kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আর্গন

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে আর্গনের কথা উল্লেখ আছে]

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আর্গন

আর্গন একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন নিষ্ক্রিয় গ্যাসীয় মৌলিক পদার্থ। আর্গন নামটি গ্রিক শব্দ ‘কন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ অলস বা নিষ্ক্রিয়। এটি কোনো রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া দেখায় না বলেই এই নাম পেয়েছে।

১৭৮৫ সালে সর্বপ্রথম হেনরি ক্যাভেনডিশ বায়ুর একটি উপাদান হিসেবে নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গনের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন। ১৮৯৪ সালে লর্ড রেলি ও স্যার উইলিয়াম র‌্যামজি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে পরিষ্কার বাতাসের নমুনা থেকে অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও নাইট্রোজেন সরিয়ে সফলভাবে আর্গনকে পৃথক করেন। ১৯৫৭ সাল অবধি আর্গনের প্রতীক ছিল A, তবে এখন এর প্রতীক Ar. আর্গনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৮ এবং পারমাণবিক ওজন ৩৯.৯৪৮। এর ইলেকট্রন বিন্যাস    ২-৮-৮। আর্গন সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হলেও এটিকে তরল, এমনকি কঠিন অবস্থায়ও রূপান্তরিত করা যায়। এর গলনাংক -১৮৯.৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (-৩০৮.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং স্ফুটনাংক -১৮৫.৮৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (-৩০২.৫৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলই এই গ্যাসের একমাত্র প্রাকৃতিক আধার। অবশ্য কোনো কোনো খনিজ ও উল্কাপিণ্ডে আর্গনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মঙ্গল, বুধ ও টাইটানের (শনির বৃহত্তম চাঁদ) বায়ুমণ্ডলেও আর্গনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

বায়ুমণ্ডলের আয়তনের দিক দিয়ে আর্গনের পরিমাণ ০.৯৩৪%। এর মধ্যে ৯৯.৬% আর্গন হলো আর্গন-৪০ আইসোটোপ। অবশিষ্ট আইসোটোপগুলো হলো আর্গন-৩৬ ও আর্গন-৩৮। প্রাপ্ত আর্গন-৪০ আবার তেজষ্ক্রিয় পটাসিয়াম-৪০-এর তেজষ্ক্রিয়তা বিকিরণের ফলে সৃষ্ট।

সাধারণত কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আর্গন অংশ না নিলেও পানি, ফেনল ও হাইড্রোকুইনোনের সঙ্গে দুর্বল সংযুক্তির যৌগ গঠন করতে পারে। একে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ইলেকট্রিক বাল্বে। নিয়ন বাল্বেও এই গ্যাসের ব্যবহার আছে। নিয়ন বাল্বের নিয়ন লাল আলো দেয়; কিন্তু আর্গন নীল আলো প্রদান করে। এ ছাড়া আর্গন নিয়ন গ্যাস থেকে অপেক্ষাকৃত কম ভোল্টেজে জ্বলে। এ ছাড়া আর্গন ইলেকট্রিক-আর্ক টেকনোলজিতে, গ্যাস লেজারে এবং আর্ক ওয়েল্ডিংয়ে ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রেও আর্গনের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। নীল আর্গন লেজার অস্ত্রোপচারের পর ধমনি পুনঃসংযোগে, টিউমার ধ্বংস করতে এবং দৃষ্টিত্রুটি সংশোধনেও ব্যবহৃত হয়।

আর্গন বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদহীন বলে আবদ্ধ এলাকায় এর ব্যবহারে সাবধানতার প্রয়োজন। এটি বিষাক্ত না হলেও বাতাসের চেয়ে ৩৮% বেশি ঘন। তাই আবদ্ধ এলাকায় শ্বাসরোধক হিসেবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য