kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শীতলক্ষ্যা

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে শীতলক্ষ্যার কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শীতলক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্র নদের একটি উপনদী। এর অন্য নাম লক্ষ্যা নদী। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। পরে পূর্ব দিকে নারায়ণগঞ্জের পাশ দিয়ে গিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হয়। এটি গাজীপুর ও নরসিংদীর পাশ দিয়েও প্রবাহিত হয়েছে। শীতলক্ষ্যা প্রায় ব্রহ্মপুত্রের সমান্তরালে প্রবাহিত হয়। গাজীপুরের টোক এলাকায় ব্রহ্মপুত্র দুইভাগে বিভক্ত হয়েছে। এর একটি বানর নদী নামে প্রবাহিত হয়েছে। এই বানর নদীই পরে লাকপুরে এসে শীতলক্ষ্যা নামে প্রবাহিত হয়।

শীতলক্ষ্যা কলাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীতে পড়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর দৈর্ঘ্য ১১০ কিলোমিটার। প্রস্থ একেক স্থানে একেক রকম। নারায়ণগঞ্জের পাশ দিয়ে এর প্রন্থ ৩০০ মিটার। কিন্তু অন্যান্য জায়গায় ১০০ মিটার। ডেমরার কাছে এর প্রবাহ সবচেয়ে বেশি। ডেমরায় সর্বোচ্চ ২,৬০০ কিউসেক প্রবাহ পরিমাপ করা হয়েছে।

শীতলক্ষ্যা নদীর নাব্যতা সারা বছর সমান। তাই এই নদীতে সারা বছর নৌযান চলাচল করে। বলা হয়ে থাকে, টেমস নদীর পরে শীতলক্ষ্যা নদী হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় শান্ত নদী। এই নদীর দুই পাশে অনেক কল-কারখানা গড়ে উঠেছে। শান্ত নদী বলে এর ভাঙনপ্রবণতা অনেক কম।

আগে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁ। সেই সময় থেকেই এই নদীর নাম পাওয়া যায়। ইংরেজ আমলেও এই নদীর খুব কদর ছিল। এই নদীর পাশেই অনেক বসতি গড়ে ওঠে। অনেক কল-কারখানা স্থাপনের ফলে এলাকাটি জমজমাট হয়ে ওঠে। এই নদী তখন যোগাযোগের জন্য খুব ভালো মাধ্যম ছিল। বাংলাদেশের এককালীন বিখ্যাত মসলিনশিল্প শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। বর্তমানেও নদীর উভয় তীরে অনেক ভারী শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। অধুনালুপ্ত পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল ‘আদমজী জুট মিল’ শীতলক্ষ্যার তীরেই ছিল। এই নদীর তীরে ঘোডাশালের উত্তরে পলাশে তিনটি এবং সিদ্ধিরগঞ্জে একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ বন্দর ও শহর এই নদীর তীরে অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা তার পানির স্বচ্ছতার জন্য একসময় বিখ্যাত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কল-কারখানার বর্জ্য পানি দূষিত করে ফেলেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক শীতলক্ষ্যা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর—কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৫।    

মন্তব্য