kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জ্ঞা ন মূ ল ক প্র শ্ন

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র

বিশ্বজিৎ দাস, সহকারী অধ্যাপক, দিনাজপুর সরকারি কলেজ দিনাজপুর   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র

১। নীতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : নীতি হলো—ভৌত আচরণসমূহের প্রায়োগিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গঠিত সাধারণ বৈজ্ঞানিক ধারণা।

২। তত্ত্ব কী?

উত্তর : প্রকল্প ও প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মের সমন্বয়ে গৃহীত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তকে তত্ত্ব বলে।

৩। একক ভেক্টর কাকে বলে?

উত্তর : যে ভেক্টরের মান এক একক তাকে একক ভেক্টর বলা হয়।

৪। অবস্থান ভেক্টর কাকে বলে?

উত্তর :  কোনো প্রসঙ্গ কাঠামোর মূল বিন্দুর সাপেক্ষে কোনো বিন্দুর বা কণার অবস্থান যে ভেক্টর দ্বারা প্রকাশ করা হয় তাকে অবস্থান ভেক্টর বলে।

৫। আয়ত একক ভেক্টর কাকে বলে?

উত্তর :  ত্রিমাত্রিক আয়ত স্থানাঙ্ক ব্যবস্থায় তিনটি ধনাত্মক অক্ষ X, Y, Z বরাবর যে তিনটি একক ভেক্টর বিবেচনা করা হয় তাদের বলা হয় আয়ত একক ভেক্টর।

৬। শূন্য ভেক্টর কাকে বলে?

উত্তর : যে ভেক্টরের মান শূন্য তাকে শূন্য ভেক্টর বা নাল ভেক্টর বলা হয়।

৭। সীমাবদ্ধ ভেক্টর কাকে বলে?

উত্তর : কোনো স্থানে যে ভেক্টর কোনো কণার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্দেশ করে তাকে সীমাবদ্ধ ভেক্টর বলে।

৮। স্কেলার গুণন কাকে বলে?

উত্তর : দুটি ভেক্টরের যে গুণনে একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায় তাকে স্কেলার গুণন বলে।

৯। ভেক্টর গুণন কাকে বলে?

উত্তর : দুটি ভেক্টরের যে গুণনে একটি ভেক্টর রাশি পাওয়া যায় তাকে ভেক্টর গুণন বলে।

১০। গড় বেগ কাকে বলে?

উত্তর : যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর বা বস্তুকণার একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির বা কণাটির গড় বেগ বলে।

১১। প্রাস কাকে বলে?

উত্তর : ভূমির সঙ্গে আনতভাবে ওপরের দিকে নিক্ষিপ্ত বস্তুকেই প্রাস বলে।

১২। সুষম বৃত্তীয় গতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতিতে ঘূর্ণায়মান কোনো বস্তুকণার গতিকে সুষম বৃত্তীয় গতি বলে।

১৩। কেন্দ্রমুখী ত্বরণ কাকে বলে?

উত্তর : কোনো বস্তুকণা যখন বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকে তখন ব্যাসার্ধ বরাবর কেন্দ্রের দিকে একটি ত্বরণ ক্রিয়া করে, যাকে কেন্দ্রমুখী ত্বরণ বলে।

১৪। জড়তার ভ্রামক কাকে বলে?

উত্তর : কোনো অক্ষের সাপেক্ষে একটি দৃঢ় বস্তুর জড়তার ভ্রামক বলতে ওই অক্ষ থেকে বস্তুর প্রতিটি কণার দূরত্বের বর্গ ও ভরের গুণফলের সমষ্টিকে বোঝায়।

১৫। কৌণিক ভরবেগ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো অক্ষের সাপেক্ষে আবর্তনরত কণার কৌণিক ভরবেগ বলতে রৈখিক ভরবেগ এবং অক্ষ হতে এর গতির অভিমুখের লম্ব দূরত্বের গুণফল বোঝায়।

১৬। টর্ক কাকে বলে?

উত্তর :  অক্ষের সাপেক্ষে কোনো কণার অবস্থান ভেক্টর ও এর ওপর প্রযুক্ত বলের ভেক্টর গুণফলকে দ্বন্দ্বের ভ্রামক বা টর্ক বলে।

১৭। চক্রগতির ব্যাসার্ধ কাকে বলে?

উত্তর : কোনো অক্ষের সাপেক্ষে ঘূর্ণনরত একটি দৃঢ় বস্তুতে যদি এমন একটি বিন্দু বিবেচনা করা হয়, যেখানে বস্তুর সব ভর কেন্দ্রীভূত আছে বলে ধরা যায় এবং ঘূর্ণন অক্ষ সাপেক্ষে ওই বিন্দু বস্তুর জড়তার ভ্রামক সমগ্র দৃঢ় বস্তুর জড়তার ভ্রামকের সমান হয়, তবে ঘূর্ণন অক্ষের সাপেক্ষে ওই বিন্দুর দূরত্বকে চক্রগতির ব্যাসার্ধ বলে।

১৮। ধনাত্মক কাজ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগে যদি বলের দিকে বস্তুর সরণ হয় অথবা বলের দিকে সরণের উপাংশ থাকে তবে ওই বল দ্বারা কৃত কাজের ধনাত্মক কাজ বা বল দ্বারা কাজ বলে।

১৯। ঋণাত্মক কাজ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগে বলের বিপরীত দিকে বস্তুর সরণ হলে অথবা বলের বিপরীত দিকে সরণের উপাংশ থাকলে ওই বল দ্বারা কৃত কাজকে ঋণাত্মক কাজ বা বলের বিরুদ্ধে কাজ বলে।

২০। কাজ-শক্তি উপপাদ্য কী?

উত্তর : কাজ-শক্তি উপপাদ্য হলো বস্তুর গতিশক্তির পরিবর্তনের ওপর কৃত কাজের সমান।

২১। অশ্বক্ষমতা কী?

উত্তর : 550 পাউন্ড ভরের কোনো বস্তুকে অভিকর্ষের বিরুদ্ধে এক সেকেন্ডে এক ফুট ওঠানোর ক্ষমতাকে এক অশ্বক্ষমতা বলে।

২২। কর্মদক্ষতা কাকে বলে?

উত্তর : কোনো যন্ত্র দ্বারা কাজে রূপান্তরিত শক্তি এবং যন্ত্রে প্রদত্ত শক্তির অনুপাতকে ওই যন্ত্রের কর্মদক্ষতা বলে।

২৩। মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলতে কী বোঝো?

উত্তর : একক ভরবিশিষ্ট দুটি বস্তুকণা একক দূরত্বে অবস্থান করে যে বল দ্বারা পরস্পরকে আকর্ষণ করে তাকে মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। একে ‘G’ দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং MKS পদ্ধতিতে এর মান হলো G = 6.673×10-11 Nm2 kg-2.

২৪। ভরকেন্দ্র কাকে বলে?

উত্তর : প্রতিটি বস্তুর মধ্যে এমন একটি বিন্দু আছে, যার মধ্য দিয়ে বল প্রয়োগ করলে বস্তুটি চলন গতি লাভ করবে। এই বিন্দুটিকেই বস্তুর ভরকেন্দ্র বলে।

২৫। অভিকর্ষ কেন্দ্র কাকে বলে?

উত্তর : কোনো বস্তুকে যেকোনো অবস্থানে রাখা হোক না কেন বস্তুর ওজন সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দুগামী হবে। এই বিশেষ বিন্দুটিকে অভিকর্ষ কেন্দ্র বা ভারকেন্দ্র বলে।

২৬। মুক্তিবেগ কাকে বলে?

উত্তর : কোনো বস্তুকে কোনো গ্রহের পৃষ্ঠদেশ থেকে সর্বনিম্ন বেগে সোজা ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে সেটি গ্রহটির মাধ্যাকর্ষণ বলের বাধা কাটিয়ে অসীমে চলে যেতে পারে, আর ফিরে আসে না, সেই বেগকে ওই গ্রহটির মুক্তিবেগ বলে।

২৭। ভূস্থির কৃত্রিম উপগ্রহ কাকে বলে?

উত্তর : কোনো কৃত্রিম উপগ্রহের আবর্তনকাল যদি পৃথিবীর আহ্নিক গতির আবর্তনকালের সমান (অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা) হয় তবে পৃথিবীর একজন পর্যবেক্ষকের কাছে উপগ্রহটি স্থির বলে মনে হবে। এ ধরনের উপগ্রহকে ভূস্থির কৃত্রিম উপগ্রহ বলে।

২৮। স্থিতিস্থাপকতা কাকে বলে?

উত্তর : বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে এর বিকৃতি ঘটে এবং বল প্রত্যাহার করলে বস্তু আগের আকার-আকৃতিতে ফিরে যায়। যে ধর্মের জন্য বস্তু এরূপ আচরণ করে তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে।

২৯। স্থিতিস্থাপক সীমা কাকে বলে?

উত্তর : একক ক্ষেত্রফলে প্রযুক্ত বাহ্যিক বলের যে মান পর্যন্ত কোনো বস্তু পূর্ণ স্থিতিস্থাপক বস্তুর মতো আচরণ করে তাকে স্থিতিস্থাপক সীমা বলে।

৩০। অসহ ভার কাকে বলে?

উত্তর : সর্বাপেক্ষা কম যে ভার কোনো তারের প্রান্তে ঝোলালে তারটির স্থায়ী বিকৃতি ঘটে বা তারটি ছিঁড়ে যায় তাকে অসহ ভার বলে।

৩১। হুকের সূত্রটি লেখ।

উত্তর : স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে কোনো বস্তুর পীড়ন এর বিকৃতির সমানুপাতিক।

৩২। ইয়ংয়ের গুণাঙ্ক বলতে কী বোঝো?

উত্তর : স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর দৈর্ঘ্য পীড়ন ও দৈর্ঘ্য বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। একে ইয়ংয়ের গুণাঙ্ক বলে।

৩৩। পয়সনের অনুপাত কাকে বলে?

উত্তর : স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে পার্শ্ব বিকৃতি ও দৈর্ঘ্য বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। একে পয়সনের অনুপাত বলে।

৩৪। সান্দ্রতা কাকে বলে?

উত্তর : কোনো প্রবাহী যে ধর্মের জন্য এর অভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন স্তরের গতিকে বাধা প্রদান করে তাকে সান্দ্রতা বলে।

৩৫। সংসক্তি বল কী?

উত্তর : কোনো পদার্থের নিজ নিজ অণুগুলোর মধ্যে যে আন্তঃআণবিক বল কাজ করে তাকে সংসক্তি বল বলে।

৩৬। সান্দ্রতা গুণাঙ্ক বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো প্রবাহীর একক ক্ষেত্রফলে একক বেগ অবক্রম বজায় রাখতে যে পরিমাণ সান্দ্র  বল ক্রিয়া করে তাকে সান্দ্রতা গুণাঙ্ক বলে।

৩৭। পৃষ্ঠটান কী?

উত্তর :  কোনো তরলের মুক্ত তলের ওপর স্পর্শ রেখা টানলে এই রেখার উভয় পাশে লম্বভাবে একক দৈর্ঘ্যে যে বল ক্রিয়া করে তাকে পৃষ্ঠটান বা তলটান বলে।

৩৮। আসঞ্জন বল কী?

উত্তর : দুটি ভিন্ন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে যে আন্তঃআণবিক বল কাজ করে তাকে আসঞ্জন বল বলে।

মন্তব্য