেলগুলোর উপাদানগত পার্থক্য বোঝা যায়। তেল প্যাস্টেলে ধারক হিসেবে তৈলাক্ত পদার্থ ব্যবহারের ফলে এই রঙে ছবি আঁকার পর তাতে তেলরঙের কিছু ধর্ম লক্ষ করা যায়। আবার মোম প্যাস্টেলে প্যারাফিন জাতীয় বস্তুকে ধারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই প্যাস্টেলে চটচটে ভাব বেশি থাকে। আর জলে দ্রাব্য প্যাস্টেলে পলি ইথিলিন গ্লাইকলের মতো কিছু উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলো রঙে একটি বিশেষ ধর্ম যোগ করে। জলের ‘ওয়াশ পদ্ধতি’র নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে এই রঙে আঁকা ছবিতে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব। ফলে ছবির মধ্যে জলরঙের কিছু ধর্মও লক্ষ করা যায়।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য