kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

করোনারি এনজিওগ্রাম

[একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে করোনারি এনজিওগ্রামের কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনারি এনজিওগ্রাম

করোনারি রক্তনালি

করোনারি এনজিওগ্রাম হলো হার্টের রোগ নির্ণয়ের একটি পরীক্ষা। করোনারি আর্টারির মধ্যে কতগুলো ব্লক আছে বা ব্লকগুলোর অবস্থান কোথায় বা কত পার্সেন্ট—তা এ পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়। করোনারি এনজিওগ্রাম পরীক্ষায় রোগীকে অজ্ঞান করতে হয় না। এই পরীক্ষায় পায়ের মোটা ধমনি (Femoral artery) বা হাতের ধমনিতে  (Radial artery) ক্যাথেটার (সরু প্লাস্টিক টিউব) ঢোকানোর জন্য চামড়ার নিচে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অবশ করে নেওয়া হয়।

অন্যান্য অঙ্গের মতো হৃৎপিণ্ডেরও অক্সিজেন প্রয়োজন। হৃৎপিণ্ডে নিজস্ব রক্ত চলাচলের জন্য দুটি ধমনি থাকে, যার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হয়ে থাকে। একটি ডান করোনারি ধমনি বা আরসিএ, অন্যটি বাম করোনারি ধমনি। বাম করোনারি ধমনির দুটি বড় শাখা রয়েছে—একটি লেফট ইন্টেরিয়র ডিসেনডিং ধমনি বা এলএডি এবং অন্যটি লেফট সারকামপ্লেক্স ধমনি বা এলসিএক্স।

হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে যে রোগের উৎপত্তি হয় তা ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ। হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন এই রোগের একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির আধিক্য থাকলে এ ধরনের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

এনজিওগ্রাম করার আগে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। কিছু পরীক্ষা করে ফিটনেস দেখতে হয়। এনজিওগ্রাম করার চার থেকে ছয় ঘণ্টা আগে কিছু খাওয়া যায় না।

সাধারণত স্ট্রেস টেস্ট বা ইটিটিতে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ ধরা পড়লে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ইতিহাস থাকলে, হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনের পর স্ট্রেস টেস্ট পজিটিভ হলে, স্ট্রেস টেস্ট বা ইটিটি পজিটিভ রোগীর অন্য কোনো অপারেশন করার আগে, ক্রনিক স্ট্যাবল এনজিনা বা আনস্ট্যাবল এনজিনার রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার পরও বুকে ব্যথা হলে এবং আনস্ট্যাবল এনজিনার সঙ্গে হাইরিস্ক ফিচার থাকলে চিকিৎসক রোগীদের করোনারি এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এনজিওগ্রাম করার সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে; যেমন—বয়স ৭০-এর বেশি, ডায়াবেটিক রোগী, কিডনি ফেইলিওর, হার্ট ফেইলিওর ও রক্তনালির গাত্র শক্ত হলে। আবার অসতর্কতার জন্যও জটিলতা হতে পারে। তাই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এনজিওগ্রাম করা উচিত নয়।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা