kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

কবুতর

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কবুতরের কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল    

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কবুতর

কবুতর বা পায়রা এক ধরনের জনপ্রিয় বুদ্ধিমান গৃহপালিত পাখি। এর মাংস খুব সুস্বাদু। শান্তির পায়রা হিসেবে এর মর্যাদা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। প্রাচীনকালে কবুতরের মাধ্যমে চিঠি আদান-প্রদান করা হতো। গৃহপালিত কবুতরের বৈজ্ঞানিক নাম Columba livia domestica.

পৃথিবীতে প্রায় ২০০ জাতের কবুতর পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যায় প্রায় ৩০ জাতের। বর্তমানে অনেকে পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ, সমৃদ্ধি, শোভাবর্ধনকারী এবং বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে এদের পালন করছে। বিভিন্ন রং, বৈশিষ্ট্য, গুণাগুণ, চোখের রং ও আকৃতির ওপর ভিত্তি করে কবুতরের নামকরণ বা জাত ঠিক করা হয়। এদের সচরাচর জাতগুলো হলো—হোমার বা হোমিং পিজিয়ন, দেশি কবুতর গোলা, ভারতীয় জাতের লাক্ষা, শৌখিন সিরাজী, গিরিবাজ, কাগজি, চিলা, গোররা, চুইনা, রান্ট, প্রিন্স, পটার, ফ্রিল ব্যাক, জ্যাকোবিন, স্ট্রেসার, মডেনা, মুসল দম, নোটন ও কিং। বাংলাদেশে কবুতরের জাতের মধ্যে গিরিবাজ জনপ্রিয়।

হালকা জাতের কবুতরের দৈহিক ওজন ৪০০-৪৫০ গ্রাম এবং ভারী জাতের ৪৫০-৫০০ গ্রাম। কবুতর জোড়ায় জোড়ায় বাস করে। এদের প্রতিদিন দুইবার খাদ্য সরবরাহ করা ভালো। দানাদারজাতীয় খাদ্যের মধ্যে গম, ধান, ভুট্টা, সরগম, ওট ৬০ শতাংশ, ডালজাতীয় খাদ্যের মধ্যে সরিষা, খেসারি, মাষকলাই ৩০-৩৫ শতাংশ এবং ভিটামিন, পানি ও অন্যান্য ৫-১০ শতাংশ সরবরাহ করতে হয়। সাধারণত ডিম পাড়ার ১৭-১৮ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। বাচ্চা ২৫-২৬ দিন বয়স হলে খাবারের উপযুক্ত হয়। একটি স্ত্রী কবুতর ৫-৬ মাস বয়স থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে। এরা সাধারণত ১২ মাসে ১০-১২ জোড়া ডিম দেয় এবং তা দিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করতে পারে। একটি কবুতরছানা প্রায় ৭ দিন পর্যন্ত তার মাতা-পিতার কাছ থেকে প্রকৃতি প্রদত্ত খাবার পেয়ে থাকে। কবুতরের খাদ্যথলিতে এক ধরনের পিজিয়ন মিল্ক উৎপাদিত হয়। একে কবুতরের দুধ বলা হয়। বুনো কবুতর গড়ে পাঁচ বছর বাঁচলেও গৃহপালিত কবুতর গড়ে ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে।        

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা