kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

একাদশ-দ্বাদশ ► ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

মো. রবিউল আউয়াল, প্রভাষক, ফিন্যান্স বিভাগ, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাদশ-দ্বাদশ ► ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

অষ্টম অধ্যায়

বৈদেশিক বিনিময় ও বৈদেশিক মুদ্রা

[পূর্ব প্রকাশের পর]

২।

ক)        ভাসমান মুদ্রা কী?                   ১

খ)        বৈদেশিক বিনিময় হার নির্ধারণের আধুনিক তত্ত্ব কোনটি এবং কেন?        ২

গ)        উপরোক্ত চিত্রের ঊ বিন্দুতে কী নির্ধারিত হয়? ব্যাখ্যা করো।               ৩

ঘ)        চিত্রে উল্লিখিত পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ কতটুকু যৌক্তিক? তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।                  ৪

উত্তর :

ক) দেশের মুদ্রার মান সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ না করে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের ওপর ছেড়ে দিলে ওই মুদ্রাকে ভাসমান মুদ্রা বলে।

 

খ) বৈদেশিক বিনিময় হার নির্ধারণের আধুনিক তত্ত্বটি হচ্ছে চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব।

দুই দেশের মুদ্রার বিনিময় হার তাদের মুদ্রার পারস্পরিক চাহিদা ও যোগান অনুযায়ী নির্ধারণসংক্রান্ত তত্ত্বই চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব। এ ক্ষেত্রে মনে করা হয়, চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য বিন্দুতে যেমন কোনো কিছুর দাম নির্ধারিত হয়, তেমনি বৈদেশিক বাজারে অর্থের বিনিময়মূল্যও চাহিদা ও যোগান দ্বারা নির্ধারিত হয়। আধুনিক অর্থনীতিবিদরা এ তত্ত্ব সমর্থন করেন বিধায় একে বিনিময় হার নির্ধারণের আধুনিক তত্ত্ব বলা হয়।

 

গ) চিত্রের E বিন্দুতে ভারসাম্য বিনিময় হার নির্ধারিত হয়।

বৈদেশিক বিনিময়ের সময় দেশীয় মুদ্রা দ্বারা বিদেশি মুদ্রার যে পরিমাণ ক্রয় করতে সক্ষম হয়, তাকে বৈদেশিক বিনিময় হার বলে। আর দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও যোগান যে বিন্দুতে মিলিত হয় তা-ই ভারসাম্য বিন্দু।

উদ্দীপকের চিত্রে OX দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রার মোট চাহিদা ও যোগানকে এবং OY দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হারকে বোঝানো হয়েছে। আবার, DD1 রেখা দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি এবং SS1 রেখা দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রার যোগানের হ্রাস-বৃদ্ধি বোঝাচ্ছে। DD1 ও SS1 রেখাদ্বয় পরস্পর E বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। ফলে এই বিন্দুতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার ফলে ভারসাম্য বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ OP পরিমাণ দেশীয় মুদ্রার বিনিময়ে OQ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। অর্থাৎ E বিন্দুতে ভারসাম্য বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে যেখানে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও যোগান পরস্পর সমান।

 

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ যথেষ্ট যৌক্তিক হয়েছে।

দুই দেশের মুদ্রার বিনিময় হার তাদের মুদ্রার পারস্পরিক চাহিদা ও যোগান অনুযায়ী নির্ধারণসংক্রান্ত তত্ত্বকেই চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব বলে। আধুনিক অর্থনীতিবিদরা এরূপ তত্ত্ব সম্পূর্ণ সমর্থন করেন।

উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রে SS1 যোগান রেখা ও DD1 চাহিদা রেখা পরস্পর E বিন্দুতে ছেদ করে, যা চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য বিন্দু। এ ভারসাম্য বিন্দুতে বৈদেশিক বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়।

চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব পদ্ধতিতে চাহিদা ও যোগানের ওপর ভিত্তি করে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়। কিছু অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সুবিধার কারণে এ তত্ত্ব অধিক জনপ্রিয়। কারণ এ ক্ষেত্রে পণ্যের আমদানি-রপ্তানিকে বিবেচনা করা হয়। এ পদ্ধতিতে পরস্পর আলাপ-আলোচনা করার ব্যবস্থা থাকে। ফলে বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণে এ তত্ত্ব বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। সারা বিশ্বেই বিনিময় হার নির্ধারণের বিষয়টি এ তত্ত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই চিত্রে উল্লিখিত চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ সম্পূর্ণ যৌক্তিক হয়েছে বলে আমি মনে করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা