kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ আছে]

পিন্টু রঞ্জন অর্ক    

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে তাঁর অসীম অবদানের জন্য তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁকে সাধারণত প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ছদ্মনাম হিসেবে কমলাকান্ত নামটি বেছে নিয়েছিলেন। তাকে বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাটও বলা হয়। ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং মা দুর্গাসুন্দরী দেবী।

১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।

বঙ্কিম একসময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে। 

চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫) ও ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) রচনা করেন। ‘দুর্গেশনন্দিনী’কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বলা হয়। ১৮৮৭ সালের মধ্যে তাঁর অন্যান্য গদ্য রচনাসহ মোট ১৪টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ‘বিষবৃক্ষ’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘রাজসিংহ’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বাংলা উপন্যাস ও বাংলা গদ্য সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চরিত্র চিত্রণ, শিল্পসৃজন, বর্ণনা, নান্দনিকতা এবং সর্বোপরি বাংলা গদ্যের উৎকর্ষ সাধনে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর পূর্বসূরিদের থেকে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছিলেন। তাঁর সম্পাদিত ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার মাধ্যমে একটি নতুন লেখকগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে। সনাতন ধর্ম সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যা ‘কৃষ্ণচরিত’, ‘ধর্মতত্ত্ব’ ও ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ নামে ধারাবাহিকভাবে বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শন মাত্র চার বছর (১৮৭২-১৮৭৬) স্থায়ী হয়েছিল। সাহিত্যজীবনের শেষ দিকে বঙ্কিমচন্দ্রকে সৃজনশীল সাহিত্যচর্চার চেয়ে সনাতন ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ উদ্ঘাটনের প্রতিই বেশি মনোযোগী মনে হয়েছিল। ‘আনন্দমঠ’ (১৮৮২) ও ‘দেবী চৌধুরাণী’ (১৮৮২) গ্রন্থে এবং ধর্মশাস্ত্র ও গীতার ভাষ্যে তা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল তিনি মারা যান।     

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা