kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

ষষ্ঠ শ্রেণি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

১৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

অ্যাসাইনমেন্ট - ১

তোমরা নিশ্চয়ই অবগত আছ যে ‘কভিড-১৯’ মহামারির কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক সংক্ষিপ্ত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসের আলোকে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই মূল্যায়নের মাধ্যমে তোমাদের অর্জিত শিখনফলের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরবর্তী ক্লাসে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই নির্দেশিত অ্যাসাইনমেন্টটি ভালো মানের করার জন্য নিচের বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখবে।

♦ বিষয়বস্তুর সঠিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

♦ লেখায় তথ্য, তত্ত্ব, সূত্র ও ব্যাখ্যা পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে।

♦ নিজস্বতা ও সৃজনশীলতা বজায় রাখবে।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের নমুনা অ্যাসাইনমেন্ট-১ তৈরি করেছেন হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু জাফর সৈকত

প্রশ্ন : বর্তমানে বিশ্বে প্রায় প্রতিটি তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশ ও তার ব্যতিক্রম নয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কোথায় কোথায় ব্যবহার করা যায়, বর্ণনা করো।

 

উত্তর

ভূমিকা : তথ্য হচ্ছে কোনো বিষয়ে জ্ঞান আর প্রযুক্তি হলো জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে সহজ করার কৌশল। আধুনিক জীবনের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আজকের এই নগর সভ্যতা পর্যন্ত এক অভূত পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আর এর কারণ হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। সমাজের যে স্তরে এখনো প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি, সে স্তরে এখনো উন্নতি হয়নি। তাই আমরা বলতে পারি সভ্যতার উন্নয়নের মূলে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। এ বিষয়ে পিটার পিতার থেইল  বলেছেন :

‘Technology  ogy just mean  information  can  technology  ogy.’

ব্যবহারের ক্ষেত্র : তথ্যের চর্চা ও বিশ্লেষণ থেকে জ্ঞানের জন্ম নেয়। তাই সেই দেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। যে যত বেশি তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, সেই দেশ তত বেশি সম্পদশালী। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে।

ক) কৃষিক্ষেত্রে : এখন কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক হারে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে, সেখানে কৃষিবিষয়ক অনেক তথ্য কৃষকরা জানতে পারে। তা ছাড়া মোবাইলের মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যবহার করে কৃষক অনেক উপকৃত হচ্ছে।

খ) চিকিৎসা ক্ষেত্রে : চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক। রোগীর তথ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও টেলিমেডিসিন বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার রোগীদের অনলাইনে রিপোর্ট দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে সময়ের ও সমস্যার সমাধান হচ্ছে।

গ) পরিবেশ ও আবহাওয়া :আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি। ১১ মে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়। বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়লে তখন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।

ঘ) গবেষণা : বিভিন্ন গবেষণায় তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জটিল গবেষণা অনেক সহজে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে করতে পারছি এবং মানবকল্যাণে তা ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারছি।

ঙ) ব্যাংকিং : বর্তমানে প্রায় সব ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের অনলাইনে সেবা প্রদান করছে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে। সেই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এটিএম বুথ থেকে যেকোনো সময় টাকা উত্তোলন করা যায়। ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় না।

চ) শিক্ষা : শিক্ষা ক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, ডিজিটাল ডিকশনারি, বুক, অনলাইন ক্লাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে ঘরে বসে শিক্ষার্থীরা দেশের যেকোনো অঞ্চল থেকে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে; এমনকি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ছ) ব্যবসা ক্ষেত্রে : ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ছোঁয়া ব্যাপক লক্ষণীয়। আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে কয়েক গুণ। এর পেছনে মূল কারণ হলো অনলাইন যোগাযোগ ব্যাবস্থা। তা ছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশে ই-কমার্সের ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। ফলে মানুষ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্যটি সংগ্রহ করতে পারছে।

প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা : সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমরা ঘরে বসে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জানতে পারছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই কেনাকাটা করতে পারছি, খাবারের অর্ডার দিতে পারছি। যানবাহনে প্রযুক্তির ব্যবহার করায় কমে গেছে সময়ের ব্যবধান। প্রযুক্তির ফলে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারছে হাজার হাজার তরুণ। নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় কমে গেছে বেকারত্ব। প্রযুক্তির মাধ্যমে আজ অনেক জটিল রোগের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ঘরে বসে দেশ-বিদেশে সবার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছি। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে বসেই শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

উপসংহার : আমাদের জীবনযাপনে তথ্য ও প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। তবে এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। তাই মানবসভ্যতার যথার্থ উন্নয়ন সম্ভব করতে দরকার প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সব ধরনের অপব্যবহার থেকে তথ্যকে সরিয়ে রাখা এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা