kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

পেঁয়াজ

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে পেঁয়াজের কথা উল্লেখ আছে]

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পেঁয়াজ

পেঁয়াজ অ্যালিয়াম গোত্রের বর্ষজীবী কন্দবিশিষ্ট গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa. পেঁয়াজ মাটির কাছাকাছি মূলের ঠিক ওপরে কন্দ আকারে গঠিত হয়। পাতা লম্বা, নলাকার ও খাওয়ার উপযোগী।

পেঁয়াজের আদি নিবাস পশ্চিম এশিয়ায়। আর্যরা এটি ভারতবর্ষে নিয়ে আসে। পেঁয়াজ সব ধরনের মাটিতেই ফলে। চারা লাগানোর সর্বোত্তম সময় ডিসেম্বর বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ। গাছে নতুন পাতা গজানো শেষ হলেই  পেঁয়াজ পরিপক্ব হয়।

পেঁয়াজ সাধারণত সরাসরি খাওয়া হয় না, বরং পেঁয়াজ কুচি বা ফালি করে কাঁচা অবস্থায় সালাদে বা রান্নায় উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পেঁয়াজ ঝাঁজালো, মিষ্টি, তিতা—বিভিন্ন রকমের হতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রধান দেশ হচ্ছে চীন ও ভারত। ভারতে পেঁয়াজ সব থেকে বেশি আসে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে। মহারাষ্ট্র ছাড়া দক্ষিণ ভারত, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, গুজরাটে পেঁয়াজের ব্যাপক চাষাবাদ হয়। বাংলাদেশে পেঁয়াজের মোট চাষাধীন জমির পরিমাণ প্রায় ৮৬ হাজার ৪২৯ হেক্টর, উৎপন্ন হয় প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৪১০ মে টন। হেক্টরপ্রতি গড়পড়তা উৎপাদন ৪-৫ মে টন।

পেঁয়াজের অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। পেঁয়াজে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-হিস্টেমাইন প্রপার্টিজ নানাভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেওয়ার কাজেও পেঁয়াজ উপকারী। পেঁয়াজ হজমশক্তি বাড়ায়। রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়ে গেলে পেঁয়াজ দারুণ উপকারে লাগে। পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে এক টুকরো পেঁয়াজ কিছু সময়ের জন্য রেখে দিলে জ্বালা ভাব কমে যায়।

পেঁয়াজের রস মাথার খুশকি ও উকুন কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুল পড়া কমায়। শরীরে আঁচিল জাতীয় কোনো কালো দাগ থাকলে হলুদের সঙ্গে পেঁয়াজের রস মিশিয়ে সেখানে নিয়মিত মাখলে ধীরে ধীরে আঁচিলের কালো দাগ কমে আসে। এ ছাড়া বাচ্চাদের কৃমির সমস্যায় পেঁয়াজের রস উপকারী।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য