kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সৌরকলঙ্ক

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে সৌরকলঙ্কের কথা উল্লেখ আছে]

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌরকলঙ্ক

সৌরজগতের মূল কেন্দ্র সূর্য। সূর্যকে কেন্দ্র করে তার চারপাশে অবিরাম ঘুরে চলেছে গ্রহগুলো। দিনের আকাশে যে সূর্য আমরা দেখি সেটিই সূর্যের সব নয়। এটি সূর্যের একটি অংশ মাত্র। সূর্যের প্রচণ্ড আলো ও তাপের উৎস এটিই। এই অংশের নাম আলোকমণ্ডল। এর বাইরেও রয়েছে সূর্যদেহের অংশ, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না। আলোকমণ্ডলকে ঘিরে তার চারপাশে রয়েছে আরো কয়েকটি স্তর, যাদের বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়েছে সুদূর গ্রহান্তরে। আলোকমণ্ডলকে ঘিরে থাকা সূর্যের এই অংশের সাধারণ নাম ‘সৌর বায়ুমণ্ডল’। সূর্যের উজ্জ্বল আলোকমণ্ডলের ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় নানা আকৃতির কালো কালো দাগ। এগুলোই ‘সৌরকলঙ্ক’। সৌরকলঙ্ক বা সানস্পটের জন্ম হয় সূর্যের পিঠ থেকে নিচে আরো ৩০ শতাংশ গভীরে। সূর্যের পিঠ থেকে পিঠের নিচে ৩০ শতাংশ গভীরে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হচ্ছে খুব শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ও চৌম্বকক্ষেত্র। সেই চৌম্বকক্ষেত্রগুলো যত শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ততই তা সূর্যের অন্দর ফুঁড়ে উঠে আসছে তার পিঠে। সূর্যের পিঠে তৈরি করছে ছোট, বড়, মাঝারি কালো কালো দাগ। এগুলোই সৌরকলঙ্ক বা সানস্পট। ওই কালো দাগ সূর্যের পিঠে তৈরি হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর হারিয়ে যায়। কখনো তা মিলিয়ে যায় সূর্যের পিঠে। কখনো বা তা সূর্যের পিঠের অন্য একটি অংশে সরে যায়। ১৬১০ সালে ইতালীয় বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি দুরবিনের সাহায্যে সর্বপ্রথম লক্ষ করেন সৌরকলঙ্ক। প্রাচীন চীন দেশেও জানা গিয়েছিল সৌরকলঙ্কের কথা। সে সময় সৌরকলঙ্কের স্বরূপ নিয়ে বিদ্বজ্জনের মধ্যে তর্কযুদ্ধও কম হয়নি। সৌরপৃষ্ঠে কালো দাগগুলোকে গ্রহের তকমাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্যালিলিওই প্রথম সাব্যস্ত করলেন ওগুলো সূর্যদেহেরই অংশ, নতুন কোনো গ্রহ নয়। সৌরকলঙ্ক নানা আকৃতির হয়ে থাকে।

বড় সানস্পটগুলোর ব্যাস হতে পারে ২০ থেকে ৩০ মেগা মিটারের মধ্যে। সেগুলো ‘জায়ান্ট সানস্পট’। আবার তা হতে পারে খুব ছোট এক মেগা মিটার ব্যাসেরও। সানস্পটগুলো আদতে খুব শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র। সৌরকলঙ্কের জন্ম-মৃত্যুর একটি নির্দিষ্ট চক্র বা সোলার সাইকল থাকে, যাকে ওই  সৌরকলঙ্কের জীবনচক্র বলা যায়। সানস্পটের বড়, ছোট, মাঝারি চেহারার ওপরেই নির্ভর করে তাদের জীবনচক্র কতটা লম্বা হবে। খুব ছোট হলে দু-তিন দিনেও হারিয়ে যেতে পারে কোনো সানস্পট। আবার খুব বড় হলে তাকে সূর্যের পিঠে দেখা যেতে পারে টানা ১৪ দিনও। এক-একটা ‘সোলার সাইকল’-এর আয়ু গড়ে ১১ বছর। কোনো সোলার সাইকলের শুরু থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় বা বছর পরে গিয়ে সেই সৌরকলঙ্কের সংখ্যা হয় সর্বাধিক। সৌরকলঙ্কের জীবনচক্রের ওই অবস্থাকে বলা হয় ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’। সেই শিখরে পৌঁছে আবার একটি নির্দিষ্ট সময় বা বছর ধরে তার সংখ্যা কমতে কমতে পৌঁছায় ‘পতনের শেষ বিন্দু’তে। যাকে বলা হয় ‘সোলার মিনিমাম’। কোনো একটি নির্দিষ্ট সাইকল বা চক্র ‘সোলার ম্যাক্সিমামে পৌঁছতে সময় নেয় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ বছর। আবার তা ‘সোলার মিনিমাম’-এ নেমে আসতেও নেয় ওই একই সময়।

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা