kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

মো. রবিউল আউয়াল, প্রভাষক, ফিন্যান্স বিভাগ, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

পঞ্চম অধ্যায়

হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল

সৃজনশীল প্রশ্ন

সামি ৫০,০০০ টাকার মাল বিক্রয় করেছেন। ক্রেতা রাফি এক মাস পর টাকা দিতে চান। সামি বললেন, আপনি স্ট্যাম্পযুক্ত একটি কাগজে এক মাস পর আমাকে টাকা দেবেন এটি লিখে দিন। অন্যদিকে  রাসেলের কাছ থেকে সামি নিজেই ৭০,০০০ টাকার মাল কিনেছেন। এক মাস পর টাকা দিতে চাইলে রাসেল বললেন, আমি স্ট্যাম্পযুক্ত সাদা কাগজে একটি দলিল তৈরি করে দিই, আপনি তাতে ‘স্বীকৃত’ লিখে স্বাক্ষর করবেন। সামি স্বাক্ষর কেন করতে হবে—এ নিয়ে ভাবছেন।  

ক)  পে-অর্ডার কী?            ১

খ) হস্তান্তরযোগ্য দলিলকে প্রামাণ্য দলিল বলা হয় কেন?            ২

গ) রাফি প্রদত্ত দলিলটি কোন ধরনের হস্তান্তরযোগ্য দলিল? ব্যাখ্যা করো।             ৩

ঘ) রাসেলের লিখিত দলিলে সামির স্বাক্ষরের আবশ্যকতা বিশ্লেষণ করো।              ৪

   

উত্তর

ক) যে পত্রের মাধ্যমে ব্যাংকের কোনো শাখা এর প্রাপককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয় তাকে পে-অর্ডার বলে।

খ) সাধারণভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরিত হয়—এমন দলিলকে হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলা হয়।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত আর্থিক লেনদেন সম্পাদিত হয়। এসব আর্থিক লেনদেনের জটিলতা নিরসনে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানকে আইনের আশ্রয় নিতে হয়। আইনের দৃষ্টিতে হস্তান্তরযোগ্য দলিলগুলো প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ জন্যই হস্তান্তরযোগ্য দলিলকে প্রামাণ্য দলিল বলা হয়ে থাকে।

গ) উদ্দীপকে রাফি প্রদত্ত দলিলটি একটি অঙ্গীকারপত্র।

কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট দলিলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানে শর্তহীন অঙ্গীকার প্রদান করে অঙ্গীকারপত্রের মাধ্যমে।

উদ্দীপকে রাফির কাছে সামি ৫০,০০০ টাকার পণ্য বিক্রয় করেছেন। এ ক্ষেত্রে রাফি এক মাস পর অর্থ পরিশোধ করতে চাইলে সামি রাফির কাছে স্ট্যাম্পযুক্ত লিখিত দলিল চান। এটি একটি অঙ্গীকারপত্র। অঙ্গীকারপত্র সর্বদা লিখিত হয়। তা ছাড়া এতে অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি। তাই বৈশিষ্ট্যের বিচারে রাফি প্রদত্ত দলিলটি একটি অঙ্গীকারপত্র।

ঘ) উদ্দীপকে রাসেল কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দলিলটি বিনিময় বিল হওয়ায় দলিলে সামির স্বাক্ষরের আবশ্যকতা রয়েছে।

বিনিময় বিল হলো এমন এক প্রকার হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে অর্থ প্রদানের শর্তহীন নির্দেশ প্রদান করে এবং অপর ব্যক্তি তাতে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উদ্দীপকে সামি রাসেলের কাছ থেকে ৭০,০০০ টাকার মাল ক্রয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এক মাস পর অর্থ দিতে চান। কিন্তু রাসেল সামিকে স্ট্যাম্পযুক্ত সাদা কাগজে স্বীকৃত লিখে স্বাক্ষর দিতে বলেন।

উদ্দীপকে সামি স্বীকৃত লিখে স্বাক্ষর প্রদানের মাধ্যমে এক মাস পর অর্থ পরিশোধে বাধ্য থাকবেন। যদি তিনি এটির অমর্যাদা করেন তবে দলিলটি আদালত কর্তৃক ঋণের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে, যা সামি কর্তৃক স্বাক্ষর প্রদানের মাধ্যমে বৈধতা লাভ করবে।

মন্তব্য