kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

মণিপুরি

[অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধে মণিপুরিদের কথা উল্লেখ আছে]

পিন্টু রঞ্জন অর্ক   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মণিপুরি বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এদের আদি বাসস্থান। প্রাচীনকালে মণিপুরি সম্প্রদায় ক্যাংলেইপাক, ক্যাংলেইপাং, ক্যাংলেই, মেইত্রাবাক, মেখালি প্রভৃতি নামে পরিচিত ছিল। মণিপুরিদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। মণিপুরিরা বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ, সংগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক, রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে এসে বসতি স্থাপন করে। একসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, ময়মনসিংহের দুর্গাপুর ও ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় মণিপুরিরা বাস করত। তবে সময়ের স্রোতে এসব বসতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে সিলেট, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ করা যায়। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে মণিপুরিদের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। জাতিগত দিক থেকে মণিপুরিরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত। মণিপুরিরা চৈতন্য ধারার সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী। মণিপুরি ভাষা ও সাহিত্য খুবই প্রাচীন। মণিপুরি সাহিত্যের প্রাচীনতম মূল্যবান নিদর্শন হচ্ছে ‘ঔগরি’ (Ougri)। এটি একটি গীতি কবিতা।  প্রাচীন মণিপুরি হরফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি হরফের নামকরণ হয়েছে মানবদেহের এক একটি অঙ্গের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মণিপুরি সাহিত্যের ইতিহাস নতুন মাত্রা পায়। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদ মণিপুরি কবিতার বই ‘বসন্ত কুন্নিপালাজি লেইবাং’ প্রকাশ করে। বাংলাদেশে এটিই এ ধরনের প্রথম গ্রন্থ। মণিপুরি সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী। মণিপুরি সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরি নৃত্য। মণিপুরি ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)। এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়। নানা ধরনের মণিপুরি নৃত্য আছে; এগুলোকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়—ফোক বা লোকনৃত্য ও ক্লাসিক বা ধ্রুপদি নৃত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিপুরি নৃত্যকে বহির্বিশ্বে পরিচিত করান। ১৯১৯ সালে সিলেট ভ্রমণকালে তিনি প্রথম মণিপুরি নৃত্য দেখেন। কবিগুরু এই নৃত্যের গভীরতা, স্নিগ্ধতা ও নৃত্যভঙ্গিতে নিজেকে উৎসর্গ করার বিনয়ী সংকেত দেখে অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন। মণিপুরি নৃত্যকে বলা হয় লাস্য (Lashya) বা কোমল ধরনের নাচ। কোমলতা ও নম্রতা হচ্ছে এই নৃত্যের বিশেষত্ব। এ নৃত্যে দেখা যায় চমৎকার রুচিশীল শারীরিক ভঙ্গিমা, সৌন্দর্য ও নিবেদনের আকুতি।               

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা