kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

অষ্টম শ্রেণি

বিজ্ঞান

১৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিজ্ঞান

অ্যাসাইনমেন্ট – ১

তোমরা নিশ্চয়ই অবগত আছ যে ‘কভিড-১৯’ মহামারির কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক সংক্ষিপ্ত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসের আলোকে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই মূল্যায়নের মাধ্যমে তোমাদের অর্জিত শিখনফলের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরবর্তী ক্লাসে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই নির্দেশিত অ্যাসাইনমেন্টটি ভালো মানের করার জন্য নিচের বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখবে।

♦ বিষয়বস্তুর সঠিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

♦ লেখায় তথ্য, তত্ত্ব, সূত্র ও ব্যাখ্যা পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে।

♦ নিজস্বতা ও সৃজনশীলতা বজায় রাখবে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ের নমুনা অ্যাসাইনমেন্ট-১ তৈরি করেছেন হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু জাফর সৈকত

সৃজনশীল প্রশ্ন

    নিধিতাদের বাগানে পেয়ারা গাছে পানি দিতে গিয়ে দেখল, ছোট পেয়ারাগাছটি ছয় মাসে অনেক লম্বা হয়েছে। সে তার মায়ের কাছে জানল, কোষ বিভাজনের কারণে এমন হয়েছে। পরে মা গাছটিতে কিছু জৈব সার প্রয়োগ করলেন। মেয়ে মাকে জিজ্ঞেস করল, ‘মা, তুমি মাটিতে সার দিচ্ছ, কিন্তু তা গাছে পৌঁছাবে কী করে?’ মা জানালেন ‘এক বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে’।

ক) কোষ বিভাজন কাকে বলে?

খ) মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভাজন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী ধাপটি উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে কিভাবে ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) মায়ের উত্তরে বলা বিশেষ প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব উদ্ভিদের জীবনে কতখানি—তা বিশ্লেষণ করো।

 

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক) কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া, যার দ্বারা জীবের বংশবৃদ্ধি ও দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। যে পদ্ধতিতে একটি মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে অপত্যকোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে।

খ) মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। মিয়োসিস কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুইবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোম বিভাজিত হয় মাত্র একবার। ফলে অপত্যকোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। তাই মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভাজন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী ধাপটি উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিচে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে মাইটোসিসের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো :

১. মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।

২. এই বিভাজনের মাধ্যমে বহুকোষী জীবের দেহে সৃষ্ট ক্ষতস্থান পূরণ করে।

৩. এই পদ্ধতিতে এককোষী সুকেন্দ্রিক জীবের বংশবৃদ্ধি তথা সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে।

৪. অপত্য ক্রোমোজোম রক্ষা ও জিনের বৈশিষ্ট্য মাতৃকোষের অনুরূপ হওয়ায় প্রজাতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

৫. মাইটোসিস বিভাজনের ফলে জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের সহনশীলতা  বজায় থাকে।

৬. এই বিভাজনের মাধ্যমে বহুকোষী জীবের জননাঙ্গ সৃষ্টি হয়।

৭. জীবজগতের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি ও আয়তন বজায় রাখতে মাইটোসিস প্রয়োজন। সুতরাং আলোচনা শেষে বলতে পারি, জীব ও জীবজগতে মাইটোসিসের গুরুত্ব অপরিসীম।

ঘ)  উদ্দীপকের বর্ণিত প্রক্রিয়াটি হলো অভিস্রবণ ও ব্যাপন প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রয়াস।

উদ্ভিদ তার মূলরোমের মাধ্যমে মাটির ভেতরে কৈশিক পানি শোষণ করে। প্রস্বেদনের ফলে পাতার কোষে ব্যাপন চাপ সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে পাতার কোষ থেকে পানি এই কোষের দিকে ধাবিত হয়। একইভাবে ওই দ্বিতীয় কোষে আবার ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং তার পাশের বা নিচের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। এভাবে ব্যাপন চাপ ঘাটতি ক্রমেই মূলরোম পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং চোষক সৃষ্টি হয়। এ চোষক শক্তির টানে কৈশিক পানি মূলরোমে ঢুকে যায়। মাটি থেকে মূলরোমের অভিস্রবণ ও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় এই পানি প্রবেশ করে। এভাবে মূলরোম থেকে মাটি মুখের কর্টেক্সে প্রবেশ করে। একইভাবে পানি অন্তঃত্বক ও পরিচক হয়ে কলাগুচ্ছে পৌঁছে যায়। পানি একবার পরিবহন কলায় পৌঁছে গেলে তা জাইলেম কলার মাধ্যমে ওপ ও পাশের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। এভাবে পানি বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা হয়ে উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছে যায়। এ কাজে যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া কাজ করে সেগুলো হলো অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা