kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গলগণ্ড

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের ত্রয়োদশ অধ্যায়ে গলগণ্ড রোগের উল্লেখ আছে]

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গলগণ্ড

গলগণ্ড বা ঘ্যাগ হলো অস্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত থাইরয়েড গ্রন্থি। এই রোগ হলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায়। এতে গলা, ঘাড় বা স্বরযন্ত্র অস্বাভাবিক ফোলা দেখায়। থাইরয়েড গ্রন্থিটি গলার সামনের দিকের নিচের অংশে থাকে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় এটি বাইরে থেকে দেখা যায় না।

থাইরয়েড গ্রন্থির আকার অনেকটা প্রজাপতির মতো। দুই পাশে দুটি ডানার মতো অংশ (লোব) একটি সংক্ষিপ্ত দেহ (ইয়ামাথ) দিয়ে সংযুক্ত থাকে। গ্রন্থিটি যখন আকার-আয়তনে বড় হয় অর্থাৎ গলগণ্ড রোগে আক্রান্ত হয় তখন তা সহজেই দৃষ্টিগোচর হয় এবং খাওয়া বা কথা বলার সময় এর নড়াচড়া বিশেষভাবে বোঝা যায়।

থাইরয়েড গ্রন্থি বিভিন্ন কারণে অস্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে অধিক কাজ করার নির্দেশপ্রাপ্ত হওয়া। আবার খাদ্যে আয়োডিনের অভাব থাকলেও থাইরয়েড গ্রন্থি ক্রমেই বড় হতে থাকে। এ ছাড়া কিছু খাবার বেশি পরিমাণে এবং অনেক দিন ধরে খেতে থাকলেও আয়োডিনের কার্যকারিতা হ্রাস পায় এবং গলগণ্ড হতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে আছে পাতাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, সয়া জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি। কিছু ওষুধও থাইরয়েড গ্রন্থি বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। থাইরয়েড নডুল, ক্যান্সার ও হাইপো থাইরয়েডিজম ও হাইপার থাইরয়েডিজমের জন্যও গলগণ্ড হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহুসংখ্যক গলগণ্ড রোগী আছে। উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে প্রকোপ বেশি। আবার মহিলাদের মাঝে গলগণ্ড রোগের হার পুরুষের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ বাদে অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকা, আলপস পর্বতের পাদদেশ, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের হিমালয় পর্বতের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর গলগণ্ড রোগী দেখা যায়।

গলগণ্ডের লক্ষণগুলো হঠাৎ করে শুরু হয় না, ধীরে ধীরে এই রোগ হতে থাকে। এর প্রধানতম লক্ষণ হলো গলার সামনের দিকের মাঝখানের নিচের অংশ বা দুই পাশ ফুলে যাওয়া। থাইরয়েড গ্রন্থি বেড়ে গেলে খেতে বা ঢোঁক গিলতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। গলগণ্ড খুব বড় হলে শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা হয়। কখনো কখনো মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় ও গর্ভাবস্থায় গলগণ্ড সাময়িকভাবে দেখা দেয়।

থাইরয়েড গ্রন্থিটি যেকোনো কারণে একবার ফুলে গেলে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আর স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে না। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায়ও গলগণ্ড সম্পূর্ণ ভালো হয়।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য