kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সৃ জ ন শী ল

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

মো. রবিউল আউয়াল, প্রভাষক, ফিন্যান্স বিভাগ নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

পঞ্চম অধ্যায়

হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল

জনাব মবিন সাহেব বিক্রেতা মজনুকে একটি সাদা কাগজে লিখে দেন ‘প্রাপক পণ্য পাওয়া সাপেক্ষে তাকে অথবা তার আদেশ অনুসারে অদ্য হতে এক মাস পর ১,০০,০০০ টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন।’ দলিলটি ব্যাংকে উপস্থাপিত হলে ব্যাংক তা বাট্টা করতে চায় না। অপরদিকে জনাব মতিন তাঁর পাওনাদার কর্তৃক স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে ৫০,০০০ টাকার জন্য প্রস্তুতকৃত একটি দলিলে স্বীকৃতির স্থানে স্বাক্ষর করে পাওনাদারকে ফেরত দিলেন। পাওনাদার মেয়াদপূর্তির পূর্বে দলিলটি ব্যাংক থেকে বাট্টা করতে পেরেছেন।

 

ক) হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল কী?                        ১

খ) চেকে অনুমোদনের প্রয়োজন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।        ২

গ) উদ্দীপকে জনাব মবিনের প্রদত্ত দলিলটি কেন বিক্রেতা মজনু বাট্টা করতে পারেননি? ব্যাখ্যা করো।                                   ৩

ঘ) উদ্দীপকে পাওনাদার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দলিলটি কেন বাট্টা করতে সক্ষম হয় বলে তুমি মনে করো? মতামত দাও।           ৪

উত্তর :

ক) যে ঋণের দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে গ্রহীতা এর মালিকানা লাভ করে তাকে হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল বলে।

খ) চেকে অনুমোদন ছাড়া স্বত্ব হস্তান্তর সম্ভব নয় বলে চেকে অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

চেক কারো নিকট হস্তান্তরের উদ্দেশে চেকের উল্টো পিঠে স্বাক্ষর করাই মূলত চেকের অনুমোদন। বাহক চেক শুধু প্রদানের মাধ্যমেই অনুমোদিত হয়। হুকুম চেকের ক্ষেত্রে চেকের উল্টো পিঠে অবশ্যই বৈধ অধিকারীকে স্বাক্ষর দিয়ে অনুমোদন করতে হয়।

 

গ) উদ্দীপকে জনাব মবিনের প্রদত্ত বিনিময় বিল দলিলটি হস্তান্তরের আবশ্যকীয় শর্তাবলি পূরণ না করায় বিক্রেতা মজনু তা বাট্টা করতে পারেননি।

বিনিময় বিল অর্পণের দ্বার হস্তান্তর হয়ে থাকে। তবে এ বিল সাদা কাগজে লেখা গেলেও স্ট্যাম্পযুক্ত হলেই শুধু তা ঋণের দলিল হিসেবে বৈধতা পায়।

উদ্দীপকে জনাব মবিন মজনুর একজন দেনাদার। বিক্রেতা মজনুর কাছ থেকে তিনি বাকিতে পণ্য ক্রয় করেন। এ ক্ষেত্রে জনাব মবিন সাদা কাগজে লিখে দেন ‘প্রাপক পণ্য পাওয়া সাপেক্ষে তাকে অথবা তার আদেশ অনুসারে অদ্য থেকে এক মাস পর এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে।’ অর্থাৎ তিনি উক্ত কাগজকে বিনিময় বিল হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। তবে পাওনাদার দ্বারা দলিলটি ব্যাংকে উপস্থাপনে ব্যাংক তা বাট্টা করেনি। এ ক্ষেত্রে উক্ত দলিলটিতে স্ট্যাম্পযুক্ত না থাকায় তা হস্তান্তরযোগ্য দলিলে পরিণত হয়নি, যা ব্যাংক কর্তৃক বাট্টা না করাই যৌক্তিক।

 

ঘ) উদ্দীপকে পাওনাদার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দলিলটিতে স্ট্যাম্পযুক্ত থাকায় তা বাট্টাকরণ সম্ভব হয়েছে বলে আমি মনে করি।

বিনিময় বিল পাওনাদার কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়। আর তাতে দেনাদার স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাক্ষর প্রদান করে থাকে।

উদ্দীপকে জনাব মতিন ৫০ হাজার টাকার পণ্য বাকিতে ক্রয় করেন। পণ্যের মূল্য প্রদানের নিশ্চয়তা হিসেবে পাওনাদার প্রদত্ত একটি স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে তিনি স্বাক্ষর প্রদান করেন, যা মেয়াদপূর্তির পূর্বে পাওনাদার ব্যাংক থেকে বাট্টা করতে সক্ষম হন। অর্থাৎ পাওনাদার ব্যাংকে বিনিময় বিল বাট্টা করেছেন।

পাওনাদারের বাট্টাকৃত বিলটি প্রকৃত পক্ষ দ্বারা প্রস্তত করা হয়েছে। এ ছাড়া দলিলটিতে সরকারি স্ট্যাম্পযুক্ত থাকায় তা পূর্ণভাবেই হস্তান্তরযোগ্য দলিলের বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করেছে। আর এ শর্তাবলি পূরণেই ব্যাংক তা যৌক্তিকভাবে বাট্টা করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা